৩৩/৫. অধ্যায়ঃ
মেহমানের অধিকার
মুসাফির মেহমানের অধিকার: গ্রহণ ও ন্যায্য দাবির শিক্ষা
সুনানে ইবনে মাজাহ : ৩৬৭৬
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ৩৬৭৬
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رُمْحٍ، أَنْبَأَنَا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، عَنْ أَبِي الْخَيْرِ، عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ، أَنَّهُ قَالَ قُلْنَا لِرَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ إِنَّكَ تَبْعَثُنَا فَنَنْزِلُ بِقَوْمٍ فَلاَ يَقْرُونَا فَمَا تَرَى فِي ذَلِكَ . قَالَ لَنَا رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ " إِنْ نَزَلْتُمْ بِقَوْمٍ فَأَمَرُوا لَكُمْ بِمَا يَنْبَغِي لِلضَّيْفِ فَاقْبَلُوا وَإِنْ لَمْ يَفْعَلُوا فَخُذُوا مِنْهُمْ حَقَّ الضَّيْفِ الَّذِي يَنْبَغِي لَهُمْ " .
উকবাহ বিন আমির (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বললাম, আপনি আমাদেরকে বিভিন্ন স্থানে পাঠিয়ে থাকেন। আমরা এমন সব জনপদে যাত্রাবিরতি করি যারা আমাদের আপ্যায়ন করে না। এ ব্যাপারে আপনার কি অভিমত? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদেরকে বলেনঃ যদি তোমরা কোন বসতি এলাকায় যাত্রাবিরতি করো এবং তারা মেহমানের আপ্যায়নযোগ্য ব্যবস্থা করলে তা তোমরা গ্রহণ করো। আর যদি তারা তা না করে, তবে তাদের থেকে তাদের সামর্থ্য অনুসারে মেহমানদারির ন্যায্য দাবি আদায় করো।
[৩০০৮] সহীহুল বুখারী ২৪৬১, ৬১৩৭, মুসলিম ১৭২৭, তিরমিযী ১৫৮৯, আবূ দাউদ ৩৭৫২, ১৬৮৯৪। ইরওয়া’ ২৫২৪।
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ৩৬৭৬-এর সারসংক্ষেপ
সাহাবীরা বললেন, তাঁদের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হয়, কিন্তু কিছু জনপদ তাঁদের আপ্যায়ন করে না। এ বিষয়ে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বললেন, যদি কোনো বসতি মেহমানের জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা করে, তা গ্রহণ করতে। আর যদি তারা তা না করে, তবে তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী মেহমানদারির ন্যায্য দাবি আদায় করতে। এই হাদিসে যাত্রাপথের মেহমানের অধিকার আলোচনা হয়েছে। এখানে লোভ বা জোরজবরদস্তির শিক্ষা নেই; বরং মেহমানের ন্যায্য প্রাপ্য ও সমাজের দায়িত্ব বোঝানো হয়েছে। আতিথেয়তা শুধু ব্যক্তিগত সৌজন্য নয়, কিছু অবস্থায় সামাজিক দায়িত্বও হতে পারে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মুসাফির মেহমানের ন্যায্য অধিকার আছে।
- আপ্যায়ন করলে তা কৃতজ্ঞতার সাথে গ্রহণ করা উচিত।
- অধিকার আদায়ের ক্ষেত্রেও সামর্থ্য ও ন্যায্যতার সীমা মানতে হবে।
