৩৩/৫৬. অধ্যায়ঃ
তাসবীহ-এর ফাদীলাত
তাসবীহ, তাহলীল ও তাহমীদ: আল্লাহর কাছে বান্দার স্মরণ
সুনানে ইবনে মাজাহ : ৩৮০৯
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ৩৮০৯
حَدَّثَنَا أَبُو بِشْرٍ، بَكْرُ بْنُ خَلَفٍ حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ مُوسَى بْنِ أَبِي عِيسَى الطَّحَّانِ، عَنْ عَوْنِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ أَبِيهِ، أَوْ عَنْ أَخِيهِ، عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ " إِنَّ مِمَّا تَذْكُرُونَ مِنْ جَلاَلِ اللَّهِ التَّسْبِيحَ وَالتَّهْلِيلَ وَالتَّحْمِيدَ يَنْعَطِفْنَ حَوْلَ الْعَرْشِ لَهُنَّ دَوِيٌّ كَدَوِيِّ النَّحْلِ تُذَكِّرُ بِصَاحِبِهَا أَمَا يُحِبُّ أَحَدُكُمْ أَنْ يَكُونَ لَهُ - أَوْ لاَ يَزَالَ لَهُ - مَنْ يُذَكِّرُ بِهِ " .
নু’মান বিন বাশীর (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তাসবীহ (সুবহানাল্লাহ), তাহলীল (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ) ও তাহমীদের (আলহামদু লিল্লাহ)-এর মাধ্যমে তোমরা আল্লাহর যে মহিমা বর্ণনা কর তা মৌমাছির গুঞ্জনের ন্যায় শব্দ করে আরশের চারপাশে ঘুরতে থাকে। সেগুলো নিজ নিজ প্রেরকের কথা উল্লেখ করতে থাকে। তোমাদের কেউ কি এটা পছন্দ করে না যে, আল্লাহর নিকট অনবরত তার উল্লেখকারী কেউ থাকুক?
[৩১৪১] আহমাদ ১৭৮৯৮,১৭৯২১। মুখতাসারুল উলু ৩২/২৪।
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ৩৮০৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) তাসবীহ, তাহলীল ও তাহমীদের বিশেষ মর্যাদা বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, আল্লাহর মহিমা বর্ণনার যে বাক্যগুলো তোমরা বলো—তাসবীহ, তাহলীল ও তাহমীদ—সেগুলো মৌমাছির গুঞ্জনের মতো শব্দ করে আরশের চারপাশে ঘুরতে থাকে। এগুলো নিজ নিজ পাঠকারীর কথা উল্লেখ করতে থাকে। এরপর নবী (صلى الله عليه وسلم) প্রশ্নের মাধ্যমে উৎসাহ দিয়েছেন—তোমাদের কেউ কি পছন্দ করে না যে, আল্লাহর নিকট তার উল্লেখকারী কেউ থাকুক? এই হাদিসে জিকিরকে জীবন্ত অনুভূতির মতো বোঝানো হয়েছে। মুমিন যখন সুবহানাল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ ও আলহামদুলিল্লাহ বলে, তখন সে শুধু নিজের মুখে কথা বলছে না; হাদিস অনুযায়ী সেই জিকির তার জন্য স্মরণের কারণ হয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- তাসবীহ, তাহলীল ও তাহমীদ আল্লাহর মহিমা প্রকাশ করে।
- জিকির পাঠকারীর জন্য আল্লাহর নিকট স্মরণের কারণ হয়।
- নবী (صلى الله عليه وسلم) প্রশ্নের মাধ্যমে জিকিরের প্রতি আগ্রহ বাড়িয়েছেন।
- মুমিনের উচিত মুখকে ভালো জিকিরে ব্যস্ত রাখা।
