০/৭. অধ্যায়ঃ
বিদ‘আত ও ঝগড়াঝাটি হতে বেঁচে থাকা
বিদআতের ভয়াবহতা: নেক আমল রক্ষার জন্য সতর্কতা
সুনানে ইবনে মাজাহ : ৪৯
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ৪৯
حَدَّثَنَا دَاوُدُ بْنُ سُلَيْمَانَ الْعَسْكَرِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيٍّ أَبُو هَاشِمٍ بْنُ أَبِي خِدَاشٍ الْمَوْصِلِيُّ، قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مِحْصَنٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ أَبِي عَبْلَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الدَّيْلَمِيِّ، عَنْ حُذَيْفَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ " لاَ يَقْبَلُ اللَّهُ لِصَاحِبِ بِدْعَةٍ صَوْمًا وَلاَ صَلاَةً وَلاَ صَدَقَةً وَلاَ حَجًّا وَلاَ عُمْرَةً وَلاَ جِهَادًا وَلاَ صَرْفًا وَلاَ عَدْلاً يَخْرُجُ مِنَ الإِسْلاَمِ كَمَا تَخْرُجُ الشَّعَرَةُ مِنَ الْعَجِينِ " .
হুযায়ফাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, আল্লাহ বিদআতী ব্যক্তির সাওম, সালাত, যাকাত বা দান-খয়রাত, হজ্জ, উমরাহ, জিহাদ, ফিদয়া, ন্যায়বিচার ইত্যাদি কিছুই কবুল করবেন না। সে ইসলাম থেকে এমনভাবে খারিজ হয়ে যায় যেভাবে আটা থেকে চুল টেনে বের করা হয়।
[৪৯] মাউযূ। তাখরীজ আলবানী: জামি সগীর ৬৩৬০ মাওযু, যঈফ তারগীব তারহীব ৪০, যঈফা পৃঃ ৬৮৪-হাঃ ১৪৯৩। উক্ত হাদিসের রাবী মুহাম্মাদ বিন মিহসান সম্পর্কে ইয়াহইয়া ইবনু মাঈন তাঁকে মিথ্যুক বলেছেন। ইমাম বুখারী বলেন মুনকারুল হাদিস। আবু হাতীম আর-রাযী তাঁকে মাজহুল ও মিথ্যুক বলেছেন। ইবনু আদী বলেন তিনি একাধিক হাদিস বানোয়াটভাবে বর্ণনা করেছেন। ইবনু হিব্বান বলেন তিনি সিকাহ হাদিসের বিপরীতে হাদিস বানিয়ে বর্ণনা করেন।
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ৪৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বিদআতী ব্যক্তির বিষয়ে কঠিন সতর্কতা দিয়েছেন। বর্ণনায় এসেছে, বিদআতী ব্যক্তির সাওম, সালাত, যাকাত, দান, হজ্জ, উমরাহ, জিহাদ, ফিদয়া ও ন্যায়বিচার কবুল করা হবে না। আরও বলা হয়েছে, সে ইসলাম থেকে এমনভাবে বেরিয়ে যায়, যেমন আটা থেকে চুল বের করা হয়। এই ভাষা অত্যন্ত কঠিন, তাই বিষয়টি হালকা করে দেখা উচিত নয়। হাদিসের মূল শিক্ষা হলো, দ্বীনের নামে নিজের বানানো পথ নয়, বরং কুরআন ও সুন্নাহর পথ অনুসরণ করা। বিদআত বিষয়ে কথা বলার সময় জ্ঞানী আলিমদের কাছ থেকে শেখা দরকার, কারণ ভুল বোঝাবুঝি থেকেও বিভ্রান্তি হতে পারে। তবে হাদিসটি স্পষ্টভাবে বিদআতের ভয়াবহ ক্ষতি থেকে সতর্ক করে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- দ্বীনের নামে নতুন বানানো কাজ থেকে সতর্ক থাকা দরকার।
- নেক আমল রক্ষার জন্য সুন্নাহভিত্তিক পথ অনুসরণ করা জরুরি।
- বিদআতকে হালকা বিষয় মনে করা উচিত নয়।
- বিদআত সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে জ্ঞানী আলিমদের কাছে শেখা দরকার।
