২৫/৫৮. অধ্যায়ঃ
আরাফাত থেকে প্রত্যাবর্তন
আরাফাত থেকে প্রত্যাবর্তন: কুরআনের নির্দেশ ও কুরাইশদের ধারণা সংশোধন
সুনানে ইবনে মাজাহ : ৩০১৮
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ৩০১৮
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ أَنْبَأَنَا الثَّوْرِيُّ عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ قَالَتْ قُرَيْشٌ نَحْنُ قَوَاطِنُ الْبَيْتِ لَا نُجَاوِزُ الْحَرَمَ فَقَالَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ { ثُمَّ أَفِيضُوا مِنْ حَيْثُ أَفَاضَ النَّاسُ
আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
কুরাইশরা বলল, আমরা তো বায়তুল্লাহর অধিবাসী। তাই আমরা হারামের বাইরে যাই না (আরাফাত হারামের সীমার বাইরে হওয়ায় তারা আরাফাতে যেত না)। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ বলেনঃ “অতঃপর অন্যান্য লোক যেখান থেকে প্রত্যাবর্তন করে, তোমরাও সেখান থেকে প্রত্যাবর্তন কর।” (সূরা বাকারা: ১৯৯)।
তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।[৩০১৮] সহীহুল বুখারী ১৬৬৫, ৪৫২০, মুসলিম ১২১৯, তিরমিযী ৮৮৪, নাসায়ী ৩০১২, আবূ দাউদ ১৯১০। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ৩০১৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আয়িশা (রাঃ) বলেন, কুরাইশরা বলত, তারা বায়তুল্লাহর অধিবাসী, তাই হারামের বাইরে যাবে না। আরাফাত হারামের সীমার বাইরে হওয়ায় তারা সেখানে যেত না—এ কথা অনুবাদে ব্যাখ্যা হিসেবে এসেছে। এ প্রসঙ্গে আল্লাহর বাণী নাজিল হয়: “অতঃপর অন্যান্য লোক যেখান থেকে প্রত্যাবর্তন করে, তোমরাও সেখান থেকে প্রত্যাবর্তন কর।” হাদিসটির মূল বিষয় হলো আরাফাত থেকে প্রত্যাবর্তন, কুরআনের নির্দেশ এবং নিজেদের বিশেষ মর্যাদার নামে আলাদা পথ না নেওয়া। এটি হজ্জের আমলে ঐক্য ও অনুসরণের শিক্ষা দেয়। আল্লাহর নির্দেশ এলে নিজের সামাজিক পরিচয় বা পুরোনো ধারণাকে পাশে রেখে সঠিক আমল গ্রহণ করা দরকার।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কুরাইশদের হারামের বাইরে না যাওয়ার ধারণা এই বর্ণনায় এসেছে।
- কুরআনের নির্দেশ হলো, মানুষ যেখান থেকে প্রত্যাবর্তন করে সেখান থেকেই প্রত্যাবর্তন করা।
- হজ্জে আলাদা মর্যাদার দাবি করে সাধারণ আমল ছেড়ে দেওয়া ঠিক নয়।
- আল্লাহর নির্দেশের সামনে পুরোনো অভ্যাস সংশোধন করতে হয়।
