৩৭/২৬. অধ্যায়ঃ
নিয়্যাত (অভিপ্রায়)
হাশরে নিয়ত: মানুষ উঠবে উদ্দেশ্য অনুযায়ী
সুনানে ইবনে মাজাহ : ৪২২৯
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ৪২২৯
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ سِنَانٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى، قَالاَ حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، عَنْ شَرِيكٍ، عَنْ لَيْثٍ، عَنْ طَاوُسٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ : " إِنَّمَا يُبْعَثُ النَّاسُ عَلَى نِيَّاتِهِمْ " .
আবূ হুরায়রাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: লোকদের (হাশরের দিন) তাদের নিয়ত (অভিপ্রায়) অনুসারে উঠানো হবে।
তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।[৩৫৬১] হাদীসটি ইমাম ইবনু মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন।আত-তা'লীকুর রাগীব, ১/২৬।
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ৪২২৯-এর সারসংক্ষেপ
এই সংক্ষিপ্ত হাদিসে গভীর শিক্ষা আছে। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বলেন, লোকদের তাদের নিয়ত অনুসারে উঠানো হবে। অর্থাৎ মানুষের বাহ্যিক কাজের পাশাপাশি অন্তরের উদ্দেশ্যও আল্লাহর কাছে গুরুত্বপূর্ণ। দুনিয়ায় মানুষ অনেক সময় বাহ্যিক কাজ দেখে বিচার করে, কিন্তু হাশরের দিনে আল্লাহ নিয়ত জানেন। তাই ‘নিয়ত অনুযায়ী হাশর’ মুমিনকে নিজের অন্তর যাচাই করতে শেখায়। আমরা কেন কাজ করছি—আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য, নাকি মানুষের প্রশংসা, স্বার্থ বা দুনিয়ার লাভের জন্য—এ প্রশ্ন খুব জরুরি। হাদিসটি ভয়ও জাগায়, আবার আশাও দেয়। কারণ সৎ নিয়ত মানুষকে ভালো পথে ধরে রাখে, আর ভুল নিয়ত সংশোধনের সুযোগ দুনিয়াতেই নেওয়া যায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- হাশরের দিনে নিয়ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হবে।
- বাহ্যিক কাজের সঙ্গে অন্তরের উদ্দেশ্যও ঠিক করা দরকার।
- সৎ নিয়ত মানুষকে আল্লাহর দিকে ফিরিয়ে রাখে।
- নিজের কাজের কারণ নিয়ে নিয়মিত ভাবা দরকার।
