৩১/৩৭. অধ্যায়ঃ
যে দুআ’ পড়ে জ্বরের ঝাড়ফুঁক করা হয়
জ্বর ও ব্যথার দোয়া: মহান আল্লাহর আশ্রয় চাওয়ার রুকইয়া
সুনানে ইবনে মাজাহ : ৩৫২৬
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ৩৫২৬
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا أَبُو عَامِرٍ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ الأَشْهَلِيُّ، عَنْ دَاوُدَ بْنِ حُصَيْنٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ كَانَ يُعَلِّمُهُمْ مِنَ الْحُمَّى وَمِنَ الأَوْجَاعِ كُلِّهَا أَنْ يَقُولُوا " بِسْمِ اللَّهِ الْكَبِيرِ أَعُوذُ بِاللَّهِ الْعَظِيمِ مِنْ شَرِّ عِرْقٍ نَعَّارٍ وَمِنْ شَرِّ حَرِّ النَّارِ " . قَالَ أَبُو عَامِرٍ أَنَا أُخَالِفُ النَّاسَ فِي هَذَا أَقُولُ يَعَّارٍ . حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الدِّمَشْقِيُّ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي فُدَيْكٍ، أَخْبَرَنِي إِبْرَاهِيمُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أَبِي حَبِيبَةَ الأَشْهَلِيُّ، عَنْ دَاوُدَ بْنِ الْحُصَيْنِ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنِ النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ نَحْوَهُ وَقَالَ " مِنْ شَرِّ عِرْقٍ نَعَّارٍ " .
ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) সাহাবীদেরকে জ্বর ও যাবতীয় ব্যথার ঝাড়ফুঁকের জন্য এ দোয়া শিক্ষা দিতেনঃ “বিসমিল্লাহিল কাবীর আউযু বিল্লাহিল আজীম মিন শাররি ইরকিন নাআরিন ওয়া মিন শাররি হাররিন নার” (মহামহিম আল্লাহর নামে মহান আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করছি, রক্তচাপে ফুলে উঠা শিরার অনিষ্ট থেকে এবং আগুনের তাপের অনিষ্ট থেকে)। আবূ আমির (রাঃ) বলেন, সবার বিপরীতে আমি ‘ইয়ার’ শব্দটি বলে থাকি। উপরোক্ত হাদীসে মোট ২টি সানাদের ১টি বর্ণিত হয়েছে, অপর সানাদটি হলোঃ ৩৫২৬(১). ইবনু আব্বাস (রাঃ) নবী (ﷺ) সূত্রে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তার শব্দ হলোঃ “মিন শাররি ইরকিন ইয়ার”।
তাহকীক আলবানীঃ দুর্বল।[৩৫২৬] তিরমিযী ২০৭৫। উক্ত হাদীসের রাবী ইবরাহীম আল-আশহালী সম্পর্কে আবূ আহমাদ আল-হাকিম বলেন, তিনি নির্ভরযোগ্য নয়। ইমাম তিরমিযী বলেন, তিনি হাদীস বর্ণনায় দুর্বল ছিলেন। আহমাদ বিন হাম্বাল বলেন, তিনি সিকাহ। আহমাদ বিন শুআয়ব আন নাসায়ী বলেন, তিনি আমাদের শহরে দুর্বল। ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি দুর্বল। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ১৪৬, ২/৪২ নং পৃষ্ঠা)]
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ৩৫২৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে নবী (صلى الله عليه وسلم) সাহাবীদের জ্বর ও যাবতীয় ব্যথার জন্য একটি রুকইয়ার দোয়া শেখাতেন। দোয়াটির শুরুতে মহামহিম আল্লাহর নাম নেওয়া হয়েছে এবং মহান আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়া হয়েছে। এরপর রক্তচাপে ফুলে ওঠা শিরার অনিষ্ট এবং আগুনের তাপের অনিষ্ট থেকে আশ্রয়ের কথা এসেছে। এখানে জ্বরের দোয়া, ব্যথার দোয়া এবং রুকইয়ার দোয়া—সবই হাদিসের ভাষার মধ্যে সীমিত। হাদিসে বর্ণনার শব্দভেদও উল্লেখ আছে, যেখানে একটি সানাদে “ইরকিন নাআর” এবং অন্য সানাদে শব্দের ভিন্নতা এসেছে। তাই এই দোয়ার ব্যাখ্যায় মূল বিষয় হলো, কষ্টের সময় আল্লাহর নাম নিয়ে তাঁর কাছে আশ্রয় চাওয়া।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- জ্বর ও ব্যথায় আল্লাহর নামে দোয়া করা শেখানো হয়েছে।
- দোয়ায় মহান আল্লাহর আশ্রয় চাওয়া হয়েছে।
- রুকইয়ার ভাষা হাদিস থেকে শেখা নিরাপদ পথ।
- বর্ণনার শব্দভেদ থাকলে হাদিসের ভাষা সতর্কতার সঙ্গে বুঝতে হয়।
