২৫/৫৪. অধ্যায়ঃ
আরাফাতে অবতরণের স্থান
আরাফাতে নামিরা উপত্যকা ও সূর্য ঢলার পর রওয়ানার শিক্ষা
সুনানে ইবনে মাজাহ : ৩০০৯
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ৩০০৯
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، وَعَمْرُو بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، قَالاَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، أَنْبَأَنَا نَافِعُ بْنُ عُمَرَ الْجُمَحِيُّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ حَسَّانَ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ كَانَ يَنْزِلُ بِعَرَفَةَ فِي وَادِي نَمِرَةَ . قَالَ فَلَمَّا قَتَلَ الْحَجَّاجُ ابْنَ الزُّبَيْرِ أَرْسَلَ إِلَى ابْنِ عُمَرَ أَىَّ سَاعَةٍ كَانَ النَّبِيُّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَرُوحُ فِي هَذَا الْيَوْمِ قَالَ إِذَا كَانَ ذَلِكَ رُحْنَا . فَأَرْسَلَ الْحَجَّاجُ رَجُلاً يَنْظُرُ إِلَى سَاعَةِ يَرْتَحِلُ . فَلَمَّا أَرَادَ ابْنُ عُمَرَ أَنْ يَرْتَحِلَ قَالَ أَزَاغَتِ الشَّمْسُ قَالُوا لَمْ تَزِغْ بَعْدُ . فَجَلَسَ ثُمَّ قَالَ أَزَاغَتِ الشَّمْسُ قَالُوا لَمْ تَزِغْ بَعْدُ . فَجَلَسَ ثُمَّ قَالَ أَزَاغَتِ الشَّمْسُ قَالُوا لَمْ تَزِغْ بَعْدُ . فَجَلَسَ ثُمَّ قَالَ أَزَاغَتِ الشَّمْسُ قَالُوا نَعَمْ . فَلَمَّا قَالُوا قَدْ زَاغَتِ ارْتَحَلَ . قَالَ وَكِيعٌ يَعْنِي رَاحَ .
ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আরাফাতের ময়দানে নামিরা উপত্যকায় অবতরণ করেছিলেন। রাবী বলেন, হাজ্জাজ বিন ইউসুফ, যুবাইর (রাঃ)-কে হত্যা করার পর ইবনে উমর (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করে পাঠায় যে, আজকের এ দিনের কোন সময় নবী (ﷺ) (খুতবা দিতে মাঠের কেন্দ্রস্থলে) রওয়ানা হতেন? তিনি বলেন, সেই সময় উপস্থিত হলে স্বয়ং আমরাই রওয়ানা হবো।অতএব তিনি কখন রওয়ানা হন তা লক্ষ্য করার জন্য হাজ্জাজ একজন লোক পাঠায়। ইবনে উমর (রাঃ) যখন রওয়ানা হওয়ার ইচ্ছা করলেন, তখন জিজ্ঞেস করলেন, সূর্য কি ঢলে পড়েছে? লোকেরা বললো এখনও ঢলেনি। তিনি বসে রইলেন। কিছুক্ষণ পর তিনি জিজ্ঞেস করলেন, সূর্য কি ঢলে পড়েছে? তারা বললো, এখনও ঢলেনি। কিছুক্ষণ পর তিনি পুনরায় জিজ্ঞেস করলেন, সূর্য কি ঢলে পড়েছে? তারা বললো, হ্যাঁ। তারা যখন বললো, সূর্য ঢলেছে তখন তিনি রওয়ানা হলেন।
তাহকীক আলবানী: হাসান।[৩০০৯] আবূ দাউদ ১৯১৪, সহীহ আবু দাউদ ১৬৭২। তাহকীক আলবানীঃ হাসান। উক্ত হাদিসের রাবী সাঈদ বিন হাসসান সম্পর্কে আহমাদ বিন শু'আয়ব আন-নাসায়ী ও আহমাদ বিন সালিহ আল-জায়লী বলেন, তিনি সিকাহ। ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় সন্দেহ করেন। মুহাম্মাদ বিন সা'দ বলেন, তিনি সিকাহ। তাহরীরু তাকরীবুত তাহযীব এর লেখক বলেন, তার মাঝে জারাহ আছে কিনা তা আমার জানা নেই। ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, তিনি সিকাহ। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ২২৫০, ১০/৩৮৪ নং পৃষ্ঠা)
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ৩০০৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে বলা হয়েছে, রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) আরাফাতের ময়দানে নামিরা উপত্যকায় অবতরণ করতেন। পরে হাজ্জাজের পক্ষ থেকে ইবনে উমর (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করা হয়, এই দিনে নবী (صلى الله عليه وسلم) কখন রওয়ানা হতেন। ইবনে উমর (রাঃ) নিজে সময় দেখে আমল করেন। তিনি কয়েকবার জিজ্ঞেস করেন, সূর্য ঢলেছে কি না। যখন বলা হলো সূর্য ঢলেছে, তখন তিনি রওয়ানা হন। হাদিসটি আরাফাতের দিনের সময়ের গুরুত্ব শেখায়। এখানে মূল বিষয় হলো নামিরা উপত্যকা, আরাফাত, সূর্য ঢলা এবং নবীজির আমল অনুসরণ। ইবনে উমর (রাঃ)-এর আচরণে দেখা যায়, তিনি অনুমান নয়, সঠিক সময় নিশ্চিত করে আমল করেছেন।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) আরাফাতে নামিরা উপত্যকায় অবতরণ করতেন।
- ইবনে উমর (রাঃ) সূর্য ঢলার সময় নিশ্চিত করে রওয়ানা হন।
- হজ্জের আমলে সময় ঠিক রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
- সাহাবীগণ নবীজির আমল অনুসরণে খুব যত্নবান ছিলেন।
