৩৬/২৫. অধ্যায়ঃ
কিয়ামতের আলামতসমূহ
কেয়ামতের জ্ঞান ও আলামত: আল্লাহই অদৃশ্যের জ্ঞাতা
সুনানে ইবনে মাজাহ : ৪০৪৪
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ৪০৪৪
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ ابْنُ عُلَيَّةَ، عَنْ أَبِي حَيَّانَ، عَنْ أَبِي زُرْعَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَوْمًا بَارِزًا لِلنَّاسِ فَأَتَاهُ رَجُلٌ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَتَى السَّاعَةُ فَقَالَ " مَا الْمَسْئُولُ عَنْهَا بِأَعْلَمَ مِنَ السَّائِلِ وَلَكِنْ سَأُخْبِرُكَ عَنْ أَشْرَاطِهَا إِذَا وَلَدَتِ الأَمَةُ رَبَّتَهَا فَذَاكَ مِنْ أَشْرَاطِهَا وَإِذَا كَانَتِ الْحُفَاةُ الْعُرَاةُ رُءُوسَ النَّاسِ فَذَاكَ مِنْ أَشْرَاطِهَا وَإِذَا تَطَاوَلَ رِعَاءُ الْغَنَمِ فِي الْبُنْيَانِ فَذَاكَ مِنْ أَشْرَاطِهَا فِي خَمْسٍ لاَ يَعْلَمُهُنَّ إِلاَّ اللَّهُ " . فَتَلاَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ {إِنَّ اللَّهَ عِنْدَهُ عِلْمُ السَّاعَةِ وَيُنَزِّلُ الْغَيْثَ وَيَعْلَمُ مَا فِي الأَرْحَامِ} الآيَةَ .
আবূ হুরায়রাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) লোকজনের সাথে বসা ছিলেন। তখন তাঁর নিকট এক ব্যক্তি এসে বললো, ইয়া রাসূলুল্লাহ! কেয়ামত কখন সংঘটিত হবে? তিনি বলেন: জিজ্ঞাসিত ব্যক্তি এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাকারীর চেয়ে অধিক জ্ঞাত নয়। তবে আমি তোমাকে এর কতক আলামত সম্পর্কে অবহিত করবো।যখন দাসী তার মনিবকে প্রসব করবে, এটি কেয়ামতের একটি আলামত। যখন নগ্নপদ ও নগ্ন দেহবিশিষ্ট লোকেরা জনগণের নেতা হবে, এটি কেয়ামতের একটি আলামত। যখন মেষপালের রাখালেরা সুরম্য অট্টালিকায় বসবাস করবে, এগুলো হলো কেয়ামতের আলামত।এমন পাঁচটি বিষয় আছে যে বিষয়ে আল্লাহ ব্যতীত আর কেউ জানে না। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এই আয়াত তিলাওয়াত করেন (অনুবাদ): “কেয়ামতের জ্ঞান কেবল আল্লাহর নিকট রয়েছে। তিনি বৃষ্টি বর্ষণ করেন এবং তিনি জানেন যা জরায়ুতে রয়েছে। কেউ জানে না আগামীকাল সে কী উপার্জন করবে এবং কেউ জানে না সে কোন স্থানে মারা যাবে। আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সর্ববিষয়ে অবহিত” (সূরা লোকমান: ৩৪)।
[৩৩৭৬] সহীহুল বূখারী ৫০, ৪৭৭৭, মুসলিম ৯, ১০, নাসায়ী ৪৯৯১, আহমাদ ৯২১৭।
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ৪০৪৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-কে জিজ্ঞেস করেন, কেয়ামত কখন হবে। তিনি বলেন, জিজ্ঞাসিত ব্যক্তি এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাকারীর চেয়ে বেশি জানেন না। এরপর তিনি কিছু আলামত জানান: দাসী তার মনিবকে প্রসব করবে, নগ্নপদ ও দরিদ্র মানুষ জনগণের নেতা হবে, আর মেষপালের রাখালেরা উঁচু অট্টালিকা নিয়ে প্রতিযোগিতা করবে। এরপর তিনি সূরা লোকমানের আয়াত তিলাওয়াত করেন, যেখানে পাঁচটি গায়েবি বিষয়ের জ্ঞান আল্লাহর কাছে থাকার কথা এসেছে। এই হাদিসের মূল শিক্ষা হলো, কেয়ামতের সময় নির্দিষ্ট করে জানার চেষ্টা নয়, বরং আল্লাহর জ্ঞানের সামনে নিজের সীমাবদ্ধতা মানা। “কেয়ামত কখন হবে”, “কেয়ামতের আলামত”, “গায়েবের জ্ঞান”—এসব অনুসন্ধানের উত্তর এই হাদিসে খুব সুন্দরভাবে এসেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কেয়ামতের নির্দিষ্ট সময় আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না।
- কেয়ামতের কিছু আলামত মানুষের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে জানানো হয়েছে।
- গায়েবের জ্ঞানের ব্যাপারে বান্দার সীমা বুঝে কথা বলা উচিত।
- দুনিয়ার অবস্থার পরিবর্তন মানুষকে আখিরাতের কথা মনে করায়।
