২৬/১০. অধ্যায়ঃ
যে ব্যক্তি তার গোটা পরিবারের পক্ষ থেকে একটিমাত্র বকরী কোরবানী করে
পরিবারের পক্ষ থেকে একটি ছাগল কোরবানি: সুন্নাহর সরল শিক্ষা
সুনানে ইবনে মাজাহ : ৩১৪৭
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ৩১৪৭
حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي فُدَيْكٍ، حَدَّثَنِي الضَّحَّاكُ بْنُ عُثْمَانَ، عَنْ عُمَارَةَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ صَيَّادٍ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، قَالَ سَأَلْتُ أَبَا أَيُّوبَ الأَنْصَارِيَّ كَيْفَ كَانَتِ الضَّحَايَا فِيكُمْ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ كَانَ الرَّجُلُ فِي عَهْدِ النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يُضَحِّي بِالشَّاةِ عَنْهُ وَعَنْ أَهْلِ بَيْتِهِ فَيَأْكُلُونَ وَيُطْعِمُونَ ثُمَّ تَبَاهَى النَّاسُ فَصَارَ كَمَا تَرَى .
আতা’ ইয়াসার বলেন হতে বর্ণিতঃ
আমি আবূ আইউব আনসারি (রাঃ) এর নিকট জিজ্ঞাসা করলাম, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর যুগে আপনাদের কোরবানি কেমন ছিল? তিনি বলেন, নবী (ﷺ) এর যুগে কোনো ব্যক্তি নিজের ও স্বীয় পরিবারের পক্ষ থেকে একটি ছাগল কোরবানি করতো। তা থেকে তারাও আহার করতো এবং (অন্যদেরও) আহার করাতো। পরবর্তী কালে লোকেরা কোরবানি को অহংকার প্রকাশের বিষয়ে পরিণত করে এবং এখন যা অবস্থা দাঁড়িয়েছে তা তো দেখতেই পাচ্ছ।
[৩১৪৭] তিরমিযী ১৫০৫, ইরওয়া ১১৪২। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবী দাহহাক বিন উসমান সম্পর্কে আবুল কাসিম বিন বিশকাওয়াল বলেন, তিনি দুর্বল। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তার থেকে হাদিস গ্রহন করা যায় তবে তা দলীল হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়, তিনি সত্যবাদী। আবু যুরআহ আর-রাযী বলেন, তিনি নির্ভরযোগ্য নয়। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তিনি সিকাহ। ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় সন্দেহ করেন। ইবনু আবদুল বার আল-আনাদালাসী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় অধিক ভুল করেন, তার হাদিস দলীলযোগ্য নয়। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ২৯২২, ১৩/২৭২ নং পৃষ্ঠা)
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ৩১৪৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আবূ আইউব আনসারি (রাঃ) নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর যুগের কোরবানির অবস্থা বলেছেন। তখন একজন ব্যক্তি নিজের ও পরিবারের পক্ষ থেকে একটি ছাগল কোরবানি করতেন। তারা সেই গোশত খেতেন এবং অন্যদেরও খাওয়াতেন। পরে মানুষের মধ্যে অহংকার প্রকাশের প্রবণতা দেখা দেয়—এ কথাও তিনি উল্লেখ করেছেন। এই হাদিস কোরবানির আসল রূপকে সহজভাবে সামনে আনে। কোরবানি শুধু বড় পশু, বেশি সংখ্যা বা সামাজিক দেখানোর বিষয় নয়। পরিবারের পক্ষ থেকে কোরবানি, গোশত খাওয়া ও অন্যকে খাওয়ানো—এসবই এখানে এসেছে। হাদিসটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়, কোরবানির ইবাদতে আন্তরিকতা ও সরলতা গুরুত্বপূর্ণ। অহংকার বা প্রতিযোগিতার মনোভাব কোরবানির সৌন্দর্য কমিয়ে দিতে পারে। এতে কোরবানির মূল উদ্দেশ্য মানুষের সামনে নয়, আল্লাহর সন্তুষ্টির দিকে ফিরিয়ে দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নবীজির যুগে একজন ব্যক্তি নিজের ও পরিবারের পক্ষ থেকে একটি ছাগল কোরবানি করতেন।
- কোরবানির গোশত নিজে খাওয়া ও অন্যকে খাওয়ানোর শিক্ষা আছে।
- কোরবানিকে অহংকার বা দেখানোর বিষয়ে পরিণত করা উচিত নয়।
