৩৬/১০. অধ্যায়ঃ
নৈরাজ্য ও বিপর্যয় চলাকালে অবিচল থাকা
ফিতনার সময় কাঠের তরবারি: সংঘাত এড়ানোর হাদিস
সুনানে ইবনে মাজাহ : ৩৯৬০
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ৩৯৬০
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا صَفْوَانُ بْنُ عِيسَى، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُبَيْدٍ، مُؤَذِّنُ مَسْجِدِ جُرْدَانَ قَالَ حَدَّثَتْنِي عُدَيْسَةُ بِنْتُ أُهْبَانَ، قَالَتْ لَمَّا جَاءَ عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ هَاهُنَا الْبَصْرَةَ دَخَلَ عَلَى أَبِي فَقَالَ يَا أَبَا مُسْلِمٍ أَلاَ تُعِينُنِي عَلَى هَؤُلاَءِ الْقَوْمِ قَالَ بَلَى . قَالَ فَدَعَا جَارِيَةً لَهُ فَقَالَ يَا جَارِيَةُ أَخْرِجِي سَيْفِي . قَالَ فَأَخْرَجَتْهُ فَسَلَّ مِنْهُ قَدْرَ شِبْرٍ فَإِذَا هُوَ خَشَبٌ فَقَالَ إِنَّ خَلِيلِي وَابْنَ عَمِّكَ ـ صلى الله عليه وسلم ـ عَهِدَ إِلَىَّ إِذَا كَانَتِ الْفِتْنَةُ بَيْنَ الْمُسْلِمِينَ فَأَتَّخِذُ سَيْفًا مِنْ خَشَبٍ فَإِنْ شِئْتَ خَرَجْتُ مَعَكَ . قَالَ لاَ حَاجَةَ لِي فِيكَ وَلاَ فِي سَيْفِكَ .
উহবান বিন সয়ফী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
(উদায়সা) বলেন, আলী বিন আবু তালিব (রাঃ) এখানে বসরায় আসেন এবং আমার পিতার সাথে সাক্ষাত করেন। তিনি বলেন, হে আবু মুসলিম! তুমি কি এই গোষ্ঠীর (সিরীয়দের) বিরুদ্ধে আমাকে সাহায্য করবে না? আবু মুসলিম বলেন, হাঁ (করবো)।রাবী বলেন, অতঃপর তিনি তার এক দাসীকে ডেকে বলেন, হে দাসী! আমার তরবারিটা বের করো। রাবী বলেন, সে তরবারিটা বের করলো। আবু মুসলিম তা খাপের মধ্য থেকে এক বিঘত পরিমাণ বের করলেন। দেখা গেলো যে, তা এক খণ্ড কাঠ।আবু মুসলিম বলেন, আমার অন্তরঙ্গ বন্ধু ও তোমার চাচাতো ভাই রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে এই উপদেশ দেন যে, “মুসলমানদের মধ্যে বিবাদ-বিশৃঙ্খলা চলাকালে তুমি একটি কাঠের তরবারি ধারণ করবে”। এখন আপনি চাইলে আমি আপনার সাথে রওয়ানা হতে পারি। আলী (রাঃ) বলেন, তোমাকেও আমার প্রয়োজন নেই এবং তোমার তরবারিও নয়।
[৩২৯২] তিরমিযী ২২০৩। সহীহাহ ১৬৮০।
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ৩৯৬০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ফিতনার সময় মুসলমানদের পারস্পরিক সংঘাত থেকে দূরে থাকার একটি স্পষ্ট শিক্ষা এসেছে। আবু মুসলিম (রাঃ)-এর কাছে আলী (রাঃ) সাহায্য চাইলে তিনি তাঁর তরবারি বের করালেন। কিন্তু দেখা গেল সেটি আসল তরবারি নয়, কাঠের। তিনি জানান, রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) তাঁকে উপদেশ দিয়েছিলেন—মুসলমানদের মধ্যে বিবাদ-বিশৃঙ্খলা হলে কাঠের তরবারি ধারণ করতে। অর্থাৎ, এমন অবস্থায় যুদ্ধ-সংঘাত বাড়ানো নয়, বরং নিজেকে রক্তপাত থেকে বাঁচানোই নিরাপদ পথ। এখানে মূল শিক্ষা হলো ফিতনা, মুসলিম সংঘাত, অস্ত্রধারণ ও আত্মসংযম নিয়ে সতর্কতা। হাদিসটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়, উত্তেজনার সময় শক্তি দেখানো সহজ, কিন্তু রাসূলের নির্দেশ মানা এবং সংঘাত এড়ানোই বড় দায়িত্ব।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মুসলমানদের অভ্যন্তরীণ বিবাদে রক্তপাত এড়ানো বড় সতর্কতার বিষয়।
- ফিতনার সময় অস্ত্র হাতে নেওয়ার বদলে নিজেকে সংযত রাখা উচিত।
- রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর উপদেশ সাহাবীগণ বাস্তব জীবনে গুরুত্বের সঙ্গে মানতেন।
- শান্ত অবস্থান কখনো কখনো সংঘাতে অংশ নেওয়ার চেয়ে নিরাপদ পথ হতে পারে।
