৩১/৩৬. অধ্যায়ঃ
মহানবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যে দুআ’ পড়ে ঝাড়ফুঁক করেছেন এবং তাঁকে যে দুআ’ পড়ে ঝাড়ফুঁক করা হয়েছে
জিবরীলের রুকইয়া: বদনজর ও হিংসুকের অনিষ্ট থেকে দোয়া
সুনানে ইবনে মাজাহ : ৩৫২৩
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ৩৫২৩
حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ هِلاَلٍ الصَّوَّافُ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ، عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ صُهَيْبٍ، عَنْ أَبِي نَضْرَةَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، أَنَّ جِبْرَائِيلَ، أَتَى النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فَقَالَ يَا مُحَمَّدُ اشْتَكَيْتَ قَالَ " نَعَمْ " . قَالَ بِسْمِ اللَّهِ أَرْقِيكَ مِنْ كُلِّ شَىْءٍ يُؤْذِيكَ مِنْ شَرِّ كُلِّ نَفْسٍ أَوْ عَيْنٍ أَوْ حَاسِدٍ اللَّهُ يَشْفِيكَ بِسْمِ اللَّهِ أَرْقِيكَ .
আবূ সাঈদ (রাঃ), হতে বর্ণিতঃ
জিবরীল (আঃ) নবী (ﷺ)-এর নিকট এসে বলেনঃ হে মুহাম্মাদ! আপনি কি রোগাক্রান্ত হয়েছেন? তিনি বলেনঃ হ্যাঁ। জিবরীল (আঃ) বলেন, “বিসমিল্লাহি আরকীকা মিন কুল্লি শাইইন ইউযিকা মিন শাররি কুল্লি নাফসিন আও আয়নিন আও হাসিদিন, আল্লাহু ইয়াশফিকা বিসমিল্লাহি আরকীকা” (আমি আল্লাহর নামে এমন প্রতিটি জিনিস থেকে আপনাকে ঝাড়ফুঁক করছি যা আপনাকে কষ্ট দেয়, প্রতিটি সৃষ্টিজীবের এবং প্রতিটি চোখের এবং প্রতিটি হিংসুকের অনিষ্ট থেকে আপনাকে ঝাড়ফুঁক করছি। আল্লাহ আপনাকে আরোগ্য দান করুন। আমি আল্লাহর নামে আপনাকে ঝাড়ফুঁক করছি)।
তাহকীক আলবানীঃ সহীহ
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ৩৫২৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে জিবরীল (আঃ) নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে এসে তাঁর অসুস্থতার কথা জানতে চান। নবীজি হ্যাঁ বললে জিবরীল (আঃ) আল্লাহর নামে রুকইয়া করেন। দোয়াটির মধ্যে কষ্টদায়ক জিনিস, প্রতিটি প্রাণের অনিষ্ট, চোখের অনিষ্ট এবং হিংসুকের অনিষ্ট থেকে আশ্রয়ের কথা আছে। এখানে রুকইয়ার দোয়া, বদনজর থেকে দোয়া এবং হিংসা থেকে বাঁচার দোয়া—সব একসঙ্গে এসেছে। দোয়ার শেষে বলা হয়েছে, আল্লাহ আপনাকে আরোগ্য দান করুন। এতে বোঝা যায়, রুকইয়ার শব্দের মূল শক্তি আল্লাহর নামে দোয়া ও তাঁর কাছে আশ্রয় চাওয়ার মধ্যে। হাদিসটি আমাদের অতিরিক্ত কল্পনা নয়, বরং সরাসরি দোয়ার ভাষা ধরে আমল শেখায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- রুকইয়া আল্লাহর নামে করা হয়।
- বদনজর ও হিংসুকের অনিষ্ট থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়া যায়।
- রোগ ও কষ্টে আরোগ্যের আবেদন আল্লাহর কাছে করতে হয়।
- দোয়ার ভাষায় ভরসা ও বিনয় থাকা উচিত।
