৩৬/১২. অধ্যায়ঃ
কলহ-বিপর্যয় চলাকালে রসনা সংযত রাখা
একটি কথাই আল্লাহর সন্তুষ্টি বা অসন্তুষ্টির কারণ হতে পারে
সুনানে ইবনে মাজাহ : ৩৯৬৯
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ৩৯৬৯
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بِشْرٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو، حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ أَبِيهِ، عَلْقَمَةَ بْنِ وَقَّاصٍ قَالَ مَرَّ بِهِ رَجُلٌ لَهُ شَرَفٌ فَقَالَ لَهُ عَلْقَمَةُ إِنَّ لَكَ رَحِمًا وَإِنَّ لَكَ حَقًّا وَإِنِّي رَأَيْتُكَ تَدْخُلُ عَلَى هَؤُلاَءِ الأُمَرَاءِ وَتَتَكَلَّمُ عِنْدَهُمْ بِمَا شَاءَ اللَّهُ أَنْ تَتَكَلَّمَ بِهِ وَإِنِّي سَمِعْتُ بِلاَلَ بْنَ الْحَارِثِ الْمُزَنِيَّ صَاحِبَ رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ " إِنَّ أَحَدَكُمْ لَيَتَكَلَّمُ بِالْكَلِمَةِ مِنْ رِضْوَانِ اللَّهِ مَا يَظُنُّ أَنْ تَبْلُغَ مَا بَلَغَتْ فَيَكْتُبُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ لَهُ بِهَا رِضْوَانَهُ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ وَإِنَّ أَحَدَكُمْ لَيَتَكَلَّمُ بِالْكَلِمَةِ مِنْ سَخَطِ اللَّهِ مَا يَظُنُّ أَنْ تَبْلُغَ مَا بَلَغَتْ فَيَكْتُبُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ عَلَيْهِ بِهَا سَخَطَهُ إِلَى يَوْمِ يَلْقَاهُ " . قَالَ عَلْقَمَةُ فَانْظُرْ وَيْحَكَ مَاذَا تَقُولُ وَمَاذَا تَكَلَّمُ بِهِ فَرُبَّ كَلاَمٍ - قَدْ - مَنَعَنِي أَنْ أَتَكَلَّمَ بِهِ مَا سَمِعْتُ مِنْ بِلاَلِ بْنِ الْحَارِثِ .
বিলাল ইবনুল হারিস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
(আলকামা (রাঃ)) বলেন যে, তার নিকট দিয়ে একজন শরীফ লোক যাচ্ছিলেন। আলকামা (রাঃ) তাকে বলেন, “তোমার সাথে আমার আত্মীয়তার সম্পর্ক আছে এবং অন্যবিধ অধিকারও আছে। আমি লক্ষ্য করছি যে, তুমি এসব আমীর-ওমরার নিকট যাতায়াত করো এবং তাদের সাথে তাদের মর্জিমাফিক কথাবার্তা বলো।আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাহাবী বিলাল ইবনুল হারিস আল-মুযানী (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, তোমাদের কেউ অবশ্যই আল্লাহর সন্তুষ্টিমূলক কথা বলে, অথচ তার প্রতিফল সম্পর্কে সে জ্ঞাত নয়। আল্লাহ তা'আলা এই কথার বিনিময়ে তার জন্য কেয়ামত পর্যন্ত তাঁর সন্তোষ লিখে দেন।পক্ষান্তরে তোমাদের কেউ আল্লাহর অসন্তুষ্টিমূলক কথা বলে, যার পরিণতি সম্পর্কে সে বেখবর। আল্লাহ এই কথার বিনিময়ে তার জন্য কেয়ামত পর্যন্ত তাঁর অসন্তুষ্টি লিখে দেন।”আলকামা (রাঃ) বলেন, “লক্ষ্য করো, ভেবে দেখ, তুমি কী বলছো এবং মুখ থেকে কী কথা বের করছো। বিলাল ইবনুল হারিস (রাঃ)-এর নিকট আমি যে হাদিস শুনেছি তা আমাকে অনেক কথাই বলতে বাধা দেয়।”
[৩৩০১] তিরমিযী ২৩১৯, আহমাদ ১৫৪২৫, মুওয়াত্তা’ মালিক ১৮৪৮। সহীহাহ ৮৮৬, রাওদুন নাদীর ১৭২, আত তা’লীকুর রাগীব ৩/১৫১, ১৫২।
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ৩৯৬৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে কথার প্রভাব নিয়ে গভীর সতর্কতা এসেছে। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, কেউ আল্লাহর সন্তুষ্টিমূলক কথা বলে, অথচ সে জানে না তার প্রতিফল কত দূর পৌঁছাবে; আল্লাহ সেই কথার কারণে তার জন্য কেয়ামত পর্যন্ত সন্তুষ্টি লিখে দেন। আবার কেউ আল্লাহর অসন্তুষ্টিমূলক কথা বলে, যার পরিণতি সে বোঝে না; আল্লাহ সেই কথার কারণে তার জন্য অসন্তুষ্টি লিখে দেন। আলকামা (রাঃ) একজন সম্মানিত ব্যক্তিকে আমীরদের কাছে কথাবার্তায় সতর্ক করেন। এখানে জিহ্বা সংযম, শাসকদের সামনে সত্য বলা, দ্বিমুখী আচরণ থেকে বাঁচা এবং কথা বলার আগে ভাবার শিক্ষা আছে। হাদিসটি মনে করায়, ছোট মনে হওয়া কথাও আল্লাহর কাছে বড় হতে পারে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ভালো কথা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের কারণ হতে পারে।
- মন্দ কথা আল্লাহর অসন্তুষ্টির কারণ হতে পারে, যদিও বক্তা তা হালকা মনে করে।
- শাসক বা ক্ষমতাবানের সামনে কথায় সতর্কতা দরকার।
- কথা বলার আগে তার পরিণতি ভেবে নেওয়া উচিত।
