৩৭/৩৮. অধ্যায়ঃ
জাহান্নামের বর্ণনা
মৃত্যুর অবসান: জান্নাত ও জাহান্নামের স্থায়ী পরিণাম
সুনানে ইবনে মাজাহ : ৪৩২৭
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ৪৩২৭
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بِشْرٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ " يُؤْتَى بِالْمَوْتِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَيُوقَفُ عَلَى الصِّرَاطِ فَيُقَالُ يَا أَهْلَ الْجَنَّةِ . فَيَطَّلِعُونَ خَائِفِينَ وَجِلِينَ أَنْ يُخْرَجُوا مِنْ مَكَانِهِمُ الَّذِي هُمْ فِيهِ ثُمَّ يُقَالُ يَا أَهْلَ النَّارِ فَيَطَّلِعُونَ مُسْتَبْشِرِينَ فَرِحِينَ أَنْ يُخْرَجُوا مِنْ مَكَانِهِمُ الَّذِي هُمْ فِيهِ فَيُقَالُ هَلْ تَعْرِفُونَ هَذَا قَالُوا نَعَمْ هَذَا الْمَوْتُ . قَالَ فَيُؤْمَرُ بِهِ فَيُذْبَحُ عَلَى الصِّرَاطِ ثُمَّ يُقَالُ لِلْفَرِيقَيْنِ كِلاَهُمَا خُلُودٌ فِيمَا تَجِدُونَ لاَ مَوْتَ فِيهِ أَبَدًا " .
আবূ হুরায়রাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : “মৃত্যু” নামক সৃষ্টিকে এনে কেয়ামতের দিন পুলসিরাতের উপর স্থাপন করা হবে। অতঃপর ডাকা হবে, হে জান্নাতবাসীগণ! তারা ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে আবির্ভূত হবে, না জানি তাদের বর্তমান অবস্থান থেকে তাদেরকে বহিষ্কার করা হয়। অতঃপর বলা হবে, হে জাহান্নামবাসীরা! তারা আনন্দিত ও উৎফুল্ল হয়ে আত্মপ্রকাশ করবে, হয়তো তাদের বর্তমান অবস্থান থেকে তাদেরকে মুক্তি দেয়া হবে। অতঃপর বলা হবে, তোমরা কি একে চিনো? তারা বলবে, হ্যাঁ, এ হলো “মৃত্যু”। নবী (ﷺ) বলেন : অতঃপর তার সম্পর্কে নির্দেশ দেয়া হলে তাকে পুলসিরাতের উপর যবেহ করা হবে। অতঃপর জান্নাতবাসী ও জাহান্নামবাসীদের বলা হবে, তোমরা উভয় দল স্ব স্ব স্থানে স্থায়ীভাবে অবস্থান করো। এখানে কখনো মৃত্যু নেই।
তাহকীক আলবানীঃ হাসান সহীহ।রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ “মৃত্যু” নামক সৃষ্টিকে এনে কিয়ামতের দিন পুলসিরাতের উপর স্থাপন করা হবে। অতঃপর ডাকা হবে, হে জান্নাতবাসীগণ! তারা ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে আবির্ভূত হবে, না জানি তাদের বর্তমান অবস্থান থেকে তাদেরকে বহিষ্কার করা হয়। অতঃপর বলা হবে, হে জাহান্নামবাসীরা! তারা আনন্দিত ও উৎফুল্ল হয়ে আত্নপ্রকাশ করবে, হয়তো তাদের বর্তমান অবস্থান থেকে তাদেরকে মুক্তি দেয়া হবে। অতঃপর বলা হবে, তোমরা কি একে চিনো? তারা বলবে, হাঁ, এ হলো “মৃত্যু”। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ অতঃপর তার সম্পর্কে নির্দেশ দেয়া হলে তাকে পুলসিরাতের উপর যবেহ করা হবে। অতঃপর জান্নাতবাসী ও জাহান্নামবাসীদের বলা হবে, তোমরা উভয় দল স্ব স্ব স্থানে স্থায়ীভাবে অবস্থান করো। এখানে কখনো মৃত্যু নেই। [৩৬৫৯]তাহকীক আলবানীঃ হাসান সহীহ।
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ৪৩২৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে কেয়ামতের দিনের এক গভীর দৃশ্য এসেছে। মৃত্যুকে একটি সৃষ্টিরূপে এনে পুলসিরাতের উপর স্থাপন করা হবে। জান্নাতবাসীদের ডাকা হলে তারা ভয় পাবে, হয়তো তাদের স্থান থেকে বের করা হবে। জাহান্নামবাসীদের ডাকা হলে তারা আনন্দিত হবে, হয়তো মুক্তি পাবে। এরপর সবাইকে জানানো হবে, এ হলো মৃত্যু। তারপর মৃত্যুকে যবেহ করা হবে এবং দুই দলকেই বলা হবে, এখন যার যেখানে অবস্থান, সেখানে স্থায়ীভাবে থাকবে; আর কোনো মৃত্যু নেই। এই হাদিস আখিরাতের চূড়ান্ত পরিণাম বুঝায়। তাই দুনিয়ার জীবনেই জান্নাতের পথ বেছে নেওয়া এবং জাহান্নাম থেকে বাঁচার চেষ্টা করা দরকার।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আখিরাতের পরিণাম একসময় স্থায়ী হয়ে যাবে।
- জান্নাতবাসীর নিরাপত্তা ও জাহান্নামবাসীর হতাশা এই বর্ণনায় স্পষ্ট।
- দুনিয়ার জীবনে আখিরাতের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি।
- মৃত্যুর পরের জীবনকে হালকা করে দেখা উচিত নয়।
