৩১/৩. অধ্যায়ঃ
হুমিয়্যা (রোগীর পথ্য)
চোখ উঠলে খাবারে সতর্কতা ও নবীজির মুচকি হাসি
সুনানে ইবনে মাজাহ : ৩৪৪৩
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ৩৪৪৩
حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَبْدِ الْوَهَّابِ، حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا ابْنُ الْمُبَارَكِ، عَنْ عَبْدِ الْحَمِيدِ بْنِ صَيْفِيٍّ، - مِنْ وَلَدِ صُهَيْبٍ - عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، صُهَيْبٍ قَالَ قَدِمْتُ عَلَى النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ وَبَيْنَ يَدَيْهِ خُبْزٌ وَتَمْرٌ فَقَالَ النَّبِيُّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ " ادْنُ فَكُلْ " . فَأَخَذْتُ آكُلُ مِنَ التَّمْرِ فَقَالَ النَّبِيُّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ " تَأْكُلُ تَمْرًا وَبِكَ رَمَدٌ " . قَالَ فَقُلْتُ إِنِّي أَمْضُغُ مِنْ نَاحِيَةٍ أُخْرَى . فَتَبَسَّمَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ .
দাদা (সুহায়ব বিন সিনান) (রাঃ), হতে বর্ণিতঃ
আমি নবী (ﷺ) এর নিকট উপস্থিত হলাম। তাঁর সামনে ছিল রুটি ও খেজুর। নবী (ﷺ) বলেন, “কাছে এসো এবং খাও।” আমি খেজুর থেকে খেতে শুরু করলাম। নবী (ﷺ) বলেন, “তুমি খেজুর খাচ্ছো, তোমার তো চোখ উঠেছে।” আমি বললাম, “আমি অপর পাশ দিয়ে চিবাচ্ছি।” এ কথায় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মুচকি হাসলেন।
তাহকীক আলবানীঃ হাসান।৩৪৪৩. হাদিসটি ইমাম ইবনু মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন।
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ৩৪৪৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে সুহাইব (রাঃ) নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে এলেন। সামনে রুটি ও খেজুর ছিল। নবী (صلى الله عليه وسلم) তাকে কাছে ডেকে খেতে বললেন। তিনি খেজুর খেতে শুরু করলে নবী (صلى الله عليه وسلم) মনে করিয়ে দিলেন যে তার চোখ উঠেছে। এটি ছিল রোগীর অবস্থা দেখে খাবারে সতর্ক করার একটি কোমল পদ্ধতি। সুহাইব (রাঃ) বললেন, তিনি অন্য পাশ দিয়ে চিবাচ্ছেন। এ কথায় রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) মুচকি হাসলেন। হাদিসের সৌন্দর্য হলো, সতর্কতাও নরমভাবে বলা যায়। রোগীকে লজ্জা না দিয়ে, রাগ না করে, তার অবস্থার দিকে খেয়াল রেখে কথা বলা উচিত। এখানে রোগী সেবা, খাবার সতর্কতা এবং সুন্দর আচরণ একসাথে এসেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- অসুস্থ মানুষের খাবার নিয়ে নরমভাবে সতর্ক করা যায়।
- রোগীর সামনে হাসিমুখ আচরণ তার মন হালকা করতে পারে।
- খাবার দেওয়ার সময় রোগীর শারীরিক অবস্থা খেয়াল রাখা দরকার।
- ভুল ধরিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রেও কোমল ভাষা ব্যবহার করা ভালো।
