৩৭/১১. অধ্যায়ঃ
মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর পরিবারবর্গের বিছানা
আখেরাতের অগ্রাধিকার: চাটাইয়ের দাগে রাসূল صلى الله عليه وسلم-এর শিক্ষা
সুনানে ইবনে মাজাহ : ৪১৫৩
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ৪১৫৩
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا عِكْرِمَةُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنِي سِمَاكٌ الْحَنَفِيُّ أَبُو زُمَيْلٍ، حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْعَبَّاسِ، حَدَّثَنِي عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ، قَالَ دَخَلْتُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ وَهُوَ عَلَى حَصِيرٍ قَالَ فَجَلَسْتُ فَإِذَا عَلَيْهِ إِزَارٌ وَلَيْسَ عَلَيْهِ غَيْرُهُ وَإِذَا الْحَصِيرُ قَدْ أَثَّرَ فِي جَنْبِهِ وَإِذَا أَنَا بِقَبْضَةٍ مِنْ شَعِيرٍ نَحْوَ الصَّاعِ وَقَرَظٍ فِي نَاحِيةٍ فِي الْغُرْفَةِ وَإِذَا إِهَابٌ مُعَلَّقٌ فَابْتَدَرَتْ عَيْنَاىَ فَقَالَ " مَا يُبْكِيكَ يَا ابْنَ الْخَطَّابِ " . فَقُلْتُ يَا نَبِيَّ اللَّهِ وَمَا لِيَ لاَ أَبْكِي وَهَذَا الْحَصِيرُ قَدْ أَثَّرَ فِي جَنْبِكَ وَهَذِهِ خِزَانَتُكَ لاَ أَرَى فِيهَا إِلاَّ مَا أَرَى وَذَلِكَ كِسْرَى وَقَيْصَرُ فِي الثِّمَارِ وَالأَنْهَارِ وَأَنْتَ نَبِيُّ اللَّهِ وَصَفْوَتُهُ وَهَذِهِ خِزَانَتُكَ . قَالَ " يَا ابْنَ الْخَطَّابِ أَلاَ تَرْضَى أَنْ تَكُونَ لَنَا الآخِرَةُ وَلَهُمُ الدُّنْيَا " . قُلْتُ بَلَى .
উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট প্রবেশ করলাম। তিনি তখন খেজুর পাতার চাটাইয়ের উপর শোয়া ছিলেন। আমি বসে পড়লাম। তাঁর পরিধানে ছিল একটি লুঙ্গি। এছাড়া আর কোন বস্ত্র তাঁর পরিধানে ছিল না। তাঁর পাঁজরে চাটাইয়ের দাগ বসে গিয়েছিল।আমি দেখলাম যে তাঁর ঘরের এক কোণে ছিল প্রায় এক সা যব, বাবলা গাছের কিছু পাতা এবং ঝুলন্ত একটি পানির মশক। এ অবস্থা দেখে আমার দুই চোখে অশ্রু প্রবাহিত হল। তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ হে খাত্তাবের পুত্র! তুমি কাঁদছ কেন?আমি বললাম, হে আল্লাহর নবী! আমি কেন কাঁদবনা! এই চাটাই আপনার পাঁজরে দাগ কেটে দিয়েছে, আর এই হচ্ছে আপনার ধনভাণ্ডার, এতে যা আছে তা তো দেখতেই পাচ্ছি। এই কিসরা (পারস্যরাজ) ও কায়সার (রোম সম্রাট) বিরাট বিরাট উদ্যান ও ঝর্ণা সমৃদ্ধ অট্টালিকায় বিলাস-ব্যসনে জীবন-যাপন করছে। আর আপনি হলেন আল্লাহর নবী এবং তাঁর মনোনীত প্রিয় বান্দা। আর আপনার ধনভাণ্ডারের অবস্থা এই।তিনি বলেনঃ হে খাত্তাবের পুত্র! তুমি কি এতে সন্তুষ্ট নও যে, আমাদের জন্য রয়েছে আখেরাতের স্থায়ী সুখ-শান্তি এবং ওদের জন্য রয়েছে পার্থিব ভোগবিলাস? আমি বললাম, হ্যাঁ।
তাহকীক আলবানীঃ হাসান।[৩৪৮৫] হাদিসটি ইমাম ইবনু মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন। আত তা’লীকুর রাগীব ৪/১১৪।
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ৪১৫৩-এর সারসংক্ষেপ
এই দীর্ঘ বর্ণনায় উমর (রাঃ) রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর ঘরে প্রবেশ করে এক গভীর দৃশ্য দেখেন। নবী صلى الله عليه وسلم খেজুর পাতার চাটাইয়ে শুয়ে ছিলেন, পাঁজরে চাটাইয়ের দাগ বসে গিয়েছিল। ঘরে ছিল সামান্য যব, কিছু পাতা এবং ঝুলন্ত পানির মশক। এ অবস্থা দেখে উমর (রাঃ) কেঁদে ফেলেন এবং কিসরা-কায়সারের ভোগ-বিলাসের সঙ্গে নবী صلى الله عليه وسلم-এর সরল জীবনের কথা বলেন। রাসূল صلى الله عليه وسلم তাঁকে স্মরণ করালেন—আমাদের জন্য আখেরাত, আর তাদের জন্য দুনিয়া। এই হাদিস দুনিয়ার প্রতি অনাসক্তি ও আখেরাতের অগ্রাধিকারকে খুব পরিষ্কার করে। বাহ্যিক কষ্ট থাকলেও নবী صلى الله عليه وسلم-এর দৃষ্টি ছিল স্থায়ী সুখের দিকে। তাই মুমিনের জন্য দুনিয়া নয়, আখেরাতই বড় লক্ষ্য হওয়া উচিত।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- দুনিয়ার ভোগ-বিলাস নবী صلى الله عليه وسلم-এর জীবনের প্রধান লক্ষ্য ছিল না।
- আখেরাতের স্থায়ী সুখ মুমিনের বড় আশা।
- সামান্য ঘরোয়া সামগ্রী মর্যাদা কমায় না।
- অন্যের বাহ্যিক বিলাস দেখে নিজের দ্বীনি অবস্থাকে ছোট ভাবা উচিত নয়।
