৩৬/২৩. অধ্যায়ঃ
বিপদে ধৈর্যধারণ
শিরক, ফরজ নামাজ ও মদ: নবীজির তিনটি কঠিন উপদেশ
সুনানে ইবনে মাজাহ : ৪০৩৪
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ৪০৩৪
حَدَّثَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ الْحَسَنِ الْمَرْوَزِيُّ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ، ح وَحَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعِيدٍ الْجَوْهَرِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ عَطَاءٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا رَاشِدٌ أَبُو مُحَمَّدٍ الْحِمَّانِيُّ، عَنْ شَهْرِ بْنِ حَوْشَبٍ، عَنْ أُمِّ الدَّرْدَاءِ، عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ، قَالَ أَوْصَانِي خَلِيلِي ـ صلى الله عليه وسلم ـ أَنْ " لاَ تُشْرِكْ بِاللَّهِ شَيْئًا وَإِنْ قُطِّعْتَ وَحُرِّقْتَ وَلاَ تَتْرُكْ صَلاَةً مَكْتُوبَةً مُتَعَمِّدًا فَمَنْ تَرَكَهَا مُتَعَمِّدًا فَقَدْ بَرِئَتْ مِنْهُ الذِّمَّةُ وَلاَ تَشْرَبِ الْخَمْرَ فَإِنَّهَا مِفْتَاحُ كُلِّ شَرٍّ " .
আবূ দারদা’ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, আমার প্রিয় বন্ধু রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে এই উপদেশ দিয়েছেনঃ তুমি আল্লাহর সাথে কোন কিছু শরীক করো না, যদিও তোমাকে টুকরো টুকরো করে ছিন্নভিন্ন করা হয় অথবা আগুনে ভস্মীভূত করা হয়। তুমি স্বেচ্ছায় ফরজ নামাজ ত্যাগ করো না, যে ব্যক্তি স্বেচ্ছায় তা ত্যাগ করে তার থেকে (আল্লাহর) জিম্মাদারী উঠে যায়। তুমি মদ্যপান করো না। কেননা তা সর্বপ্রকার অনিষ্টের চাবিকাঠি।
[৩৩৬৬] হাদীসটি ইমাম ইবনু মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন। মিশকাত ৫৪০, আত তা’লীকুর রাগীব ১/১৯৫, ইরওয়া’২০৮৬।
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ৪০৩৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) আবূ দারদা (রাঃ)-কে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ উপদেশ দিয়েছেন। প্রথম উপদেশ হলো, আল্লাহর সাথে কোনো কিছু শরীক করা যাবে না, যদিও মানুষকে টুকরো টুকরো করা হয় বা আগুনে পুড়িয়ে ফেলা হয়। দ্বিতীয় উপদেশ হলো, স্বেচ্ছায় ফরজ নামাজ ত্যাগ করা যাবে না। যে ইচ্ছাকৃতভাবে তা ত্যাগ করে, তার থেকে আল্লাহর জিম্মাদারী উঠে যায়—এমন কঠিন সতর্কতা এসেছে। তৃতীয় উপদেশ হলো, মদ্যপান করা যাবে না, কারণ তা সর্বপ্রকার অনিষ্টের চাবিকাঠি। এই হাদিস তাওহীদ, নামাজ এবং মদ থেকে দূরে থাকার শিক্ষা একসাথে দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- শিরক থেকে বেঁচে থাকা ঈমানের মূল দাবি।
- ফরজ নামাজ স্বেচ্ছায় ত্যাগ করা ভয়াবহ বিষয়।
- মদ বহু অনিষ্টের দরজা খুলে দিতে পারে।
- কঠিন পরিস্থিতিতেও তাওহীদ ধরে রাখা মুমিনের দায়িত্ব।
