০/১০. অধ্যায়ঃ
তাকদীর (রাঃ) ভাগ্যলিপির বর্ণনা
জান্নাত-জাহান্নাম ও তাকদীরের সূক্ষ্ম শিক্ষা
সুনানে ইবনে মাজাহ : ৮২
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ৮২
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَعَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا طَلْحَةُ بْنُ يَحْيَى بْنِ طَلْحَةَ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ عَمَّتِهِ، عَائِشَةَ بِنْتِ طَلْحَةَ عَنْ عَائِشَةَ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ، قَالَتْ دُعِيَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ إِلَى جِنَازَةِ غُلاَمٍ مِنَ الأَنْصَارِ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ طُوبَى لِهَذَا عُصْفُورٌ مِنْ عَصَافِيرِ الْجَنَّةِ لَمْ يَعْمَلِ السُّوءَ وَلَمْ يُدْرِكْهُ . قَالَ " أَوَ غَيْرُ ذَلِكَ يَا عَائِشَةُ إِنَّ اللَّهَ خَلَقَ لِلْجَنَّةِ أَهْلاً خَلَقَهُمْ لَهَا وَهُمْ فِي أَصْلاَبِ آبَائِهِمْ وَخَلَقَ لِلنَّارِ أَهْلاً خَلَقَهُمْ لَهَا وَهُمْ فِي أَصْلاَبِ آبَائِهِمْ " .
উম্মুল মু’মিনীন আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে আনসার সম্প্রদায়ের এক বালকের জানাজা পড়ার জন্য ডাকা হলো। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! তার জন্য সুসংবাদ, সে জান্নাতের চড়ুই পাখিদের মধ্যে এক চড়ুই, যে পাপ কাজ করেনি এবং তা তাকে স্পর্শও করেনি। তিনি বললেন, হে আয়িশা! এর ব্যতিক্রমও কি হতে পারে? নিশ্চয় আল্লাহ তা’আলা একদল লোককে জান্নাতের জন্য সৃষ্টি করেছেন। তারা তাদের পিতাদের মেরুদণ্ডে অবচেতন থাকতেই তিনি তাদেরকে জান্নাতের জন্য সৃষ্টি করেছেন। তিনি জাহান্নামের জন্যও একদল সৃষ্টি করেছেন। তারা তাদের পিতাদের মেরুদণ্ডে অবচেতন থাকতেই তিনি তাদের জাহান্নামের জন্য সৃষ্টি করেছেন।
[৮০] মুসলিম ২৬৬২/১-২, নাসায়ী ১৯৪৭, আবূ দাঊদ ৪৭১৩, আহমাদ ২৩৬১২, ২৫২১৪। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: সহীহাহ্ ৪/৪৪৮, ফিলাল ২৫১, আহ্কাম ৮১। উক্ত হাদিসের রাবী তালহাহ বিন ইয়াহইয়া বিন তালহাহ বিন উবাইদুল্লাহ সম্পর্কে আবু দাউদ আস-সাজিসতানী বলেন কোন সমস্যা নেই। আবু যুরআহ আর-রাযী বলেন, তিনি সালিহ। ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, তিনি সিকাহ। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন তিনি সিকাহ।
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ৮২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আনসারদের এক বালকের জানাজার ঘটনা এসেছে। আয়িশা (রাঃ) শিশুটির জন্য সুসংবাদমূলক কথা বলেছিলেন, কারণ সে পাপ করেনি এবং পাপ তার কাছে পৌঁছায়নি। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) তাঁর কথাকে থামিয়ে দেন এবং আল্লাহর নির্ধারণের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বলেন, আল্লাহ একদলকে জান্নাতের জন্য সৃষ্টি করেছেন এবং আরেকদলকে জাহান্নামের জন্য সৃষ্টি করেছেন, এমনকি তারা পিতাদের মেরুদণ্ডে থাকতেই। এখানে মূল শিক্ষা হলো, কারও চূড়ান্ত পরিণতি নিয়ে নিজের পক্ষ থেকে নিশ্চিত কথা বলা সতর্কতার বিষয়। তাকদীর, জান্নাত ও জাহান্নাম—এসব বিষয়ে বান্দার ভাষা সংযত হওয়া দরকার। আল্লাহই সব জানেন, আর তাঁর জ্ঞান মানুষের অনুমানের বাইরে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কারও চূড়ান্ত পরিণতি নিয়ে নিশ্চিত দাবি করা থেকে সতর্ক থাকা উচিত।
- জান্নাত ও জাহান্নামের বিষয়ে আল্লাহর জ্ঞান ও নির্ধারণই চূড়ান্ত।
- ভালো ধারণা রাখা যায়, তবে আল্লাহর সিদ্ধান্তের আগে নিজে নিশ্চিত রায় দেওয়া ঠিক নয়।
- তাকদীরের বিষয় মানুষের সীমিত জ্ঞানের বাইরে।
