৩৬/২০. অধ্যায়ঃ
সৎকাজের নির্দেশদান এবং অসৎকাজে বাধাদান করা
অন্যায় দেখলে কী করব: হাত, মুখ ও অন্তরের তিন স্তর
সুনানে ইবনে মাজাহ : ৪০১৩
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ৪০১৩
حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ رَجَاءٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، وَعَنْ قَيْسِ بْنِ مُسْلِمٍ، عَنْ طَارِقِ بْنِ شِهَابٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ أَخْرَجَ مَرْوَانُ الْمِنْبَرَ فِي يَوْمِ عِيدٍ فَبَدَأَ بِالْخُطْبَةِ قَبْلَ الصَّلاَةِ فَقَالَ رَجُلٌ يَا مَرْوَانُ خَالَفْتَ السُّنَّةَ أَخْرَجْتَ الْمِنْبَرَ فِي هَذَا الْيَوْمِ وَلَمْ يَكُنْ يُخْرَجُ وَبَدَأْتَ بِالْخُطْبَةِ قَبْلَ الصَّلاَةِ وَلَمْ يَكُنْ يُبْدَأُ بِهَا . فَقَالَ أَبُو سَعِيدٍ أَمَّا هَذَا فَقَدْ قَضَى مَا عَلَيْهِ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَقُولُ " مَنْ رَأَى مِنْكُمْ مُنْكَرًا فَاسْتَطَاعَ أَنْ يُغَيِّرَهُ بِيَدِهِ فَلْيُغَيِّرْهُ بِيَدِهِ فَإِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَبِلِسَانِهِ فَإِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَبِقَلْبِهِ وَذَلِكَ أَضْعَفُ الإِيمَانِ " .
আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, মারওয়ান ঈদের দিন ঈদের মাঠে মিম্বর বের (স্থাপন) করলো এবং ঈদের সালাতের পূর্বে খুতবা দিলো। এক ব্যক্তি বলল, হে মারওয়ান! তুমি সুন্নাতের বিপরীত করেছো, তুমি আজকের এই দিনে মিম্বর বের (স্থাপন) করছো, অথচ এই দিন তা বের করা (ঈদের মাঠে মিম্বর নেওয়া) হতো না। উপরন্তু তুমি সালাতের আগে খুতবা শুরু করছো, অথচ সালাতের পূর্বে খুতবা দেয়া হতো না।আবু সাঈদ (রাঃ) বলেন, এই ব্যক্তি তার দায়িত্ব পালন করেছে। আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছিঃ(১) তোমাদের মধ্যে কেউ অন্যায় কাজ হতে দেখলে এবং তার দৈহিক শক্তি দিয়ে প্রতিহত করার সামর্থ্য থাকলে সে যেন তা সেভাবেই প্রতিহত করে।(২) তার সেই সামর্থ্য না থাকলে সে যেন মুখের কথা দ্বারা তা প্রতিহত করে।(৩) তার সেই সামর্থ্য না থাকলে সে যেন মনে মনে ঘৃণা করে। তা হলো সবচেয়ে দুর্বল ঈমান।
[৩৩৪৫] সহীহুল বূখারী ৯৫৬, মুসলিম ৪৯, তিরমিযী ২১৭২, নাসায়ী ৫০০৮, ৫০০৯, আবূ দাঊদ ১১৪০, ৪৩৪০, আহমাদ ১০৬৮৯, ১০৭৬৬, ১১০৬৮, ১১১০০, ১১১২২, ১১৪৬৬।
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ৪০১৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ঈদের সালাতের আগে খুতবা দেওয়ার একটি ঘটনা এসেছে। এক ব্যক্তি মারওয়ানকে বলেন, তুমি সুন্নাতের বিপরীত করেছ। আবু সাঈদ (রাঃ) বলেন, এই ব্যক্তি তার দায়িত্ব পালন করেছে। এরপর তিনি রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর বাণী বলেন: কেউ অন্যায় দেখলে সামর্থ্য থাকলে হাতে বদলাবে; তা না পারলে মুখে বলবে; তা-ও না পারলে মনে মনে ঘৃণা করবে, আর এটি দুর্বল ঈমান। এখানে মূল শিক্ষা হলো অন্যায় দেখলে অবস্থার সাথে মিল রেখে প্রতিক্রিয়া দেওয়া। ‘হাত’ মানে নিজের সামর্থ্য ও অধিকার থাকা অবস্থায় কার্যকর বাধা; ‘মুখ’ মানে সত্য কথা; আর অন্তরের ঘৃণা হলো অন্তত অন্যায়কে ভালো না মনে করা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- অন্যায় বদলানোর ক্ষেত্রে সামর্থ্য অনুযায়ী স্তর আছে।
- হাতে প্রতিরোধের সামর্থ্য না থাকলে মুখে সত্য বলা যায়।
- মুখেও না পারলে অন্তরে অন্যায়কে ঘৃণা করা ঈমানের দাবি।
- সুন্নাতের বিপরীত কাজ দেখলে দায়িত্বশীলভাবে সতর্ক করা যায়।
