৩০/১৪. অধ্যায়ঃ
উপরোক্ত পাত্রগুলোতে নাবীয তৈরী করার অনুমতি
পাত্র নয়, নেশাই মূল নিষেধ: সব নেশাকর দ্রব্য হারাম
সুনানে ইবনে মাজাহ : ৩৪০৬
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ৩৪০৬
حَدَّثَنَا يُونُسُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، أَنْبَأَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، عَنْ أَيُّوبَ بْنِ هَانِئٍ، عَنْ مَسْرُوقِ بْنِ الأَجْدَعِ، عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ " إِنِّي كُنْتُ نَهَيْتُكُمْ عَنْ نَبِيذِ الأَوْعِيَةِ أَلاَ وَإِنَّ وِعَاءً لاَ يُحَرِّمُ شَيْئًا كُلُّ مُسْكِرٍ حَرَامٌ " .
ইবনু মাসঊদ (রাঃ), হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, আমি কতকগুলো পাত্রে নাবীয তৈরী করতে তোমাদের নিষেধ করেছিলাম। জেনে রাখো! পাত্র কোনো জিনিসকে হারাম করে না। তবে সকল নেশাকর দ্রব্যই হারাম।
তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।[৩৪০৬] হাদিসটি ইমাম ইবনু মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবী আয়্যুব বিন হানী সম্পর্কে আবু আহমাদ বিন আদী আল-জুরজানী বলেন, তার পরিচয় সম্পর্কে আমার জানা নেই। ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস গ্রহনে শিথিল। ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৬৩০, ৩/৫০১ নং পৃষ্ঠা)
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ৩৪০৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, তিনি আগে কিছু পাত্রে নাবীয তৈরি করতে নিষেধ করেছিলেন। এরপর তিনি পরিষ্কার করে বলেন, পাত্র কোনো জিনিসকে হারাম করে না; তবে সব নেশাকর দ্রব্যই হারাম। এই বর্ণনা খুব গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এখানে মূল নীতিটি স্পষ্ট করা হয়েছে। কোনো পানীয়ের হারাম হওয়া শুধু পাত্রের কারণে নয়, বরং নেশা সৃষ্টির কারণে। তাই “পাত্র হারাম করে না”, “সব নেশাকর দ্রব্য হারাম” এবং “নাবীযের বিধান” এই হাদিসের মূল বিষয়। সহজভাবে বললে, মুসলিমের সতর্কতা হওয়া উচিত এমন পানীয় থেকে, যা নেশা তৈরি করে। হাদিসের ভাষা ভারসাম্যপূর্ণ: পাত্রের কথা এসেছে, কিন্তু শেষ নির্দেশ নেশা থেকে দূরে থাকা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- পাত্র নিজে কোনো জিনিসকে হারাম করে না।
- সব নেশাকর দ্রব্য হারাম বলা হয়েছে।
- পানীয়ের ক্ষেত্রে নেশা সৃষ্টি হওয়াই মূল সতর্কতার বিষয়।
