১২/১২. অধ্যায়ঃ
রুকূ'তে অন্য প্রকার দু'আ
দীর্ঘ রুকুর দোয়া: সুবহানা জিল জাবারুতি ওয়াল মালাকুতি
সুনানে নাসাঈ : ১০৪৯
সুনানে নাসাঈহাদিস নম্বর ১০৪৯
أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ مَنْصُورٍ يَعْنِي النَّسَائِيَّ، قَالَ: حَدَّثَنَا آدَمُ بْنُ أَبِي إِيَاسٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ مُعَاوِيَةَ يَعْنِي ابْنَ صَالِحٍ، عَنْ ابْنِ قَيْسٍ الْكِنْدِيِّ وَهُوَ عَمْرُو بْنُ قَيْسٍ، قَالَ: سَمِعْتُ عَاصِمَ بْنَ حُمَيْدٍ، قَالَ: سَمِعْتُ عَوْفَ بْنَ مَالِكٍ يَقُولُ: قُمْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَيْلَةً، فَلَمَّا رَكَعَ مَكَثَ قَدْرَ سُورَةِ الْبَقَرَةِ يَقُولُ فِي رُكُوعِهِ: «سُبْحَانَ ذِي الْجَبَرُوتِ وَالْمَلَكُوتِ وَالْكِبْرِيَاءِ وَالْعَظَمَةِ»
ইবন মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি এক রাতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে সালাতে দাঁড়ালাম, যখন তিনি রুকু করলেন, সূরা বাকারাহ পড়া পরিমাণ সময় তিনি রুকুতে থেকে বলেছিলেন- "সুবহানা জিল জাবারুতু ওয়াল মালাকুতু ওয়াল কিবরিয়ায়ি ওয়াল আযামাতি” (পাক পবিত্র [সেই মহান আল্লাহ] যিনি বিপুল শক্তির অধিকারী, বিশাল সাম্রাজ্য, বিরাট গৌরব এবং অতুল্য মহত্বের অধিকারী)।
সুনানে নাসাঈ হাদিস ১০৪৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আওফ ইবন মালিক (রাঃ) এক রাতের সালাতের অভিজ্ঞতা বলেছেন। তিনি রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর সঙ্গে দাঁড়িয়েছিলেন এবং দেখেছেন, নবী صلى الله عليه وسلم দীর্ঘ সময় রুকুতে ছিলেন। বর্ণনায় সেই সময়কে সূরা বাকারাহ পড়ার সময়ের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। রুকুতে তিনি বলছিলেন, “সুবহানা জিল জাবারুতি ওয়াল মালাকুতি ওয়াল কিবরিয়ায়ি ওয়াল আযামাতি।” অর্থে আল্লাহর বিপুল শক্তি, বিশাল রাজত্ব, গৌরব ও মহত্ত্বের কথা আসে। হাদিসটির মূল শিক্ষা হলো, রুকু শুধু শরীর ঝোঁকানো নয়; এটি আল্লাহর মহিমা গভীরভাবে স্মরণ করার সময়। তবে এই বর্ণনা একটি নির্দিষ্ট রাতের ঘটনা। তাই এটিকে প্রত্যেক সালাতের বাধ্যতামূলক দৈর্ঘ্য হিসেবে বলা ঠিক নয়। হাদিস যতটুকু বলেছে, ততটুকুই গ্রহণ করা উচিত। অর্থ বুঝে পড়া এই মহিমাবোধকে আরও জীবন্ত করে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নবী صلى الله عليه وسلم এক রাতের সালাতে দীর্ঘ রুকু করেছিলেন।
- রুকুতে আল্লাহর শক্তি, রাজত্ব, গৌরব ও মহত্ত্বের তাসবিহ পড়েছেন।
- একটি বিশেষ ঘটনার দৈর্ঘ্যকে সব সালাতের বাধ্যতামূলক নিয়ম বলা যাবে না।
