৩৭/২২. অধ্যায়ঃ
হিংসা-বিদ্বেষ ও পরশ্রীকাতরতা
কুরআন ও দান: যে দুই ক্ষেত্রে সৎ ঈর্ষা জায়েয
সুনানে ইবনে মাজাহ : ৪২০৯
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ৪২০৯
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَكِيمٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يَزِيدَ، قَالاَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَالِمٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ " لاَ حَسَدَ إِلاَّ فِي اثْنَتَيْنِ رَجُلٌ آتَاهُ اللَّهُ الْقُرْآنَ فَهُوَ يَقُومُ بِهِ آنَاءَ اللَّيْلِ وَآنَاءَ النَّهَارِ وَرَجُلٌ آتَاهُ اللَّهُ مَالاً فَهُوَ يُنْفِقُهُ آنَاءَ اللَّيْلِ وَآنَاءَ النَّهَارِ " .
ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: দুটি ক্ষেত্র ব্যতীত ঈর্ষা করা জায়েয নেই। (১) যাকে আল্লাহ কুরআন দান করেছেন এবং সে দিন-রাত সর্বক্ষণ তার উপর কায়েম থাকে। (২) যাকে আল্লাহ ধন-সম্পদ দান করেছেন এবং সে তা দিন-রাত সর্বক্ষণ (আল্লাহর পথে) ব্যয় করে।
তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।[৩৫৪১] সহীহুল বুখারী ৭৫২৯, মুসলিম ৮১৫। আহমাদ ৪৫৩৬, ৪৯০৫, ৫৫৮৬, ৬৩৬৭। রাওদুন নাদীর ৮৯৭।
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ৪২০৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বলেছেন, দুটি ক্ষেত্র ছাড়া ঈর্ষা করা জায়েয নয়। প্রথম, যাকে আল্লাহ কুরআন দিয়েছেন এবং সে দিন-রাত তার উপর কায়েম থাকে। দ্বিতীয়, যাকে আল্লাহ ধন-সম্পদ দিয়েছেন এবং সে তা দিন-রাত আল্লাহর পথে ব্যয় করে। এখানে ঈর্ষা মানে অন্যের নেয়ামত চলে যাক—এমন চাওয়া নয়; বরং একই ধরনের ভালো কাজে আগ্রহী হওয়া। তাই মূল শিক্ষা হলো কুরআন ও দানের সৎ আকাঙ্ক্ষা। কুরআন শুধু জানার বিষয় নয়, তার উপর কায়েম থাকা দরকার। সম্পদও শুধু জমিয়ে রাখার বিষয় নয়; ভালো পথে খরচ করলে তা কল্যাণের মাধ্যম হয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কুরআন পাওয়া বড় নেয়ামত, তবে তার উপর কায়েম থাকাও জরুরি।
- সম্পদ আল্লাহর পথে ব্যয় করলে তা কল্যাণের পথে ব্যবহার হয়।
- অন্যের ভালো দেখে নিজের মধ্যে ভালো কাজের আগ্রহ আনা প্রশংসনীয়।
