৩৬/১৩. অধ্যায়ঃ
নির্জনতা অবলম্বন
ফিতনার সময়ে মুসলিম জামাআত ও ইমাম আঁকড়ে থাকার নির্দেশ
সুনানে ইবনে মাজাহ : ৩৯৭৯
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ৩৯৭৯
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، حَدَّثَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ يَزِيدَ بْنِ جَابِرٍ، حَدَّثَنِي بُسْرُ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنِي أَبُو إِدْرِيسَ الْخَوْلاَنِيُّ، أَنَّهُ سَمِعَ حُذَيْفَةَ بْنَ الْيَمَانِ، يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ " يَكُونُ دُعَاةٌ عَلَى أَبْوَابِ جَهَنَّمَ مَنْ أَجَابَهُمْ إِلَيْهَا قَذَفُوهُ فِيهَا " . قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ صِفْهُمْ لَنَا قَالَ " هُمْ قَوْمٌ مِنْ جِلْدَتِنَا يَتَكَلَّمُونَ بِأَلْسِنَتِنَا " . قُلْتُ فَمَا تَأْمُرُنِي إِنْ أَدْرَكَنِي ذَلِكَ قَالَ " فَالْزَمْ جَمَاعَةَ الْمُسْلِمِينَ وَإِمَامَهُمْ فَإِنْ لَمْ يَكُنْ لَهُمْ جَمَاعَةٌ وَلاَ إِمَامٌ فَاعْتَزِلْ تِلْكَ الْفِرَقَ كُلَّهَا وَلَوْ أَنْ تَعَضَّ بِأَصْلِ شَجَرَةٍ حَتَّى يُدْرِكَكَ الْمَوْتُ وَأَنْتَ كَذَلِكَ " .
হুযায়ফা ইবনুল ইয়ামান (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: জাহান্নামের দরজাসমূহে আহবানকারী থাকবে। যারা তাদের আহবানে সাড়া দিবে তাদেরকে তারা জাহান্নামে নিক্ষেপ করবে। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের নিকট তাদের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করুন। তিনি বলেন: তারা আমাদের মধ্য থেকে হবে এবং আমাদের ভাষায় কথা বলবে। আমি বললাম, তারা যদি আমাকে পায় তবে আপনি আমাকে কী নির্দেশ দেন? তিনি বলেন: তুমি অপরিহার্যরূপে মুসলিমদের সংঘভুক্ত থাকবে এবং তাদের ইমামের আনুগত্য করবে। যদি মুসলিমগণ ঐক্যবদ্ধ না থাকে এবং তাদের ইমামও না থাকে তাহলে তুমি তাদের সকল বিচ্ছিন্ন দল থেকে দূরে থাকো এবং কোন গাছের কাণ্ড আঁকড়ে ধরো এবং সেই অবস্থায় যেন তোমার মৃত্যু হয়।
[৩৩১১] সহীহুল বূখারী ৩৬০৬, মুসলিম ১৮৪৭, আবূ দাঊদ ৪২৪৪, আহমাদ ২২৯৩৯। সহীহাহ ২৭৩৯।
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ৩৯৭৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, জাহান্নামের দরজাসমূহে আহ্বানকারী থাকবে; যারা তাদের ডাকে সাড়া দেবে, তারা তাদেরকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবে। সাহাবী তাদের বৈশিষ্ট্য জানতে চাইলে নবী (صلى الله عليه وسلم) বলেন, তারা আমাদের মধ্য থেকেই হবে এবং আমাদের ভাষায় কথা বলবে। এরপর তিনি নির্দেশ দেন, এমন সময় এলে মুসলিমদের সংঘ এবং তাদের ইমামের সঙ্গে থাকতে হবে। আর যদি কোনো মুসলিম জামাআত ও ইমাম না থাকে, তবে সব বিচ্ছিন্ন দল থেকে দূরে থাকতে হবে, এমনকি গাছের কাণ্ড আঁকড়ে ধরে সেই অবস্থায় মৃত্যু এলেও। হাদিসটি ফিতনায় বিভ্রান্ত আহ্বান, দলাদলি, মুসলিম ঐক্য এবং নিরাপদ অবস্থান সম্পর্কে গভীর শিক্ষা দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সব আহ্বান কল্যাণের দিকে হয় না; কিছু আহ্বান ভয়াবহ পরিণতির দিকে নিতে পারে।
- ফিতনার সময় মুসলিম জামাআত ও ইমামের সঙ্গে থাকা নির্দেশিত হয়েছে।
- জামাআত ও ইমাম না থাকলে বিচ্ছিন্ন দল থেকে দূরে থাকা উচিত।
- নিজ ভাষার লোক হলেও বিভ্রান্ত আহ্বান থেকে সতর্ক থাকা দরকার।
