২৯/৫. অধ্যায়ঃ
আহার করার পূর্বে উযু করা
খাবারের আগে ওজু: নবীজির সহজ ও ভারসাম্যপূর্ণ শিক্ষা
সুনানে ইবনে মাজাহ : ৩২৬১
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ৩২৬১
حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ مُسَافِرٍ، حَدَّثَنَا صَاعِدُ بْنُ عُبَيْدٍ الْجَزَرِيُّ، حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ مُعَاوِيَةَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جُحَادَةَ، حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ دِينَارٍ الْمَكِّيُّ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ أَنَّهُ خَرَجَ مِنَ الْغَائِطِ فَأُتِيَ بِطَعَامٍ فَقَالَ رَجُلٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَلاَ آتِيكَ بِوَضُوءٍ قَالَ " أُرِيدُ الصَّلاَةَ " .
আবূ হুরায়রাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আবু হুরাইরা (রাঃ) কর্তৃক রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট থেকে বর্ণিত। তিনি পায়খানা থেকে বেরিয়ে আসলে তাঁর জন্য খাবার পেশ করা হলো। এক ব্যক্তি বললো, হে আল্লাহর রাসূল! আমি কি আপনার জন্য উযুর পানি নিয়ে আসব না? তিনি বলেনঃ আমি কি নামাজ পড়তে চাচ্ছি?
[৩২৬১] হাদিসটি ইমাম ইবনু মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন। আত তা’লীকুর রাগীব ৩/১২৯। উক্ত হাদীসের রাবী জা’ফার বিন মুসাফির সম্পর্কে আবূ হাতিম বিন হিব্বান বলেন, তিনি হাদীস বর্ণনায় কখনো কখনো ভুল করেন। আহমাদ বিন শুআয়ব আন নাসায়ী বলেন, তিনি সালিহ। ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি সত্যবাদী, তবে হাদীস বর্ণনায় কখনো কখনো ভুল করেন। ইমাম যাহাবী বলেন, তিনি সত্যবাদী। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৯৫৫, ৫/১০৮ নং পৃষ্ঠা)
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ৩২৬১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে দেখা যায়, রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) পায়খানা থেকে বের হওয়ার পর তাঁর সামনে খাবার পেশ করা হলো। একজন ব্যক্তি ভদ্রভাবে জানতে চাইলেন, তিনি কি উযুর পানি এনে দেবেন? উত্তরে নবীজি বললেন, “আমি কি নামাজ পড়তে চাচ্ছি?” এই সংক্ষিপ্ত কথায় আহারের আদব নিয়ে একটি সহজ শিক্ষা পাওয়া যায়। খাবারের সময় পরিচ্ছন্নতা ভালো বিষয়, কিন্তু এই বর্ণনায় নবীজি বুঝিয়েছেন যে সালাতের জন্য ওজুর আলাদা গুরুত্ব আছে। তাই খাবারের ক্ষেত্রে অযথা কঠোরতা তৈরি করা ঠিক নয়। ইসলামের সৌন্দর্য হলো, এটি ইবাদত ও সাধারণ কাজ—দুটির স্থান আলাদা করে বুঝতে শেখায়। এতে বোঝা যায়, নবীজি প্রশ্নের জবাবে সহজ ভাষায় বিষয়টি পরিষ্কার করেছেন। তাই খাবারের সময় পরিচ্ছন্নতা রাখা ভালো হলেও সালাতের ওজুর সঙ্গে এক করে কঠোরতা বানানো উচিত নয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সালাতের জন্য ওজুর বিশেষ গুরুত্ব আছে।
- খাবারের আদবে সহজতা রাখা উচিত।
- ভালো উদ্দেশ্যে প্রশ্ন করা যায়, তবে নবীজির জবাব থেকে ভারসাম্য শেখা দরকার।
