২৪/৪১. অধ্যায়ঃ
বায়আত (আনুগত্যের শপথ) গ্রহণ
বায়আতের অঙ্গীকার: তাওহীদ, নামাজ, আনুগত্য ও আত্মসম্মান
সুনানে ইবনে মাজাহ : ২৮৬৭
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ২৮৬৭
حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ التَّنُوخِيُّ، عَنْ رَبِيعَةَ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ أَبِي إِدْرِيسَ الْخَوْلاَنِيِّ، عَنْ أَبِي مُسْلِمٍ، قَالَ حَدَّثَنِي الْحَبِيبُ الأَمِينُ، - أَمَّا هُوَ إِلَىَّ فَحَبِيبٌ وَأَمَّا هُوَ عِنْدِي فَأَمِينٌ - عَوْفُ بْنُ مَالِكٍ الأَشْجَعِيُّ قَالَ كُنَّا عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم سَبْعَةً أَوْ ثَمَانِيَةً أَوْ تِسْعَةً فَقَالَ " أَلاَ تُبَايِعُونَ رَسُولَ اللَّهِ " . فَبَسَطْنَا أَيْدِيَنَا فَقَالَ قَائِلٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّا قَدْ بَايَعْنَاكَ فَعَلاَمَ نُبَايِعُكَ فَقَالَ " أَنْ تَعْبُدُوا اللَّهَ وَلاَ تُشْرِكُوا بِهِ شَيْئًا وَتُقِيمُوا الصَّلَوَاتِ الْخَمْسَ وَتَسْمَعُوا وَتُطِيعُوا - وَأَسَرَّ كَلِمَةً خُفْيَةً - وَلاَ تَسْأَلُوا النَّاسَ شَيْئًا " . قَالَ فَلَقَدْ رَأَيْتُ بَعْضَ أُولَئِكَ النَّفَرِ يَسْقُطُ سَوْطُهُ فَلاَ يَسْأَلُ أَحَدًا يُنَاوِلُهُ إِيَّاهُ .
আওফ বিন মালিক আল-আশজাঈ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমরা সাত, আট অথবা নয় ব্যক্তি মহানবী (ﷺ)-এর নিকট উপস্থিত ছিলাম। তখন তিনি বলেনঃ তোমরা কি আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর নিকট বায়আত হবে না? তৎক্ষণাৎ আমরা আমাদের হাত প্রসারিত করে দিলাম। এক ব্যক্তি বললো, ইয়া রাসূলাল্লাহ (ﷺ)! আমরা তো আপনার নিকট (ইতোপূর্বে) বায়আত হয়েছি, এখন (আবার) কিসের জন্য আপনার নিকট বায়আত হবো? তিনি বলেনঃ (তোমরা এ বিষয়ে বায়আত হবে যে) তোমরা আল্লাহর ইবাদত করবে, তাঁর সাথে কোন কিছু শরীক করবে না, পাঁচ ওয়াক্তের নামাজ কায়েম করবে, (নেতৃ-আদেশ) শ্রবণ করবে ও আনুগত্য করবে। (একটি কথা তিনি গোপনে বললেন) : মানুষের কাছে কিছু প্রার্থনা করবে না। রাবী বলেন, অতঃপর আমি তাদের যে কোন ব্যক্তিকে দেখেছি যে, তার চাবুক নিচে পড়ে গেলেও তিনি কাউকে তা তুলে দিতে বলতেন না।
তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।[২৮৬৭] মুসলিম ১০৪৩, নাসায়ী ৪৬০, আবূ দাউদ ১৬৪২, আহমাদ ২৩৪৭৩, সহীহ আবু দাউদ ১৪৪৯। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ২৮৬৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে কয়েকজন সাহাবি নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে ছিলেন। তিনি তাদের বায়আতের আহ্বান করেন। বায়আতের বিষয় ছিল—আল্লাহর ইবাদত করা, তাঁর সাথে কোনো কিছু শরীক না করা, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ কায়েম করা, নেতৃ-আদেশ শোনা ও আনুগত্য করা। এরপর তিনি গোপনে আরেকটি কথা বলেন—মানুষের কাছে কিছু প্রার্থনা করবে না। রাবী বলেন, পরে তাদের মধ্যে এমন মানুষ দেখেছেন, যার চাবুক পড়ে গেলেও কাউকে তা তুলে দিতে বলতেন না। এই হাদিসে তাওহীদ, নামাজ, আনুগত্য এবং আত্মনির্ভরতার শিক্ষা একসাথে এসেছে। মানুষের কাছে না চাওয়ার বিষয়টি তাদের জীবনে খুব গভীরভাবে কাজ করেছিল। তাই এটি শুধু কথার বায়আত নয়, আচরণের পরিবর্তনের শিক্ষাও।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আল্লাহর ইবাদত ও শিরক থেকে দূরে থাকা বায়আতের মূল শিক্ষা।
- পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ কায়েম করা মুসলিম জীবনের বড় দায়িত্ব।
- মানুষের কাছে অকারণে চাওয়া থেকে বেঁচে থাকা আত্মসম্মানের শিক্ষা দেয়।
