২৫/২. অধ্যায়ঃ
হজ্জ ফারদ হওয়ার বিবরণ
হজ্জ কি প্রতি বছর ফরজ? প্রশ্নের আদব ও সহজতার শিক্ষা
সুনানে ইবনে মাজাহ : ২৮৮৪
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ২৮৮৪
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، وَعَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا مَنْصُورُ بْنُ وَرْدَانَ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي الْبَخْتَرِيِّ، عَنْ عَلِيٍّ، قَالَ لَمَّا نَزَلَتْ {وَلِلَّهِ عَلَى النَّاسِ حِجُّ الْبَيْتِ مَنِ اسْتَطَاعَ إِلَيْهِ سَبِيلاً}. قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ الْحَجُّ فِي كُلِّ عَامٍ فَسَكَتَ ثُمَّ قَالُوا أَفِي كُلِّ عَامٍ فَقَالَ " لاَ وَلَوْ قُلْتُ نَعَمْ لَوَجَبَتْ " . فَنَزَلَتْ {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لاَ تَسْأَلُوا عَنْ أَشْيَاءَ إِنْ تُبْدَ لَكُمْ تَسُؤْكُمْ }.
আলী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
যখন এ আয়াত নাজিল হলো (অনুবাদ) : “মানুষের মধ্যে যার সেখানে যাওয়ার সামর্থ্য আছে, আল্লাহর উদ্দেশ্যে ঐ ঘরের হজ্জ করা তার অবশ্য কর্তব্য” (সূরা আল ইমরান : ৯৭), তখন সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করেন, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! প্রতি বছরই কি হজ্জ ফরজ? তিনি নিরুত্তর থাকলেন। পুনরায় তারা বলেন, প্রতি বছরই কি? তিনি বলেন, না। কিন্তু আমি যদি বলতাম, হ্যাঁ, তবে তদ্রূপই ওয়াজিব হতো। অতঃপর নিম্নোক্ত আয়াত নাজিল হয় (অনুবাদ) : “হে ঈমানদারগণ! তোমরা এমন বিষয়ে প্রশ্ন করো না যা প্রকাশিত হলে তোমরা দুঃখিত হবে” (সূরা মায়িদা: ১০১)।
তাহকীক আলবানীঃ দঈফ।[২৮৮৪] তিরমিযী ৮১৪, ইরওয়া ৪/১৫০। তাহকীক আলবানীঃ যইফ। উক্ত হাদিসের রাবী আলী বিন আবদুল আ'লা সম্পর্কে আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি নির্ভরযোগ্য নয়। ইমাম তিরমিযি বলেন, তিনি সিকাহ। ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় সন্দেহ করেন। ইমাম দারাকুতনী বলেন, তিনি নির্ভরযোগ্য নয়। ইমাম যাহাবী বলেন, তিনি সত্যবাদী। ইমাম বুখারী তাকে সিকাহ বলেছেন। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৪০৯৯, ২০/৪৯৬ নং পৃষ্ঠা) ২. আবদুল আ'লা সম্পর্কে আবু বাকর আল-বায়হাকী বলেন, তিনি দুর্বল। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি নির্ভরযোগ্য নয়। আবু হাতিম বিন হিব্বান বলেন, যারা হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন তিনি তাদের অন্তর্ভুক্ত। আবু যুরআহ আর-রাযী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। আহমাদ বিন শু'আয়ব আন-নাসায়ী বলেন, তিনি নির্ভরযোগ্য নয়, তার থেকে হাদিস গ্রহন করা যাবে না। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। ইবনু হাজার আল-আসকালানী ও যাকারিয়্যা বিন ইয়াহইয়া আস-সাজী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় সন্দেহ করেন। আবদুর রহমান বিন মাহদী তাকে বর্জন করেছেন। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৩৬৮৪, ১৯/১৫৭ নং পৃষ্ঠা)
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ২৮৮৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো হজ্জ ফরজ হওয়ার সীমা এবং প্রশ্ন করার আদব। যখন আয়াত নাজিল হলো যে সামর্থ্যবান মানুষের ওপর আল্লাহর ঘরের হজ্জ করা কর্তব্য, তখন সাহাবীরা জানতে চাইলেন, প্রতি বছরই কি হজ্জ ফরজ? রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) প্রথমে নীরব থাকলেন। আবার প্রশ্ন করা হলে তিনি বললেন, না; যদি তিনি হ্যাঁ বলতেন, তবে তা প্রতি বছর ফরজ হয়ে যেত। এরপর এমন বিষয়ের প্রশ্ন না করতে আয়াত নাজিল হওয়ার কথা উল্লেখ আছে, যা প্রকাশ পেলে কষ্টের কারণ হতে পারে। এই হাদিস হজ্জের বিধান, শরীয়তের সহজতা এবং অপ্রয়োজনীয় জটিল প্রশ্ন এড়ানোর শিক্ষা দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- হজ্জ সামর্থ্যবান ব্যক্তির ওপর ফরজ, কিন্তু প্রতি বছর ফরজ নয়।
- অপ্রয়োজনীয় প্রশ্ন কখনো দায়িত্বকে কঠিন করে দিতে পারে।
- নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর নীরবতা ও উত্তর—দুটিই শিক্ষার অংশ।
- দ্বীনের বিষয়ে প্রশ্ন করা উচিত আদব ও প্রয়োজন বুঝে।
