২৫/২২. অধ্যায়ঃ
ইহরামধারী ব্যক্তি মাথা ধৌত করতে পারে
ইহরাম অবস্থায় মাথা ধোয়া: আবু আইয়ুব (রাঃ)-এর বর্ণনা
সুনানে ইবনে মাজাহ : ২৯৩৪
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ২৯৩৪
حَدَّثَنَا أَبُو مُصْعَبٍ، حَدَّثَنَا مَالِكٌ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ حُنَيْنٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَبَّاسٍ، وَالْمِسْوَرَ بْنَ مَخْرَمَةَ، اخْتَلَفَا بِالأَبْوَاءِ فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبَّاسٍ يَغْسِلُ الْمُحْرِمُ رَأْسَهُ . وَقَالَ الْمِسْوَرُ بْنُ مَخْرَمَةَ لاَ يَغْسِلُ الْمُحْرِمُ رَأْسَهُ . فَأَرْسَلَنِي ابْنُ عَبَّاسٍ إِلَى أَبِي أَيُّوبَ الأَنْصَارِيِّ أَسْأَلُهُ عَنْ ذَلِكَ، فَوَجَدْتُهُ يَغْتَسِلُ بَيْنَ الْقَرْنَيْنِ وَهُوَ يَسْتَتِرُ بِثَوْبٍ فَسَلَّمْتُ عَلَيْهِ فَقَالَ مَنْ هَذَا قُلْتُ أَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ حُنَيْنٍ أَرْسَلَنِي إِلَيْكَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبَّاسٍ أَسْأَلُكَ كَيْفَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَغْسِلُ رَأْسَهُ وَهُوَ مُحْرِمٌ قَالَ فَوَضَعَ أَبُو أَيُّوبَ يَدَهُ عَلَى الثَّوْبِ فَطَأْطَأَهُ حَتَّى بَدَا لِي رَأْسُهُ ثُمَّ قَالَ لإِنْسَانٍ يَصُبُّ عَلَيْهِ اصْبُبْ . فَصَبَّ عَلَى رَأْسِهِ ثُمَّ حَرَّكَ رَأْسَهُ بِيَدَيْهِ فَأَقْبَلَ بِهِمَا وَأَدْبَرَ . ثُمَّ قَالَ هَكَذَا رَأَيْتُهُ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَفْعَلُ .
আবু আয়্যুব (খালিদ বিন যায়দ) আল-আনসারী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) এবং আল-মিসওয়ার ইবনে মাখরামা (রাঃ) আল-আবওয়া নামক স্থানে একটি বিষয়ে মতবিরোধে লিপ্ত হলেন। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন, ইহরামধারী ব্যক্তি নিজ মাথা ধৌত করতে পারবে। আর আল-মিসওয়ার (রাঃ) বলেন, সে নিজ মাথা ধৌত করতে পারবে না।অতএব ইবনে আব্বাস (রাঃ) আমাকে আবু আইয়ুব আনসারি (রাঃ)-র নিকট এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করার জন্য পাঠান। আমি গন্তব্যে পৌঁছে দেখি যে, তিনি দুটি খুঁটির মাঝখানে কাপড় দ্বারা পর্দা টেনে গোসল করছেন। আমি তাঁকে সালাম দিলাম। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, কে? আমি বললাম, আমি আবদুল্লাহ ইবনে হুনাইন। ইবনে আব্বাস (রাঃ) আমাকে আপনার কাছে জিজ্ঞেস করতে পাঠিয়েছেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইহরাম অবস্থায় কিভাবে মাথা ধৌত করতেন?রাবি বলেন, আবু আইয়ুব (রাঃ) তার হস্তদ্বয় পর্দার কাপড়ের উপর রেখে তা মাথা পর্যন্ত উত্তোলন করলেন এবং আমি তার মাথা দেখতে পেলাম। অতঃপর তিনি এক ব্যক্তিকে বললেন, পানি ঢালো। লোকটি তার গোসলে সাহায্য করছিল। সে তার মাথায় পানি ঢেলে দিলো। তিনি স্বহস্তে তার গোটা মাথা মর্দন করলেন এবং বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে এভাবে মাথা ধৌত করতে দেখেছি।
তাহকীক আলবানীঃ সহীহ[২৯৩৪] সহীহুল বুখারী ১৮৪০, মুসলিম ১২০৫, নাসায়ী ২৬৬৫, আবূ দাউদ ১৮৪০, আহমাদ ২৩০১৮, ২৩০৩২, ২৩০৬৬, মুয়াত্তা মালেক ৭১২, দারেমী ১৮৯৩, ইরওয়া ১০১৯, সহীহ আবু দাউদ ১৬১৩। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ২৯৩৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ইহরাম অবস্থায় মাথা ধোয়া নিয়ে সাহাবীদের মাঝে মতভেদ দেখা যায়। ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন, মুহরিম মাথা ধুতে পারবে; আল-মিসওয়ার (রাঃ) বলেন, পারবে না। এরপর আবু আইয়ুব আনসারী (রাঃ)-এর কাছে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বাস্তবে দেখিয়ে দেন। তিনি মাথায় পানি ঢালেন, হাতে পুরো মাথা মর্দন করেন এবং বলেন, তিনি রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-কে এভাবে করতে দেখেছেন। এই হাদিসের শিক্ষা হলো, মতভেদ হলে নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর আমলই মাপকাঠি। একই সঙ্গে ইহরাম অবস্থায় মাথা ধোয়ার পদ্ধতিও এখানে দেখা যায়। ব্যাখ্যায় বাড়তি কথা না বাড়িয়ে, বর্ণিত কাজটুকু বুঝাই নিরাপদ। এ কারণে ইহরাম অবস্থায় গোসল বা মাথা ধোয়ার প্রশ্নে অনুমান নয়, বর্ণিত নববী আমল দেখা দরকার।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সাহাবীরা মতভেদ হলে জানাশোনা সাহাবীর কাছে জিজ্ঞেস করতেন।
- আবু আইয়ুব (রাঃ) নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর কাজ দেখিয়ে উত্তর দেন।
- ইহরাম অবস্থায় মাথা ধোয়ার বর্ণনা এসেছে।
- নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর আমল জানা হলে মতভেদ কমে যায়।
