৩১/৩৬. অধ্যায়ঃ
মহানবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যে দুআ’ পড়ে ঝাড়ফুঁক করেছেন এবং তাঁকে যে দুআ’ পড়ে ঝাড়ফুঁক করা হয়েছে
রোগীর জন্য দোয়া: নবীজির শেখানো আরোগ্যের আবেদন
সুনানে ইবনে মাজাহ : ৩৫২০
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ৩৫২০
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ أَبِي الضُّحَى، عَنْ مَسْرُوقٍ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ إِذَا أَتَى الْمَرِيضَ فَدَعَا لَهُ قَالَ " أَذْهِبِ الْبَاسْ رَبَّ النَّاسْ وَاشْفِ أَنْتَ الشَّافِي لاَ شِفَاءَ إِلاَّ شِفَاؤُكَ شِفَاءً لاَ يُغَادِرُ سَقَمًا " .
আয়িশাহ (রাঃ), হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কোন রোগীর নিকট এলে তিনি এই দোয়া করতেনঃ “আযহিবিল বাসা রব্বান্ নাস ওয়াশফি আনতাশ শাফি লা শিফাউকা শিফাআন লা ইউগাদিরু সাকামান” (হে মানুষের প্রভু! ব্যাধি ও কষ্ট দূর করে দাও, রোগমুক্তি দান করো, তুমিই আরোগ্য দানকারী, তোমার আরোগ্য দানই আসল, যা কোনো রোগকেই রাখে না)।
তাহকীক আলবানীঃ সহীহ
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ৩৫২০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রোগীর জন্য দোয়া করার একটি সুন্দর নববী আদব শেখানো হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) যখন কোনো রোগীর কাছে যেতেন, তখন তিনি আল্লাহর কাছে রোগ ও কষ্ট দূর করার জন্য দোয়া করতেন। দোয়াটির মূল কথা হলো, মানুষের প্রভু আল্লাহই কষ্ট দূর করেন এবং তিনিই আসল আরোগ্যদাতা। এখানে রোগীর দোয়া, আরোগ্যের দোয়া এবং নবীজির দোয়া—এই তিনটি বিষয় পরিষ্কারভাবে দেখা যায়। হাদিসটি আমাদের শেখায়, অসুস্থ মানুষকে দেখতে যাওয়া শুধু সামাজিক কাজ নয়; তার জন্য আল্লাহর কাছে নরম ভাষায় দোয়া করাও গুরুত্বপূর্ণ। এতে রোগীর মনেও আশা আসে এবং বান্দা নিজের অক্ষমতা বুঝে আল্লাহর দিকে ফিরে যায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- রোগীর কাছে গেলে তার জন্য আল্লাহর কাছে আরোগ্যের দোয়া করা নববী আদব।
- আরোগ্যকে আল্লাহর দান হিসেবে মানা উচিত।
- দোয়ায় রোগ ও কষ্ট দূর করার আবেদন করা যায়।
- রোগীর পাশে থাকা ও তার জন্য ভালো কথা বলা সুন্দর কাজ।
