৩৬/৩৪. অধ্যায়ঃ
ইমাম মাহদী (আঃ) এর আবির্ভাব
মাহদীর যুগে প্রাচুর্য ও দানের হাদিস
সুনানে ইবনে মাজাহ : ৪০৮৩
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ৪০৮৩
حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ الْجَهْضَمِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مَرْوَانَ الْعُقَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا عُمَارَةُ بْنُ أَبِي حَفْصَةَ، عَنْ زَيْدٍ الْعَمِّيِّ، عَنْ أَبِي صِدِّيقٍ النَّاجِيِّ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، أَنَّ النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ " يَكُونُ فِي أُمَّتِي الْمَهْدِيُّ إِنْ قُصِرَ فَسَبْعٌ وَإِلاَّ فَتِسْعٌ فَتَنْعَمُ فِيهِ أُمَّتِي نَعْمَةً لَمْ يَنْعَمُوا مِثْلَهَا قَطُّ تُؤْتَى أُكُلَهَا وَلاَ تَدَّخِرُ مِنْهُمْ شَيْئًا وَالْمَالُ يَوْمَئِذٍ كُدُوسٌ فَيَقُومُ الرَّجُلُ فَيَقُولُ يَا مَهْدِيُّ أَعْطِنِي فَيَقُولُ خُذْ " .
আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেন, মাহদী আমার উম্মত থেকেই আবির্ভূত হবে। তিনি কমপক্ষে সাত বছর, অন্যথায় নয় বছর দুনিয়াতে অবস্থান করবেন। তাঁর যুগে আমার উম্মত অযাচিত প্রাচুর্যের অধিকারী হবে, ইতোপূর্বে কখনো তদ্রুপ হয়নি। পৃথিবী তার সর্ব প্রকার খাদ্যসম্ভার পর্যাপ্ত উৎপন্ন করবে এবং কিছুই সংরক্ষণ করে রাখবে না। সম্পদের স্তূপ গড়ে উঠবে। লোকে দাঁড়িয়ে বলবে, হে মাহদী, আমাকে দান করুন। তিনি বলবেন, তোমার যত প্রয়োজন নিয়ে যাও।
[৩৪১৫] [তিরমিযী ২২৩২, আবূ দাউদ ৪২৮৫। রাওদুন নাদীর ৬৪৭।
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ৪০৮৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে মাহদীর আবির্ভাব ও তাঁর সময়ের প্রাচুর্যের কথা বলা হয়েছে। নবী (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, মাহদী তাঁর উম্মতের মধ্য থেকেই আসবেন। তিনি কমপক্ষে সাত বছর, আর অন্য বর্ণনা অনুযায়ী নয় বছর পর্যন্ত অবস্থান করবেন—এই পাঠে সাত বা নয় বছরের কথা এসেছে। তাঁর সময়ে উম্মত এমন নিয়ামত পাবে, যা আগে তারা এমনভাবে পায়নি। পৃথিবী তার খাদ্যসম্ভার দেবে এবং কিছু আটকে রাখবে না। সম্পদ স্তূপের মতো হবে। কেউ মাহদীর কাছে এসে চাইলে তিনি বলবেন, “তোমার যত প্রয়োজন নিয়ে যাও।” এই মাহদী হাদিসে দান, প্রাচুর্য এবং মানুষের প্রয়োজন পূরণের কথা এসেছে। তবে হাদিসের ভাষা অনুযায়ী এটিকে আল্লাহর দেওয়া এক বিশেষ সময়ের বর্ণনা হিসেবেই বুঝতে হবে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মাহদী নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর উম্মতের মধ্য থেকে আসবেন।
- আল্লাহ চাইলে সম্পদ ও খাদ্যে বড় প্রাচুর্য দিতে পারেন।
- প্রয়োজনমতো দান করা একটি প্রশংসনীয় গুণ।
- দুনিয়ার নিয়ামতও আল্লাহর দান হিসেবে দেখা উচিত।
