৩৩/৫৪. অধ্যায়ঃ
“লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” এর ফাদীলাত
মৃত্যুকালে কালেমার নূর ও নাজাতের শিক্ষা
সুনানে ইবনে মাজাহ : ৩৭৯৫
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ৩৭৯৫
حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ إِسْحَاقَ الْهَمْدَانِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْوَهَّابِ، عَنْ مِسْعَرٍ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أَبِي خَالِدٍ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنْ يَحْيَى بْنِ طَلْحَةَ، عَنْ أُمِّهِ، سُعْدَى الْمُرِّيَّةِ قَالَتْ مَرَّ عُمَرُ بِطَلْحَةَ بَعْدَ وَفَاةِ رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فَقَالَ مَا لَكَ مُكْتَئِبًا أَسَاءَتْكَ إِمْرَةُ ابْنِ عَمِّكَ قَالَ لاَ وَلَكِنْ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَقُولُ " إِنِّي لأَعْلَمُ كَلِمَةً لاَ يَقُولُهَا أَحَدٌ عِنْدَ مَوْتِهِ إِلاَّ كَانَتْ نُورًا لِصَحِيفَتِهِ وَإِنَّ جَسَدَهُ وَرُوحَهُ لَيَجِدَانِ لَهَا رَوْحًا عِنْدَ الْمَوْتِ " . فَلَمْ أَسْأَلْهُ حَتَّى تُوُفِّيَ . قَالَ أَنَا أَعْلَمُهَا هِيَ الَّتِي أَرَادَ عَمَّهُ عَلَيْهَا وَلَوْ عَلِمَ أَنَّ شَيْئًا أَنْجَى لَهُ مِنْهَا لأَمَرَهُ .
তালহা বিন উবায়দুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
(সুদা (রাঃ)) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর ইন্তিকালের পর উমর (রাঃ) তালহা (রাঃ)-এর নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি তাঁকে বলেন, “তোমার কী হয়েছে? তুমি বিষণ্ন কেন? তোমার চাচাতো ভাইয়ের খেলাফত কি তোমার অপছন্দ হয়েছে?”তালহা (রাঃ) বলেন, “না। বরং আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি: ‘আমার এমন একটি বাক্য জানা আছে, যা কোনো ব্যক্তি মৃত্যুর সময় বললে সেটা তার আমলনামার জন্য নূর হবে এবং নিশ্চয়ই তার দেহ ও আত্মা মৃত্যুর সময় তাকে স্বস্তি দেবে।’ সেটি আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করিনি, এরই মধ্যে তিনি ইন্তিকাল করেন।”উমর (রাঃ) বলেন, “আমি সেটি জানি। তা হলো সেই কালেমা যা তিনি তাঁর চাচার নিকট পেশ করেছিলেন। যদি তিনি জানতেন যে, সেই কালেমার চেয়েও অধিক নাজাত দানকারী কিছু আছে, তবে অবশ্যই তিনি সেটি তার চাচার নিকট পেশ করতেন।”
৩১২৭.আহমাদ ১৩৮৭। তাখরিজুল মুখতার ১১৪,১১৯,২৩৮,২৩৯,আল-আহকাম ৩৪।
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ৩৭৯৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে তালহা (রাঃ)-এর মন খারাপের কারণ হিসেবে একটি গুরুত্বপূর্ণ কথা এসেছে। তিনি রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছ থেকে শুনেছিলেন, একটি বাক্য আছে—যে ব্যক্তি মৃত্যুর সময় তা বলবে, তা তার আমলনামার জন্য নূর হবে এবং তার দেহ ও আত্মা মৃত্যুর সময় স্বস্তি পাবে। তিনি সেটি জিজ্ঞেস করার আগেই রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) ইন্তিকাল করেন। পরে উমর (রাঃ) বলেন, তিনি সেই কালেমার কথা জানেন, যা রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) তাঁর চাচার কাছে পেশ করেছিলেন। এই হাদিস কালেমার গুরুত্ব, মৃত্যুর সময় ঈমানের আশা এবং সাহাবিদের দ্বীনি চিন্তার গভীরতা দেখায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সাহাবিরা মৃত্যুর সময়ের ঈমান নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করতেন।
- কালেমা আমলনামার নূর হওয়ার কারণ হতে পারে।
- মৃত্যুর আগে সত্য ঈমানের কথা বলা বড় বিষয়।
