৩/৩. অধ্যায়ঃ
আযানের সুন্নাত।
মুয়ায্জিনের কাঁধে সালাত ও সাওমের দায়িত্ব
সুনানে ইবনে মাজাহ : ৭১২
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ৭১২
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُصَفَّى الْحِمْصِيُّ، حَدَّثَنَا بَقِيَّةُ، عَنْ مَرْوَانَ بْنِ سَالِمٍ، عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ أَبِي رَوَّادٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ " خَصْلَتَانِ مُعَلَّقَتَانِ فِي أَعْنَاقِ الْمُؤَذِّنِينَ لِلْمُسْلِمِينَ صَلاَتُهُمْ وَصِيَامُهُمْ " .
ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: মুয়ায্জিনের কাঁধে মুসলিমদের দুটি বিষয় অর্পিত: তাদের সালাত ও সাওম।
[৭১০] মওযু। তাখরীজ আলবানী: জামি সগীর ২৮৩১ মাউযূ, মিশকাত ৬৮৮, যঈফা ৯০১ মাউযূ। হাদিসটি ইমাম ইবনু মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন। উক্ত হাদিসের রাবী মুহাম্মাদ ইবনুল মুসাফফা আল হিমসী সম্পর্কে আবু হাতিম আর-রাযী ও ইমাম নাসাঈ বলেন, তিনি সত্যবাদী। ইবনু হিব্বান তাকে সিকাহ বললেও অন্যত্রে বলেন তিনি হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন। ২. মারওয়ান বিন সালিম সম্পর্কে আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তিনি সিকাহ নন। ইমাম বুখারী ও মুসলিম বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় মুনকার। ইমাম নাসাঈ বলেন। তার হাদিস প্রত্যাখ্যানযোগ্য। আস-সাজী বলেন, তিনি মিথ্যুক ও বানিয়ে হাদিস বর্ণনা করেন।
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ৭১২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, মুয়ায্জিনদের কাঁধে মুসলিমদের দুটি বিষয় অর্পিত: তাদের সালাত ও সাওম। বাক্যটি সংক্ষিপ্ত হলেও দায়িত্বের দিক থেকে খুব বড়। আযানের মাধ্যমে মানুষ সালাতের সময় জানতে পারে। আবার সাওমের ক্ষেত্রেও সময় জানা গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে শুরু ও শেষের সময়ে। তাই মুয়ায্জিনের কাজ শুধু সুন্দর কণ্ঠে ডাক দেওয়া নয়; সময়ের বিষয়ে সতর্ক থাকা এবং মানুষের ইবাদতের সঙ্গে যুক্ত একটি দায়িত্ব পালন করা। এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, মুয়ায্জিন হওয়া সম্মানের পাশাপাশি আমানতও। ভুল সময় বা অবহেলা মানুষের ইবাদতে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই মুয়ায্জিনের সতর্কতা, সময়জ্ঞান ও দায়িত্ববোধ খুব দরকার।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মুয়ায্জিনের দায়িত্ব মুসলিমদের সালাতের সময়ের সঙ্গে যুক্ত।
- সাওমের সময় জানাতেও মুয়ায্জিনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
- আযান দেওয়া একটি আমানতপূর্ণ কাজ।
- সময় সম্পর্কে সতর্ক থাকা মুয়ায্জিনের জন্য জরুরি।
