৩৬/১৮. অধ্যায়ঃ

ধন-সম্পদ সৃষ্ট বিপর্যয়

সম্পদের প্রাচুর্য: বরকত ও অতৃপ্তির শিক্ষা

সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ৩৯৯৫

حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ حَمَّادٍ الْمِصْرِيُّ، أَنْبَأَنَا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ، عَنْ عِيَاضِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا سَعِيدٍ الْخُدْرِيَّ، يَقُولُ قَامَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فَخَطَبَ فَقَالَ ‏"‏ لاَ وَاللَّهِ مَا أَخْشَى عَلَيْكُمْ أَيُّهَا النَّاسُ إِلاَّ مَا يُخْرِجُ اللَّهُ لَكُمْ مِنْ زَهْرَةِ الدُّنْيَا ‏"‏ ‏.‏ فَقَالَ لَهُ رَجُلٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَيَأْتِي الْخَيْرُ بِالشَّرِّ فَصَمَتَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ سَاعَةً ثُمَّ قَالَ ‏"‏ كَيْفَ قُلْتَ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ قُلْتُ وَهَلْ يَأْتِي الْخَيْرُ بِالشَّرِّ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏"‏ إِنَّ الْخَيْرَ لاَ يَأْتِي إِلاَّ بِخَيْرٍ أَوَخَيْرٌ هُوَ إِنَّ كُلَّ مَا يُنْبِتُ الرَّبِيعُ يَقْتُلُ حَبَطًا أَوْ يُلِمُّ إِلاَّ آكِلَةَ الْخَضِرِ أَكَلَتْ حَتَّى إِذَا امْتَلأَتْ خَاصِرَتَاهَا اسْتَقْبَلَتِ الشَّمْسَ فَثَلَطَتْ وَبَالَتْ ثُمَّ اجْتَرَّتْ فَعَادَتْ فَأَكَلَتْ فَمَنْ يَأْخُذُ مَالاً بِحَقِّهِ يُبَارَكُ لَهُ وَمَنْ يَأْخُذُ مَالاً بِغَيْرِ حَقِّهِ فَمَثَلُهُ كَمَثَلِ الَّذِي يَأْكُلُ وَلاَ يَشْبَعُ ‏"‏ ‏.‏

আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দাঁড়িয়ে লোকেদের উদ্দেশে ভাষণ দিলেন। তিনি বলেনঃ না, আল্লাহর শপথ, হে জনগণ! আল্লাহ তোমাদের জন্য যে মোহনীয় পার্থিব ধন-সম্পদ নির্গত করবেন, তার অনিষ্ট ছাড়া তোমাদের ব্যাপারে আমি অন্য কিছুর আশঙ্কা করি না।এক ব্যক্তি তাঁকে জিজ্ঞেস করলো, হে আল্লাহর রাসূল! সম্পদের প্রাচুর্য কি বিপর্যয় ডেকে আনবে? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ক্ষণিক নীরব থাকলেন, অতঃপর বলেনঃ তুমি কী বলেছিলে? সে বললো, আমি বলেছিলাম যে, সম্পদের প্রাচুর্য কি বিপর্যয় ডেকে আনবে?রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ কল্যাণ তো কল্যাণই বয়ে আনে। কল্যাণ (মাল) কি সম্পূর্ণই কল্যাণকর? নিশ্চয় বসন্ত ঋতু যা কিছু (ঘাসপাতা) উৎপন্ন করে তা (অপরিমিত ভোজে) মৃত্যু ঘটায় বা মৃতপ্রায় করে দেয়। কিন্তু যে তৃণভোজী পশু তা ভক্ষণ করে এবং উদর পূর্ণ হলে সূর্যের দিকে মুখ করে মলমূত্র ত্যাগ করে এবং পুনরায় চরতে শুরু করে (তার ক্ষতি করে না)। যে ব্যক্তি সঙ্গত পন্থায় সম্পদ অর্জন করে তাকে বরকত দান করা হয়। আর যে ব্যক্তি অসঙ্গত পন্থায় সম্পদ অর্জন করে সে এমন ব্যক্তির ন্যায় যে আহার করে কিন্তু তৃপ্ত হয় না।

[৩৩২৭] সহীহুল বূখারী ৬৪২৭, মুসলিম ১০৫২, নাসায়ী ২৫৮১।

সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ৩৯৯৫-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে সম্পদের প্রাচুর্য নিয়ে ভারসাম্যপূর্ণ শিক্ষা আছে। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, তিনি উম্মতের ব্যাপারে দুনিয়ার মোহনীয় ধন-সম্পদের অনিষ্টের আশঙ্কা করেন। প্রশ্ন করা হলো, কল্যাণ কি অনিষ্ট ডেকে আনে? তিনি বোঝালেন, কল্যাণ তো কল্যাণই আনে; তবে সব সম্পদ ব্যবহারকারীর অবস্থার ওপর বিষয়টি নির্ভর করে। বসন্তের ঘাসের উদাহরণ দিয়ে বলা হয়েছে, অপরিমিত ভোগ ক্ষতির কারণ হতে পারে। যে ব্যক্তি সঙ্গত পন্থায় সম্পদ নেয়, তার জন্য বরকতের কথা এসেছে। আর যে অসঙ্গত পন্থায় নেয়, সে এমন যে খায় কিন্তু তৃপ্ত হয় না। তাই “সম্পদের ফিতনা” মানে সম্পদকে হারাম পথে নেওয়া ও অপচয়ী মনোভাব থেকে সতর্ক হওয়া।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • দুনিয়ার সম্পদ মানুষকে পরীক্ষায় ফেলতে পারে।
  • সঙ্গত পন্থায় সম্পদ অর্জনে বরকতের কথা এসেছে।
  • অসঙ্গত পন্থায় অর্জিত সম্পদ তৃপ্তি দেয় না।
  • সম্পদ ব্যবহারে সংযম ও সতর্কতা দরকার।

এই সম্পর্কিত হাদিসসমূহ

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন