৩৭/২৫. অধ্যায়ঃ
সুধারণা ও সুপ্রশংসা
গোপন আমল প্রকাশ হলে: নিয়ত ও সওয়াবের শিক্ষা
সুনানে ইবনে মাজাহ : ৪২২৬
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ৪২২৬
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ، حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ سِنَانٍ أَبُو سِنَانٍ الشَّيْبَانِيُّ، عَنْ حَبِيبِ بْنِ أَبِي ثَابِتٍ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَجُلٌ : يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي أَعْمَلُ الْعَمَلَ فَيُطَّلَعُ عَلَيْهِ فَيُعْجِبُنِي قَالَ : " لَكَ أَجْرَانِ : أَجْرُ السِّرِّ وَأَجْرُ الْعَلاَنِيَةِ " .
আবূ হুরায়রাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
এক ব্যক্তি বললো, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আমি কোন কাজ করি, তা লোকের গোচরীভূত হয়ে যায়, তাতে আমি আনন্দবোধ করি। তিনি বলেনঃ তোমার জন্য দ্বিগুণ সওয়াব। গোপনে করার সওয়াব এবং প্রকাশ হয়ে পড়ার সওয়াব।
তাহকীক আলবানীঃ দুর্বল।[৩৫৫৮] হাদীসটি ইমাম ইবনু মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন।দঈফাহ ৪৩৪৪।
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ৪২২৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে এক ব্যক্তি বলেন, তিনি কোনো কাজ করেন, পরে তা মানুষের জানা হয়ে যায় এবং এতে তিনি আনন্দ পান। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বলেন, তার জন্য দুটি সওয়াব: গোপনে করার সওয়াব এবং প্রকাশ হয়ে পড়ার সওয়াব। এখানে মূল শিক্ষা হলো আমলের নিয়ত ও অবস্থার পার্থক্য বোঝা। ব্যক্তি শুরুতে কাজটি গোপনে করেছে; অর্থাৎ লোক দেখানোর উদ্দেশ্য ছিল না। পরে তা প্রকাশ হয়েছে। এমন অবস্থায় আনন্দ পাওয়া যদি আল্লাহর অনুগ্রহ ও ভালো কাজ প্রকাশের কারণে হয়, তাহলে তা আলাদা শিক্ষা বহন করে। তবে এই হাদিসকে লোকদেখানো আমলের অনুমতি বানানো যাবে না। কারণ হাদিসের প্রশ্নেই বোঝা যায়, কাজটি প্রথমে গোপনে করা হয়েছিল। তাই ‘গোপন আমল’ ও ‘ইখলাস’ এখানে মূল বিষয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- গোপনে ভালো কাজ করা ইখলাসের একটি সুন্দর দিক।
- কাজ প্রকাশ হয়ে গেলে নিয়তকে পরিষ্কার রাখা জরুরি।
- লোক দেখানোর জন্য আমল করা এই হাদিসের উদ্দেশ্য নয়।
- ভালো কাজের খবর ছড়িয়ে পড়লে অহংকার না করে আল্লাহর কৃতজ্ঞতা দরকার।
