২৬/১. অধ্যায়ঃ
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর কোরবানী
কুরবানির দোয়া: আল্লাহর জন্য নিবেদন করার সুন্দর শিক্ষা
সুনানে ইবনে মাজাহ : ৩১২১
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ৩১২১
حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَيَّاشٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، عَنْ أَبِي عَيَّاشٍ الزُّرَقِيِّ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ ضَحَّى رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَوْمَ عِيدٍ بِكَبْشَيْنِ فَقَالَ حِينَ وَجَّهَهُمَا " إِنِّي وَجَّهْتُ وَجْهِيَ لِلَّذِي فَطَرَ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضَ حَنِيفًا وَمَا أَنَا مِنَ الْمُشْرِكِينَ إِنَّ صَلاَتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَاىَ وَمَمَاتِي لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ لاَ شَرِيكَ لَهُ وَبِذَلِكَ أُمِرْتُ وَأَنَا أَوَّلُ الْمُسْلِمِينَ اللَّهُمَّ مِنْكَ وَلَكَ عَنْ مُحَمَّدٍ وَأُمَّتِهِ " .
জাবির বিন আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ঈদের দিন দু’টি মেষ যবেহ করেন। তিনি পশু দু’টিকে কেবলামুখী করে বলেনঃإِنِّي وَجَّهْتُ وَجْهِيَ لِلَّذِي فَطَرَ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضَ حَنِيفًا وَمَا أَنَا مِنَ الْمُشْرِكِينَ إِنَّ صَلاَتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَاىَ وَمَمَاتِي لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ لاَ شَرِيكَ لَهُ وَبِذَلِكَ أُمِرْتُ وَأَنَا أَوَّلُ الْمُسْلِمِينَ اللَّهُمَّ مِنْكَ وَلَكَ عَنْ مُحَمَّدٍ وَأُمَّتِهِ“ইন্নী ওয়াজ্জাহতু ওয়াজহিয়া লিল্লাযী ফাতারাস সামাওয়াতি ওয়াল-আরদা হানীফাঁও ওয়ামা আনা মিনাল মুশরিকীন। ইন্না সালাতী ওয়া নুসুকী ওয়া মাহইয়াকা ও মামাতী লিল্লাহি রব্বিল আলামীন। লা শরীক লাহু ওয়া বিযালিকা উমিরতু ওয়া আনা আওয়ালুল মুসলিমীন। আল্লাহুম্মা মিনকা ওয়া লাকা আন মুহাম্মাদিন ওয়া উম্মাতিহি।”“আমি একনিষ্ঠভাবে তাঁর দিকে মুখ ফিরাচ্ছি যিনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন এবং আমি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত নই” (সূরা আনআম: ৭৯)।“বলো, আমার নামাজ, আমার ইবাদত (কুরবানি), আমার জীবন, আমার মৃত্যু বিশ্বজাহানের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। তাঁর কোনো শরীক নেই এবং আমি তাই আদিষ্ট হয়েছি এবং আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে আমিই প্রথম” (সূরা আনআম: ১৬২-৩)।হে আল্লাহ! তোমার নিকট থেকেই প্রাপ্ত এবং তোমার জন্যই উৎসর্গিত। অতএব তা মুহাম্মদ ও তাঁর উম্মতের পক্ষ থেকে কবুল করো”।
[৩১২১] তিরমিযী ১৫২১, আবূ দাউদ ২৭৯৫, ২৮১০, আহমাদ ১৪৪২৩, ১৪৪৭৭, ১৪৬০৪, দারেমী ১৯৪৬, মিশকাত ১৪৬১, যইফ আবু দাউদ ৪৮৯। তাহকীক আলবানীঃ যইফ। উক্ত হাদিসের রাবী ১. ইসমাঈল বিন আয়্যাশ সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, আহলে শাম থেকে হাদিস বর্ণনায় কোন সমস্যা নেই। আলী ইবনুল মাদীনী, ইবনু আবু শায়বাহ, আমর ইবনুল ফাল্লাস ও দুহায়ম বলেন, শাম শহর থেকে হাদিস বর্ণনায় তিনি সিকাহ কিন্তু অন্য শহর থেকে হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৪৭২, ৩/১৬৩ নং পৃষ্ঠা) ২. মুহাম্মাদ বিন ইসহাক সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন ও আজালী বলেন, তিনি সিকাহ। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তিনি হাসানুল হাদিস। আলী ইবনুল মাদীনী বলেন, তিনি সালিহ। সুলায়মান বিন তারখান ও সুলায়মান বিন মিহরান বলেন, তিনি মিথ্যুক। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি আমার নিকট হাদিস বর্ণনায় নির্ভরযোগ্য নয়, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৫০৫৭, ২৪/৪০৫ নং পৃষ্ঠা)
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ৩১২১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে কুরবানির দোয়া এবং কুরবানির নিয়ত সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা আছে। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم ঈদের দিন দুটি মেষ যবেহ করেন এবং পশু দুটিকে কেবলামুখী করেন। এরপর তিনি আল্লাহর একত্ব, নিজের নামাজ, কুরবানি, জীবন ও মৃত্যু আল্লাহর জন্য হওয়ার কথা বলেন। শেষে তিনি বলেন, হে আল্লাহ! এটি তোমার কাছ থেকেই প্রাপ্ত এবং তোমার জন্যই উৎসর্গিত; মুহাম্মদ ও তাঁর উম্মতের পক্ষ থেকে কবুল করো। এই কথাগুলো কুরবানির মূল ভাব বুঝিয়ে দেয়। কুরবানি লোক দেখানোর কাজ নয়; এটি আল্লাহর জন্য নিবেদন। কুরবানির পশু, কুরবানির দোয়া এবং কুরবানির নিয়ত—সবকিছুতেই তাওহীদ ও আল্লাহর প্রতি সমর্পণ প্রকাশ পায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কুরবানির আগে নিয়ত ও আল্লাহর জন্য উৎসর্গের কথা মনে রাখা দরকার।
- কুরবানির পশু কেবলামুখী করা নবীজির আমলে এসেছে।
- কুরবানির দোয়ায় তাওহীদ ও আল্লাহর প্রতি আত্মসমর্পণের শিক্ষা আছে।
- ইবাদত, জীবন ও মৃত্যু আল্লাহর জন্য—এ বিশ্বাস কুরবানির মূল শিক্ষা।
