৩১/৪৬. অধ্যায়ঃ
ভীতিকর পরিস্থিতি ও নিদ্রাহীনতা এবং তা থেকে মুক্ত হওয়ার দুআ’
সালাতে শয়তানের বাধা থেকে মুক্তির নববী শিক্ষা
সুনানে ইবনে মাজাহ : ৩৫৪৮
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ৩৫৪৮
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الأَنْصَارِيُّ، حَدَّثَنِي عُيَيْنَةُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ عُثْمَانَ بْنِ أَبِي الْعَاصِ، قَالَ لَمَّا اسْتَعْمَلَنِي رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ عَلَى الطَّائِفِ جَعَلَ يَعْرِضُ لِي شَىْءٌ فِي صَلاَتِي حَتَّى مَا أَدْرِي مَا أُصَلِّي فَلَمَّا رَأَيْتُ ذَلِكَ رَحَلْتُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فَقَالَ " ابْنُ أَبِي الْعَاصِ " . قُلْتُ نَعَمْ يَا رَسُولَ اللَّهِ . قَالَ " مَا جَاءَ بِكَ " . قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ عَرَضَ لِي شَىْءٌ فِي صَلاَتِي حَتَّى مَا أَدْرِي مَا أُصَلِّي . قَالَ " ذَاكَ الشَّيْطَانُ ادْنُهْ " . فَدَنَوْتُ مِنْهُ فَجَلَسْتُ عَلَى صُدُورِ قَدَمَىَّ . قَالَ فَضَرَبَ صَدْرِي بِيَدِهِ وَتَفَلَ فِي فَمِي وَقَالَ " اخْرُجْ عَدُوَّ اللَّهِ " . فَفَعَلَ ذَلِكَ ثَلاَثَ مَرَّاتٍ ثُمَّ قَالَ " الْحَقْ بِعَمَلِكَ " . قَالَ فَقَالَ عُثْمَانُ فَلَعَمْرِي مَا أَحْسِبُهُ خَالَطَنِي بَعْدُ .
উসমান বিন আবুল আস (রাঃ), হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে তায়েফের প্রশাসক নিযুক্ত করলেন। (সেখানে) সালাতের মধ্যে আমার সামনে কিছু বাধা আসতে লাগলো। ফলে আমার মনে থাকত না যে, আমি কত রাকাত নামাজ পড়েছি।আমার এই অবস্থা দেখে আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে সাক্ষাৎ করার জন্য রওয়ানা হলাম। তিনি (আমাকে দেখে) বলেনঃ ‘আবু আসের পুত্র নাকি?’ আমি বললাম, ‘হ্যাঁ, ইয়া রাসূলুল্লাহ (ﷺ)!’ তিনি জিজ্ঞেস করেনঃ ‘তুমি কেন এসেছ?’ আমি বললাম, ‘হে আল্লাহর রাসূল! সালাতের মধ্যে আমার সামনে কিছু বাধা আসে। ফলে আমি বলতে পারি না যে আমি কত রাকাত পড়েছি।’তিনি বলেনঃ ‘এটা শয়তান। আমার নিকট এসো।’ আমি তাঁর নিকটে হাঁটু গেড়ে বসলাম। রাবী বলেন, তিনি নিজ হাতে আমার বুকে মৃদু আঘাত করলেন এবং আমার মুখে লালা দিয়ে তিনবার বলেনঃ ‘আল্লাহর শত্রু! ভেগে যা।’ অতঃপর তিনি বলেনঃ ‘যাও নিজের কাজে যোগ দাও।’ উসমান (রাঃ) বলেন, ‘আমার জীবনের শপথ! এরপর থেকে শয়তান আমার অন্তরে আর তালগোল পাকাতে পারেনি।’
তাহকীক আলবানীঃ সহীহ
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ৩৫৪৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে উসমান ইবনু আবুল আস (রাঃ) সালাতের মধ্যে এমন বাধার কথা বলেন, যার ফলে তিনি কত রাকাত পড়েছেন তা বুঝতে পারতেন না। নবী (صلى الله عليه وسلم) বলেন, এটা শয়তান। এরপর তিনি তাকে কাছে বসান, বুকে মৃদু আঘাত করেন, মুখে লালা দেন এবং তিনবার বলেন, “আল্লাহর শত্রু! ভেগে যা।” পরে তাকে কাজে ফিরে যেতে বলেন। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর শয়তান তার অন্তরে তালগোল পাকাতে পারেনি। হাদিসের মূল শিক্ষা হলো, সালাতে অমনোযোগ বা বিভ্রান্তি হলে তা হালকাভাবে না নিয়ে আল্লাহর সাহায্য চাওয়া এবং নববী পথ অনুসরণ করা দরকার।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সালাতে অমনোযোগ ও বিভ্রান্তি মুমিনের জন্য গুরুতর বিষয়।
- সমস্যা হলে জ্ঞানী ও যোগ্য ব্যক্তির কাছে যাওয়া উচিত।
- নবীজি (صلى الله عليه وسلم) শয়তানের বাধা চিহ্নিত করে চিকিৎসা দিয়েছেন।
- ইবাদতে মনোযোগ রক্ষার জন্য আল্লাহর সাহায্য প্রয়োজন।
