৩১/১৫. অধ্যায়ঃ
ক্ষত বা জখমের চিকিৎসা
উহুদের ক্ষত সেবা: আলী ও ফাতিমা (রাঃ)-এর ভূমিকা
সুনানে ইবনে মাজাহ : ৩৪৬৫
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ৩৪৬৫
حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي فُدَيْكٍ، عَنْ عَبْدِ الْمُهَيْمِنِ بْنِ عَبَّاسِ بْنِ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ السَّاعِدِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، قَالَ إِنِّي لأَعْرِفُ يَوْمَ أُحُدٍ مَنْ جَرَحَ وَجْهَ رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ وَمَنْ كَانَ يُرْقِئُ الْكَلْمَ مِنْ وَجْهِ رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ وَيُدَاوِيهِ وَمَنْ يَحْمِلُ الْمَاءَ فِي الْمِجَنِّ وَبِمَا دُووِيَ بِهِ الْكَلْمُ حَتَّى رَقَأَ . قَالَ أَمَّا مَنْ كَانَ يَحْمِلُ الْمَاءَ فِي الْمِجَنِّ فَعَلِيٌّ وَأَمَّا مَنْ كَانَ يُدَاوِي الْكَلْمَ فَفَاطِمَةُ أَحْرَقَتْ لَهُ حِينَ لَمْ يَرْقَأْ قِطْعَةَ حَصِيرٍ خَلَقٍ فَوَضَعَتْ رَمَادَهُ عَلَيْهِ فَرَقَأَ الْكَلْمُ .
সাহল বিন সা’দ আস-সাইদী (রাঃ), হতে বর্ণিতঃ
আমি ভালো করেই চিনি যে, উহুদ যুদ্ধের দিন কে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর মুখমণ্ডল জখম করেছিল, কে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর জখম ধুয়েছিল এবং তাতে ঔষধ লাগিয়েছিল, কে ঢালে করে পানি বয়ে এনেছিলেন, কিসের দ্বারা জখমে প্রলেপ দেয়া হয়েছিল যার ফলে রক্তক্ষরণ বন্ধ হয়েছিল। অতএব যিনি ঢালে করে পানি বয়ে এনেছিলেন তিনি হলেন আলী (রাঃ), যিনি জখমের চিকিৎসা করেছিলেন তিনি হলেন ফাতিমা (রাঃ)। রক্ত বন্ধ না হলে তিনি তাঁর জন্য এক টুকরা পুরানো চাটাই পোড়ালেন এবং তার ছাই তাঁর জখমের মধ্যে ঢুকিয়ে দিলেন, ফলে রক্তক্ষরণ বন্ধ হয়ে গেল।
তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ৩৪৬৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে উহুদের দিনের ক্ষত সেবার বিবরণ আরও পরিষ্কারভাবে এসেছে। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি জানেন কে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর মুখমণ্ডল জখম করেছিল, কে ক্ষত ধুয়েছিল, কে ঢালে করে পানি এনেছিল এবং কী দিয়ে ক্ষতে প্রলেপ দেওয়া হয়েছিল। এরপর তিনি বলেন, আলী (রাঃ) ঢালে পানি এনেছিলেন এবং ফাতিমা (রাঃ) ক্ষতের চিকিৎসা করেছিলেন। রক্ত বন্ধ না হলে তিনি পুরোনো চাটাই পোড়ান এবং তার ছাই ক্ষতে দেন। এতে রক্তক্ষরণ থেমে যায়। এই হাদিসে সাহাবিদের সেবার মানসিকতা, পরিবারের মমতা এবং বিপদের সময় বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়ার শিক্ষা আছে। ব্যাখ্যাটি সরাসরি ঘটনার মধ্যেই সীমিত। এতে আরও বোঝা যায়, নবীজির চারপাশের সাহাবিরা বিপদের মুহূর্তে দায়িত্ব ভাগ করে কাজ করতেন এবং চিকিৎসার চেষ্টা চালিয়ে যেতেন।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সঙ্কটে আহত ব্যক্তির পাশে দাঁড়ানো গুরুত্বপূর্ণ।
- আলী (রাঃ) ও ফাতিমা (রাঃ)-এর সেবা আন্তরিকতার উদাহরণ।
- রক্ত বন্ধ না হলে নতুন উপায় গ্রহণ করা হয়েছিল।
- হাদিসে ঘটনার বর্ণনা থেকে চিকিৎসা ও সেবার শিক্ষা পাওয়া যায়।
