২/৮. অধ্যায়ঃ
ইশার সলাতের ওয়াক্ত
সালাতের অপেক্ষাকারীর মর্যাদা: দুর্বল ও রোগীদের কথা ভাবা
সুনানে ইবনে মাজাহ : ৬৯৩
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ৬৯৩
حَدَّثَنَا عِمْرَانُ بْنُ مُوسَى اللَّيْثِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا دَاوُدُ بْنُ أَبِي هِنْدٍ، عَنْ أَبِي نَضْرَةَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، قَالَ صَلَّى بِنَا رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ صَلاَةَ الْمَغْرِبِ ثُمَّ لَمْ يَخْرُجْ حَتَّى ذَهَبَ شَطْرُ اللَّيْلِ فَخَرَجَ فَصَلَّى بِهِمْ ثُمَّ قَالَ " إِنَّ النَّاسَ قَدْ صَلَّوْا وَنَامُوا وَأَنْتُمْ لَمْ تَزَالُوا فِي صَلاَةٍ مَا انْتَظَرْتُمُ الصَّلاَةَ وَلَوْلاَ الضَّعِيفُ وَالسَّقِيمُ أَحْبَبْتُ أَنْ أُؤَخِّرَ هَذِهِ الصَّلاَةَ إِلَى شَطْرِ اللَّيْلِ " .
আবূ সাইদ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের নিয়ে মাগরিবের সালাত পড়েন, অতঃপর অর্ধরাত অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি বাইরে আসেননি। অতঃপর তিনি বের হন এবং লোকদের নিয়ে সালাত পড়েন, অতঃপর বলেন, লোকেরা সালাত পড়ে ঘুমিয়ে গেছে। আর তোমরা সালাতের জন্যে যখন থেকে অপেক্ষা করছো, তখন থেকে সালাতরত আছো। যদি দুর্বল ও রোগাক্রান্ত লোকেরা না থাকত, তাহলে আমি এ সালাত অর্ধরাত পর্যন্ত বিলম্বিত করতাম।
[৬৯১] নাসায়ী ৫৩৮, আবূ দাঊদ ৪২২। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: সহীহ আবূ দাউদ ৪৪৮।
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ৬৯৩-এর সারসংক্ষেপ
কোর টপিক: সালাতের অপেক্ষা। এই হাদিসে আবু সাঈদ (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) তাঁদের নিয়ে মাগরিবের সালাত পড়েন। তারপর অর্ধরাত অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি বাইরে আসেননি। পরে তিনি বের হয়ে লোকদের নিয়ে সালাত পড়েন এবং বলেন, লোকেরা সালাত পড়ে ঘুমিয়ে গেছে, আর তোমরা সালাতের জন্য অপেক্ষা করছো—এই অপেক্ষার সময় থেকেই তোমরা সালাতরত আছো। তিনি আরও বলেন, দুর্বল ও রোগাক্রান্ত লোকেরা না থাকলে তিনি এই সালাত অর্ধরাত পর্যন্ত বিলম্বিত করতে পছন্দ করতেন। এই বর্ণনায় “সালাতের অপেক্ষার ফজিলত”, “ইশা বিলম্ব” এবং “দুর্বল রোগীর কষ্ট” বিষয়গুলো স্পষ্ট। হাদিসটি আমাদের শেখায়, ইবাদতের আগ্রহ যেমন মূল্যবান, তেমনি দুর্বল মানুষের কষ্টের কথাও ভাবা জরুরি।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সালাতের জন্য অপেক্ষাকে সালাতরত থাকার সাথে যুক্ত করা হয়েছে।
- দুর্বল ও রোগাক্রান্ত লোকদের কষ্ট বিবেচনা করা হয়েছে।
- ইবাদতে আগ্রহের পাশাপাশি মানুষের অবস্থার দিকেও খেয়াল রাখা দরকার।
