৩৭/৩৩. অধ্যায়ঃ
পুনরুত্থানের আলোচনা
হাশরের ময়দান: ভয়াবহ অবস্থায় মানুষের সমবেত হওয়া
সুনানে ইবনে মাজাহ : ৪২৭৬
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ৪২৭৬
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو خَالِدٍ الأَحْمَرُ، عَنْ حَاتِمِ بْنِ أَبِي صَغِيرَةَ، عَنِ ابْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ، عَنِ الْقَاسِمِ، قَالَ قَالَتْ عَائِشَةُ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ كَيْفَ يُحْشَرُ النَّاسُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ قَالَ " حُفَاةً عُرَاةً " . قُلْتُ وَالنِّسَاءُ قَالَ " وَالنِّسَاءُ " . قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ فَمَا يُسْتَحْيَى قَالَ " يَا عَائِشَةُ الأَمْرُ أَشَدُّ مِنْ أَنْ يَنْظُرَ بَعْضُهُمْ إِلَى بَعْضٍ " .
আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! কেয়ামতের দিন হাশরের ময়দানে মানবজাতিকে কী অবস্থায় সমবেত করা হবে? তিনি বলেনঃ নগ্নপদে উলঙ্গ বদনে। আমি বললাম, নারীরাও? তিনি বলেনঃ নারীরাও। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! এতে কি আমরা লজ্জিত হবো না? তিনি বলেনঃ হে আয়িশা! তখনকার অবস্থা হবে খুবই ভয়ংকর। কেউ কারো প্রতি দৃষ্টিপাত করার মত অবস্থায় থাকবে না।
তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।[৩৬০৮] সহীহুল বুখারী ৬৫২৭,মুসলিম ২৮৫৯,নাসায়ী ২০৮৩,২০৮৪,আহমাদ ২৩৭৪৪,২৪০৬৭।
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ৪২৭৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আয়িশা (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-কে জিজ্ঞেস করেন, কেয়ামতের দিন মানুষ কী অবস্থায় হাশরের ময়দানে সমবেত হবে। তিনি বলেন, নগ্নপদে ও উলঙ্গ বদনে। আয়িশা (রাঃ) নারীদের বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি জানান, নারীরাও এমন অবস্থায় থাকবে। এরপর লজ্জার কথা জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, তখনকার অবস্থা এত ভয়ংকর হবে যে কেউ কারো দিকে তাকানোর অবস্থায় থাকবে না। এই হাদিস হাশরের দিনের ভয়াবহতা বোঝায়। এখানে মূল শিক্ষা হলো, সেদিন মানুষের মন নিজের পরিণতি নিয়ে ব্যস্ত থাকবে। দুনিয়ার লজ্জা, সাজসজ্জা বা পরিচয়ের চেয়ে সেদিন হিসাবের ভয় বড় হয়ে দাঁড়াবে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- হাশরের দিন মানুষের অবস্থা খুব ভয়ংকর হবে।
- সেদিন প্রত্যেকে নিজের পরিণতি নিয়ে ব্যস্ত থাকবে।
- দুনিয়ার বাহ্যিক পরিচয় আখিরাতের মূল বিষয় নয়।
- হিসাবের দিনের প্রস্তুতি দুনিয়াতেই নিতে হয়।
