৩১/৪. অধ্যায়ঃ
তোমরা রোগীকে জোরপূর্বক খাওয়াবে না
রোগীকে খাবার খেতে জোর না করার হাদিস
সুনানে ইবনে মাজাহ : ৩৪৪৪
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ৩৪৪৪
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا بَكْرُ بْنُ يُونُسَ بْنِ بُكَيْرٍ، عَنْ مُوسَى بْنِ عَلِيِّ بْنِ رَبَاحٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ الْجُهَنِيِّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ " لاَ تُكْرِهُوا مَرْضَاكُمْ عَلَى الطَّعَامِ وَالشَّرَابِ فَإِنَّ اللَّهَ يُطْعِمُهُمْ وَيَسْقِيهِمْ " .
উকবাহ বিন আমির আল-জুহানী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা তোমাদের রোগীকে পানাহার করতে পীড়াপীড়ি করবে না। কেননা আল্লাহ তাদের পানাহার করান।
তাহকীক আলবানীঃ হাসান।[৩৪৪৪] তিরমিযী ২০৪০, সহীহাহ ৭২৭, মিশকাত ৪৫৩৩। উক্ত হাদিসের রাবী- ১. বাকর বিন ইউনুস বিন বুকায়র সম্পর্কে আবু আহমাদ বিন আদী আল-জুরজানী বলেন, তার হাদিসের অনুসরণ করা যাবে না। আবু হাতিম আর রাযী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। আহমাদ বিন সালিহ আল-জায়লী বলেন, তার হাদিস বর্ণনায় কোন সমস্যা নেই। ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি দুর্বল। ইমাম যাহাবী তাকে দুর্বল হিসেবে উল্লেখ করেছেন। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং- ৭৫৯, ৪/২৩২ নং পৃষ্ঠা)। ২. মূসা বিন আলী বিন রাবাহ সম্পর্কে আবু হাতিম আর রাযী বলেন, তিনি একজন সালিহ ব্যক্তি ছিলেন। আবু হাতিম বিন হিব্বান তার সিকাহ গ্রন্থে তার নাম উল্লেখ করেছেন। ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় কখনো কখনো ভুল করেন। ইবনু আবদুল বার্র আল-আন্দালসী বলেন, তিনি এককভাবে হাদিস বর্ণনা করলে সেক্ষেত্রে তিনি নির্ভরযোগ্য নয়। ইমাম বুখারী বলেন, তিনি সিকাহ। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং- ৬২৮৪, ২৯/১২২ নং পৃষ্ঠা)।
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ৩৪৪৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) স্পষ্টভাবে বলেছেন, রোগীকে খাবার ও পানীয় খেতে বাধ্য করা যাবে না। অসুস্থ মানুষ অনেক সময় খাবারের স্বাদ পায় না, ক্ষুধা কমে যায় বা শরীর দুর্বল থাকে। তাই তার ওপর চাপ দেওয়া ঠিক নয়। হাদিসে বলা হয়েছে, আল্লাহ তাদের পানাহার করান। এর অর্থ হলো, রোগীর ব্যাপারে দয়া, ধৈর্য ও আল্লাহর ওপর ভরসা রাখতে হবে। রোগীর সেবা অবশ্যই দরকার, কিন্তু সেবা যেন কষ্টের কারণ না হয়। পরিবারের লোকেরা ভালো চেয়ে অনেক সময় জোর করে, কিন্তু নববী আদব হলো—রোগীর অবস্থা বুঝে কথা বলা, প্রয়োজন হলে নরমভাবে উৎসাহ দেওয়া, কিন্তু পীড়াপীড়ি না করা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- রোগীকে খাবার বা পানীয়ের জন্য জোর করা উচিত নয়।
- রোগীর সেবায় দয়া ও ধৈর্য দরকার।
- ভালো নিয়ত থাকলেও পীড়াপীড়ি রোগীর কষ্ট বাড়াতে পারে।
- রোগীর ব্যাপারে আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা মুমিনের আচরণ।
