৫/১৩. অধ্যায়ঃ
ইমাম যখন কিরাআত পড়েন তখন তোমরা নীরব থাকো।
ইমামের কুরআন পাঠে বিঘ্ন না দেওয়ার শিক্ষা
সুনানে ইবনে মাজাহ : ৮৪৮
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ৮৪৮
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَهِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنِ ابْنِ أُكَيْمَةَ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ صَلَّى النَّبِيُّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ بِأَصْحَابِهِ صَلاَةً نَظُنُّ أَنَّهَا الصُّبْحُ فَقَالَ " هَلْ قَرَأَ مِنْكُمْ مِنْ أَحَدٍ " . قَالَ رَجُلٌ أَنَا . قَالَ " إِنِّي أَقُولُ مَا لِي أُنَازَعُ الْقُرْآنَ " .
আবূ হুরায়রাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) তাঁর সাহাবীদের নিয়ে সালাত পড়লেন, আমাদের মতে তা ছিল ফজরের সালাত। সালাত শেষে তিনি বলেন, তোমাদের কেউ কি কিরাআত পড়েছে? এক ব্যক্তি বলল, আমি পড়েছি। তিনি বলেন, তাই তো (মনে মনে) বলছিলাম আমার কুরআন পাঠে বিঘ্ন ঘটছে কেন!
[৮৪৬] সহীহ। তাখরীজ আলবানী: মিশকাত ৮৫৫, সহীহ, আবী দাউদ ৭৮১।
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ৮৪৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে বর্ণনা এসেছে, নবী (صلى الله عليه وسلم) সাহাবীদের নিয়ে সালাত পড়লেন; বর্ণনাকারীর ধারণা, সেটি ফজরের সালাত ছিল। সালাত শেষে তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তোমাদের কেউ কি কিরাআত পড়েছে? একজন বললেন, আমি পড়েছি। তখন নবী (صلى الله عليه وسلم) বললেন, তাই তো মনে হচ্ছিল, আমার কুরআন পাঠে বিঘ্ন ঘটছে কেন। এখানে শিক্ষা হলো, ইমাম যখন সশব্দে কিরাআত পড়েন, তখন মুসল্লির নিজের পাঠ যেন ইমামের পাঠে বাধা না দেয়। হাদিসটি খুব সরলভাবে জামাআতের শৃঙ্খলা শেখায়। সালাতে ব্যক্তিগত আমল থাকলেও তা ইমামের কিরাআতকে অস্থির করে তুলবে—এমন করা উচিত নয়। কুরআন পাঠের সময় মনোযোগ ও নীরবতার গুরুত্ব এখানে স্পষ্ট।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ইমাম সশব্দে কিরাআত পড়লে তাঁর পাঠে বিঘ্ন ঘটানো উচিত নয়।
- সালাত শেষে নবী (صلى الله عليه وسلم) বিষয়টি সাহাবীদের সামনে পরিষ্কার করেছেন।
- জামাআতের সালাতে ব্যক্তিগত পাঠও শৃঙ্খলার মধ্যে হওয়া দরকার।
- কুরআন পাঠ শুনতে মনোযোগী হওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
