৩৭/২. অধ্যায়ঃ
পার্থিব চিন্তা
আখিরাতের নিয়ত: দুনিয়ার চিন্তা থেকে অন্তরের মুক্তি
সুনানে ইবনে মাজাহ : ৪১০৫
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ৪১০৫
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عُمَرَ بْنِ سُلَيْمَانَ، قَالَ سَمِعْتُ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ أَبَانَ بْنِ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ خَرَجَ زَيْدُ بْنُ ثَابِتٍ مِنْ عِنْدِ مَرْوَانَ بِنِصْفِ النَّهَارِ فَقُلْتُ مَا بَعَثَ إِلَيْهِ هَذِهِ السَّاعَةَ إِلاَّ لِشَىْءٍ سَأَلَ عَنْهُ . فَسَأَلْتُهُ فَقَالَ سَأَلَنَا عَنْ أَشْيَاءَ سَمِعْنَاهَا مِنْ رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَقُولُ " مَنْ كَانَتِ الدُّنْيَا هَمَّهُ فَرَّقَ اللَّهُ عَلَيْهِ أَمْرَهُ وَجَعَلَ فَقْرَهُ بَيْنَ عَيْنَيْهِ وَلَمْ يَأْتِهِ مِنَ الدُّنْيَا إِلاَّ مَا كُتِبَ لَهُ وَمَنْ كَانَتِ الآخِرَةُ نِيَّتَهُ جَمَعَ اللَّهُ لَهُ أَمْرَهُ وَجَعَلَ غِنَاهُ فِي قَلْبِهِ وَأَتَتْهُ الدُّنْيَا وَهِيَ رَاغِمَةٌ " .
আবান বিন উসমান, হতে বর্ণিতঃ
জায়দ বিন সাবিত (রাঃ) দুপুরের সময় মারওয়ানের নিকট থেকে বের হয়ে এলে আমি ভাবলাম, নিশ্চয় কোন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জানার জন্য এ সময় তিনি তাকে ডেকে পাঠিয়েছেন। আমি তাকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট আমাদের শ্রুত কতক হাদিস শোনার জন্য মারওয়ান আমাদের ডেকেছেন। আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছিঃ পার্থিব চিন্তা যাকে মোহগ্রস্ত করবে, আল্লাহ তার কাজকর্মে অস্থিরতা সৃষ্টি করবেন, দরিদ্রতা তার নিত্যসঙ্গী হবে এবং পার্থিব স্বার্থ ততটুকুই লাভ করতে পারবে, যতটুকু তার তাকদীরে লিপিবদ্ধ আছে। আর যার উদ্দেশ্য হবে আখিরাত, আল্লাহ তার সবকিছু সুষ্ঠু করে দিবেন, তার অন্তরকে ঐশ্বর্যমণ্ডিত করবেন এবং দুনিয়া স্বয়ং তার সামনে এসে হাজির হবে।
তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।[৩৪৩৭] হাদীসটি ইমাম ইবনু মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন। সহীহাহ ৯৫০।
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ৪১০৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে দুনিয়াকে মূল চিন্তা বানানো এবং আখিরাতকে উদ্দেশ্য বানানোর ফল আলাদা করে বলা হয়েছে। যে ব্যক্তি পার্থিব চিন্তায় মোহগ্রস্ত হয়, তার কাজকর্মে অস্থিরতা তৈরি হয়, দরিদ্রতার ভাব তার সামনে থাকে, আর দুনিয়া থেকে সে শুধু ততটুকুই পায় যতটুকু তার জন্য লেখা আছে। অন্যদিকে যার উদ্দেশ্য আখিরাত, আল্লাহ তার কাজ গুছিয়ে দেন, তার অন্তরে সচ্ছলতার অনুভব দেন, এবং দুনিয়া তার কাছে আসে। এখানে মূল শিক্ষা হলো, জীবন চালাতে দুনিয়ার কাজ করতে হবে, কিন্তু অন্তরের আসল লক্ষ্য আখিরাত হওয়া দরকার। দুনিয়াকে বড় লক্ষ্য বানালে মন ছড়িয়ে যায়; আখিরাতকে লক্ষ্য বানালে মন একদিকে থাকে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- দুনিয়াকে প্রধান চিন্তা বানালে অন্তরে অস্থিরতা বাড়তে পারে।
- মানুষ দুনিয়া থেকে তাকদীরে লেখা অংশই পায়।
- আখিরাতকে উদ্দেশ্য বানালে অন্তরে সচ্ছলতার অনুভব আসে।
- জীবনের লক্ষ্য ঠিক রাখা মুমিনের জন্য বড় শিক্ষা।
