৩২/২৪. অধ্যায়ঃ
যে ব্যক্তি খ্যাতি লাভের মানসে পোশাক পরে
যশের পোশাক: দুনিয়ার খ্যাতির বদলে আখিরাতের ভয়
সুনানে ইবনে মাজাহ : ৩৬০৭
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ৩৬০৭
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ أَبِي الشَّوَارِبِ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ عُثْمَانَ بْنِ الْمُغِيرَةِ، عَنِ الْمُهَاجِرِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ " مَنْ لَبِسَ ثَوْبَ شُهْرَةٍ فِي الدُّنْيَا أَلْبَسَهُ اللَّهُ ثَوْبَ مَذَلَّةٍ يَوْمَ الْقِيَامَةِ ثُمَّ أَلْهَبَ فِيهِ نَارًا " .
আবদুল্লাহ বিন উমার (রাঃ), হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি দুনিয়াতে যশ লাভের উদ্দেশ্যে পোশাক পরে আল্লাহ কেয়ামতের দিন তাকে অপমানের পোশাক পরাবেন, অতঃপর তাতে অগ্নিসংযোগ করবেন।
তাহকীক আলবানীঃ হাসান[২৯৩৯] আবু দাউদ ৪০২৯, আহমাত ৫৬৩১,৬২০৯। আত তা'লীকুর রাগীব৩/১১২, হিজাবুল মারআহ১১০।
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ৩৬০৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বলেন, যে ব্যক্তি দুনিয়াতে যশ লাভের উদ্দেশ্যে পোশাক পরে, আল্লাহ কেয়ামতের দিন তাকে অপমানের পোশাক পরাবেন, তারপর তাতে আগুন জ্বালাবেন। হাদিসের ভাষা কঠোর, তাই বিষয়টি হালকা করে দেখা যায় না। এখানে পোশাকের দাম বা রংকে একমাত্র বিষয় করা হয়নি; বরং উদ্দেশ্যকে সামনে আনা হয়েছে—মানুষের কাছে যশ পাওয়া। কেউ যদি পোশাককে নিজের বড়ত্ব দেখানোর মাধ্যম বানায়, তবে তা আখিরাতে ক্ষতির কারণ হতে পারে। এই হাদিস ‘শুহরা পোশাক’ বিষয়ে জোরালো সতর্কতা দেয়। মুসলিমের পোশাক হওয়া উচিত শালীন, সংযত এবং অহংকারমুক্ত। মানুষ যেন পোশাক দিয়ে নিজের নাম ছড়াতে না চায়, বরং আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য জীবন বেছে নেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- দুনিয়ায় যশের উদ্দেশ্যে পোশাক পরা হাদিসে কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে।
- পোশাকের বাহ্যিক দিকের পাশাপাশি নিয়তও বিচার্য।
- খ্যাতি-প্রীতি আখিরাতের ক্ষতির কারণ হতে পারে।
- অহংকারমুক্ত ও সংযত পোশাক বেছে নেওয়া ভালো।
