৩৭/২৪. অধ্যায়ঃ
আল্লাহভীতি ও ধার্মিকতা।
বিশুদ্ধ অন্তর ও সত্যভাষী মানুষ: উত্তম চরিত্রের পরিচয়
সুনানে ইবনে মাজাহ : ৪২১৬
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ৪২১৬
حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَمْزَةَ، حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ وَاقِدٍ، حَدَّثَنَا مُغِيثُ بْنُ سُمَىٍّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، قَالَ قِيلَ لِرَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ أَىُّ النَّاسِ أَفْضَلُ قَالَ " كُلُّ مَخْمُومِ الْقَلْبِ صَدُوقِ اللِّسَانِ " . قَالُوا صَدُوقُ اللِّسَانِ نَعْرِفُهُ فَمَا مَخْمُومُ الْقَلْبِ قَالَ " هُوَ التَّقِيُّ النَّقِيُّ لاَ إِثْمَ فِيهِ وَلاَ بَغْىَ وَلاَ غِلَّ وَلاَ حَسَدَ " .
আবদুল্লাহ বিন আমর (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলা হলো, কোন ব্যক্তি সর্বোত্তম? তিনি বলেনঃ প্রত্যেক বিশুদ্ধ অন্তরের অধিকারী সত্যভাষী ব্যক্তি। তারা বলেন, সত্যভাষীকে তো আমরা চিনি, কিন্তু বিশুদ্ধ অন্তরের ব্যক্তি কে? তিনি বলেন, সে হলো পূত-পবিত্র নিষ্কলুষ চরিত্রের মানুষ যার কোন গুনাহ নাই, নাই কোন দুশমনি, হিংসা-বিদ্বেষ, আত্মঅহমিকা ও কপটতা।
তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।[৩৫৪৮] হাদিসটি ইমাম ইবনু মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন। সহিহা ৯৪৮।
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ৪২১৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-কে জিজ্ঞেস করা হয়, কোন ব্যক্তি সর্বোত্তম? তিনি বলেন, প্রত্যেক বিশুদ্ধ অন্তরের অধিকারী সত্যভাষী ব্যক্তি। সাহাবীরা সত্যভাষীকে চিনতেন, কিন্তু বিশুদ্ধ অন্তরের ব্যাখ্যা জানতে চাইলে তিনি বলেন—সে হলো পবিত্র ও নিষ্কলুষ চরিত্রের মানুষ, যার মধ্যে গুনাহ, দুশমনি, হিংসা-বিদ্বেষ, আত্মঅহমিকা ও কপটতা নেই। তাই এই হাদিসের মূল বিষয় হলো বিশুদ্ধ অন্তর। শুধু মুখে সত্য বলা নয়, অন্তরকেও পরিষ্কার রাখা জরুরি। মানুষের প্রতি বিদ্বেষ, হিংসা বা কপটতা লুকিয়ে থাকলে চরিত্রের সৌন্দর্য কমে যায়। উত্তম মানুষ হতে হলে ভাষা ও অন্তর—দুটিই ঠিক করতে হয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সত্যভাষী হওয়া উত্তম মানুষের বড় গুণ।
- বিশুদ্ধ অন্তর মানে হিংসা, বিদ্বেষ, অহংকার ও কপটতা থেকে দূরে থাকা।
- ভালো চরিত্র শুধু বাহ্যিক নয়; অন্তরের অবস্থাও গুরুত্বপূর্ণ।
