৩০/২৫. অধ্যায়ঃ
আঁজলা ভরে পানি পান করা এবং পানিতে মুখ লাগিয়ে পান করা
মুখ ডুবিয়ে পানি পান নিষেধ: পান করার সতর্ক আদব
সুনানে ইবনে মাজাহ : ৩৪৩১
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ৩৪৩১
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُصَفَّى الْحِمْصِيُّ، حَدَّثَنَا بَقِيَّةُ، عَنْ مُسْلِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ زِيَادِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ زَيْدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، قَالَ نَهَانَا رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ أَنْ نَشْرَبَ عَلَى بُطُونِنَا وَهُوَ الْكَرْعُ وَنَهَانَا أَنْ نَغْتَرِفَ بِالْيَدِ الْوَاحِدَةِ وَقَالَ " لاَ يَلَغْ أَحَدُكُمْ كَمَا يَلَغُ الْكَلْبُ وَلاَ يَشْرَبْ بِالْيَدِ الْوَاحِدَةِ كَمَا يَشْرَبُ الْقَوْمُ الَّذِينَ سَخِطَ اللَّهُ عَلَيْهِمْ وَلاَ يَشْرَبْ بِاللَّيْلِ مِنْ إِنَاءٍ حَتَّى يُحَرِّكَهُ إِلاَّ أَنْ يَكُونَ إِنَاءً مُخَمَّرًا وَمَنْ شَرِبَ بِيَدِهِ وَهُوَ يَقْدِرُ عَلَى إِنَاءٍ يُرِيدُ التَّوَاضُعَ كَتَبَ اللَّهُ لَهُ بِعَدَدِ أَصَابِعِهِ حَسَنَاتٍ وَهُوَ إِنَاءُ عِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ عَلَيْهِمَا السَّلاَمُ إِذْ طَرَحَ الْقَدَحَ فَقَالَ أُفٍّ هَذَا مَعَ الدُّنْيَا " .
আবদুল্লাহ বিন উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদেরকে উপুড় হয়ে (পাত্রের মধ্যে মুখ ডুবিয়ে) পানি পান করতে নিষেধ করেছেন।তিনি আমাদেরকে এক হাতের আঁজলা ভরে পানি পান করতেও নিষেধ করেছেন এবং বলেছেন: তোমাদের কেউ যেন কুকুরের মত পানিতে মুখ দিয়ে পান না করে, এক হাতেও যেন পানি পান না করে, যেমন একদল লোক পান করে থাকে, যাদের প্রতি আল্লাহ তাআলা অসন্তুষ্ট; রাতের বেলা পানপাত্র আন্দোলিত না করে যেন পানি পান না করে। তবে পাত্র আবৃত অবস্থায় থাকলে ভিন্ন কথা।যে ব্যক্তি পাত্র থেকে পান করার সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও হাত দিয়ে পানি পান করে এবং এর দ্বারা বিনয় ও নম্রতা প্রকাশ তার উদ্দেশ্য, তবে আল্লাহ তাআলা তার আঙুলের সমপরিমাণ পুণ্য তার আমলনামায় লিখে দিবেন।কারণ হাত হচ্ছে ঈসা বিন মরিয়ম (আঃ)-এর পানপাত্র, যখন তিনি পানপাত্র ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে বলেছিলেন: আফসোস! এটাও পার্থিব উপকরণ।
তাহকীক আলবানীঃ দুর্বল।[৩৪৩১] হাদিসটি ইমাম ইবনু মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন। যইফাহ ২১৬৭, যইফ আল-জামি' ৬৩৭০। তাহকীক আলবানীঃ যইফ। উক্ত হাদিসের রাবী মুহাম্মাদ ইবনুল মুসাফফা আল-হিমসী সম্পর্কে আবু হাতিম আর-রাযী ও ইমাম নাসাঈ বলেন, তিনি সত্যবাদী। ইবনু হিব্বান তাকে সিকাহ বললেও অন্যত্র বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন। ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় সন্দেহ ও তাদলীস করেন। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৫৬১৩, ২৬/৪৬৫ নং পৃষ্ঠা) ২. মুসলিম বিন আবদুল্লাহ সম্পর্কে ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি মাজহুল বা অপরিচিত। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৫৯৩৪, ২৭/৫২৫ নং পৃষ্ঠা)
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ৩৪৩১-এর সারসংক্ষেপ
মূল বিষয়: পান করার আদব। এই হাদিসে একাধিক নির্দেশ এসেছে। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) উপুড় হয়ে, অর্থাৎ পাত্রের মধ্যে মুখ ডুবিয়ে পানি পান করতে নিষেধ করেছেন। এক হাতের আঁজলা ভরে পান করতেও নিষেধের কথা এসেছে। তিনি বলেছেন, কেউ যেন কুকুরের মতো পানিতে মুখ দিয়ে পান না করে। রাতের বেলা পানপাত্র নাড়াচাড়া না করে পান করতেও নিষেধ করা হয়েছে, তবে পাত্র আবৃত থাকলে ভিন্ন কথা বলা হয়েছে। এরপর হাদিসে বিনয় প্রকাশের উদ্দেশ্যে হাতে পানি পান করার প্রসঙ্গও এসেছে। এই বর্ণনাটি দীর্ঘ, তাই ব্যাখ্যায় প্রতিটি অংশকে আলাদা করে দেখা দরকার। মূল শিক্ষা হলো: পান করার সময় অসতর্ক, অগোছালো বা প্রাণীর মতো আচরণ করা উচিত নয়। পাত্র, হাত, রাতের পানি—সব বিষয়ে সাবধানতা ও আদব রাখা দরকার।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- পাত্রে মুখ ডুবিয়ে বা কুকুরের মতো পানি পান করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
- রাতে পানির পাত্র ব্যবহার করলে আগে নাড়াচাড়া বা সতর্কতা নেওয়ার কথা এসেছে।
- পান করার সময় বিনয়, পরিচ্ছন্নতা ও শালীনতা বজায় রাখা দরকার।
- দীর্ঘ হাদিস বুঝতে প্রতিটি নির্দেশ আলাদা করে দেখা উচিত।
