৩৬/২. অধ্যায়ঃ
মুমিন ব্যক্তির জান-মালের নিরাপত্তা
প্রকৃত মুমিন: যার কাছে মানুষের জান-মাল নিরাপদ
সুনানে ইবনে মাজাহ : ৩৯৩৪
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ৩৯৩৪
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ السَّرْحِ الْمِصْرِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، عَنْ أَبِي هَانِئٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مَالِكٍ الْجَنْبِيِّ، أَنَّ فَضَالَةَ بْنَ عُبَيْدٍ، حَدَّثَهُ أَنَّ النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ " الْمُؤْمِنُ مَنْ أَمِنَهُ النَّاسُ عَلَى أَمْوَالِهِمْ وَأَنْفُسِهِمْ وَالْمُهَاجِرُ مَنْ هَجَرَ الْخَطَايَا وَالذُّنُوبَ " .
ফাদালাহ বিন উবায়দ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেনঃ মুমিন সেই ব্যক্তি যার হস্তক্ষেপ থেকে মানুষের জান-মাল নিরাপদ থাকে এবং মুহাজির সেই ব্যক্তি, যে মন্দ কাজ ও গুনাহ ত্যাগ করেছে।
[৩২৬৬] আহমাদ ২৩৪৪৫। সহীহাহ ৫৪৯।
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ৩৯৩৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে নবীজি (صلى الله عليه وسلم) মুমিন ও মুহাজিরের সুন্দর পরিচয় দিয়েছেন। তিনি বলেন, মুমিন সেই ব্যক্তি যার হস্তক্ষেপ থেকে মানুষের জান-মাল নিরাপদ থাকে। আর মুহাজির সেই ব্যক্তি, যে মন্দ কাজ ও গুনাহ ত্যাগ করেছে। এখানে ঈমানকে শুধু মুখের দাবি হিসেবে দেখানো হয়নি; বরং মানুষের নিরাপত্তার সাথে যুক্ত করা হয়েছে। একজন মানুষ সত্যিকারের মুমিনের পথে থাকতে চাইলে তার হাত, আচরণ ও ক্ষমতা থেকে অন্যদের জীবন ও সম্পদ নিরাপদ থাকতে হবে। আর হিজরত শুধু জায়গা বদলের নাম নয়—এই হাদিসে মন্দ কাজ ও গুনাহ ছেড়ে দেয়াকেও মুহাজিরের পরিচয় বলা হয়েছে। তাই নিজের আচরণ, লোভ, রাগ ও অন্যের ক্ষতি করার অভ্যাস থেকে ফিরে আসা এই হাদিসের বড় শিক্ষা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মুমিনের পরিচয় হলো মানুষের জান-মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
- মন্দ কাজ ও গুনাহ ত্যাগ করাও হিজরতের অর্থে এসেছে।
- ঈমানের দাবি আচরণে প্রকাশ পাওয়া দরকার।
- অন্যকে নিরাপদ রাখা মুসলিম চরিত্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
