৩৬/২৫. অধ্যায়ঃ
কিয়ামতের আলামতসমূহ
কেয়ামতের পূর্বের ছয় আলামত: ফিতনা, সম্পদ ও বিশ্বাসঘাতকতার শিক্ষা
সুনানে ইবনে মাজাহ : ৪০৪২
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ৪০৪২
حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْعَلاَءِ، حَدَّثَنِي بُسْرُ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنِي أَبُو إِدْرِيسَ الْخَوْلاَنِيُّ، حَدَّثَنِي عَوْفُ بْنُ مَالِكٍ الأَشْجَعِيُّ، قَالَ أَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ وَهُوَ فِي غَزْوَةِ تَبُوكَ وَهُوَ فِي خِبَاءٍ مِنْ أَدَمٍ فَجَلَسْتُ بِفِنَاءِ الْخِبَاءِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ " ادْخُلْ يَا عَوْفُ " . فَقُلْتُ بِكُلِّي يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ " بِكُلِّكَ " . ثُمَّ قَالَ " يَا عَوْفُ احْفَظْ خِلاَلاً سِتًّا بَيْنَ يَدَىِ السَّاعَةِ إِحْدَاهُنَّ مَوْتِي " . قَالَ فَوَجَمْتُ عِنْدَهَا وَجْمَةً شَدِيدَةً . فَقَالَ " قُلْ إِحْدَى ثُمَّ فَتْحُ بَيْتِ الْمَقْدِسِ ثُمَّ دَاءٌ يَظْهَرُ فِيكُمْ يَسْتَشْهِدُ اللَّهُ بِهِ ذَرَارِيَّكُمْ وَأَنْفُسَكُمْ وَيُزَكِّي بِهِ أَمْوَالَكُمْ ثُمَّ تَكُونُ الأَمْوَالُ فِيكُمْ حَتَّى يُعْطَى الرَّجُلُ مِائَةَ دِينَارٍ فَيَظَلَّ سَاخِطًا وَفِتْنَةٌ تَكُونُ بَيْنَكُمْ لاَ يَبْقَى بَيْتُ مُسْلِمٍ إِلاَّ دَخَلَتْهُ ثُمَّ تَكُونُ بَيْنَكُمْ وَبَيْنَ بَنِي الأَصْفَرِ هُدْنَةٌ فَيَغْدِرُونَ بِكُمْ فَيَسِيرُونَ إِلَيْكُمْ فِي ثَمَانِينَ غَايَةٍ تَحْتَ كُلِّ غَايَةٍ اثْنَا عَشَرَ أَلْفًا " .
আওফ বিন মালিক আল-আশজাঈ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, তাবুক যুদ্ধকালে আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট উপস্থিত ছিলাম। তিনি একটি চামড়ার তাঁবুর ভেতরে ছিলেন। আমি তাঁবুর আঙিনায় বসে পড়লাম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ হে আওফ! ভেতরে আসো। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি কি সম্পূর্ণ প্রবেশ করব? তিনি বলেনঃ হ্যাঁ, সম্পূর্ণরূপে এসো। অতঃপর তিনি বললেনঃ হে আওফ! কেয়ামতের পূর্বের ছয়টি আলামত স্মরণ রাখবে। সেগুলোর একটি হচ্ছে আমার মৃত্যু। আওফ (রাঃ) বলেন, আমি একথায় অত্যন্ত মর্মাহত হলাম। তিনি বলেনঃ তুমি বলো, প্রথমটি।অতঃপর বায়তুল মুকাদ্দাস বিজয়।অতঃপর তোমাদের মধ্যে এক মহামারী ছড়িয়ে পড়বে, যার দ্বারা আল্লাহ তোমাদের বংশধরকে ও তোমাদেরকে শাহাদাত নসীব করবেন এবং তোমাদের আমলসমূহ পরিশুদ্ধ করবেন।এরপর তোমাদের সম্পদের প্রাচুর্য হবে, এমনকি মাথাপিছু শত দীনার (স্বর্ণমুদ্রা) পেলেও মানুষ অসন্তুষ্ট থাকবে।তোমাদের মধ্যে এমন ফিতনা সৃষ্টি হবে, যা থেকে কোন মুসলিমের ঘরই রেহাই পাবে না।এরপর বনু আসফার (রোমক খ্রিস্টান)-এর সাথে তোমাদের সন্ধি হবে। কিন্তু তারা তোমাদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করবে এবং আশিটি পতাকার অধীনে সংঘবদ্ধ হয়ে তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে। প্রত্যেকটি পতাকার অধীনে থাকবে বারো হাজার সৈন্য।
[৩৩৭৪] সহীহুল বূখারী ৩১৭৬, আবূ দাঊদ ৫০০০, আহমাদ ২৩৪৫১, ২৩৪৫৯, ২৩৪৬৫, ২৩৪৭৬। ফাদাইলু আহলুশ শাম ৩০।
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ৪০৪২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আওফ বিন মালিক (রাঃ) তাবুক যুদ্ধের সময়ের একটি ঘটনা বলেন। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم তাঁকে তাঁবুর ভেতরে ডাকেন এবং কেয়ামতের পূর্বের ছয়টি আলামত স্মরণ রাখতে বলেন। প্রথম আলামত হিসেবে তিনি নিজের মৃত্যুর কথা বলেন, যা শুনে আওফ (রাঃ) খুব কষ্ট পান। এরপর বায়তুল মুকাদ্দাস বিজয়, মহামারী, সম্পদের প্রাচুর্য, ঘরে ঘরে পৌঁছে যাওয়া ফিতনা এবং বনু আসফারের সঙ্গে সন্ধির পর বিশ্বাসঘাতকতার কথা বলা হয়েছে। এই হাদিসে “কেয়ামতের আলামত”, “ফিতনা”, “সম্পদের প্রাচুর্য” ও “বিশ্বাসঘাতকতা” বিষয়গুলো একসঙ্গে এসেছে। এখানে শিক্ষা হলো, দুনিয়ার পরিবর্তন, সম্পদের পরীক্ষা ও সামাজিক অস্থিরতা মুমিনকে সতর্ক করে। হাদিসটি কোনো কল্পনা নয়; বরং রাসূল صلى الله عليه وسلم যেভাবে বলেছেন, সেভাবেই বিষয়গুলো গ্রহণ করতে হবে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কেয়ামতের পূর্বে নানা ধরনের সামাজিক ও রাজনৈতিক পরীক্ষা আসতে পারে।
- সম্পদের প্রাচুর্য সব সময় সন্তুষ্টি আনে না—হাদিসে অসন্তুষ্টির কথাও এসেছে।
- ফিতনা এমনভাবে ছড়াতে পারে যে তা ঘর পর্যন্ত পৌঁছে যায়।
- সন্ধি ও চুক্তির ক্ষেত্রে বিশ্বাসঘাতকতা বড় বিপদের কারণ হতে পারে।
