২৪/৪০. অধ্যায়ঃ

আল্লাহর নাফরমানীমূ্লক কাজে আনুগত্য নাই

পাপে আনুগত্য নেই: নেতার নির্দেশ মানার ইসলামী সীমা

সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ২৮৬৩

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو، عَنْ عُمَرَ بْنِ الْحَكَمِ بْنِ ثَوْبَانَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَعَثَ عَلْقَمَةَ بْنَ مُجَزِّزٍ عَلَى بَعْثٍ وَأَنَا فِيهِمْ فَلَمَّا انْتَهَى إِلَى رَأْسِ غَزَاتِهِ أَوْ كَانَ بِبَعْضِ الطَّرِيقِ اسْتَأْذَنَتْهُ طَائِفَةٌ مِنَ الْجَيْشِ فَأَذِنَ لَهُمْ وَأَمَّرَ عَلَيْهِمْ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ حُذَافَةَ بْنِ قَيْسٍ السَّهْمِيَّ فَكُنْتُ فِيمَنْ غَزَا مَعَهُ فَلَمَّا كَانَ بِبَعْضِ الطَّرِيقِ أَوْقَدَ الْقَوْمُ نَارًا لِيَصْطَلُوا أَوْ لِيَصْنَعُوا عَلَيْهَا صَنِيعًا فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ - وَكَانَتْ فِيهِ دُعَابَةٌ - أَلَيْسَ لِي عَلَيْكُمُ السَّمْعُ وَالطَّاعَةُ قَالُوا بَلَى ‏.‏ قَالَ فَمَا أَنَا بِآمِرِكُمْ بِشَىْءٍ إِلاَّ صَنَعْتُمُوهُ قَالُوا نَعَمْ ‏.‏ قَالَ فَإِنِّي أَعْزِمُ عَلَيْكُمْ إِلاَّ تَوَاثَبْتُمْ فِي هَذِهِ النَّارِ ‏.‏ فَقَامَ نَاسٌ فَتَحَجَّزُوا فَلَمَّا ظَنَّ أَنَّهُمْ وَاثِبُونَ قَالَ أَمْسِكُوا عَلَى أَنْفُسِكُمْ فَإِنَّمَا كُنْتُ أَمْزَحُ مَعَكُمْ ‏.‏ فَلَمَّا قَدِمْنَا ذَكَرُوا ذَلِكَ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ مَنْ أَمَرَكُمْ مِنْهُمْ بِمَعْصِيَةِ اللَّهِ فَلاَ تُطِيعُوهُ ‏"‏ ‏.‏

আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আলকামা বিন মুজज्जিজ (রাঃ)-কে একটি সামরিক বাহিনীর অধিনায়ক নিয়োগ করেন। আমিও তাতে শরীক ছিলাম। তিনি যখন গন্তব্যে পৌঁছলেন অথবা পথিমধ্যে ছিলেন, তখন একদল সৈন্য তাঁর নিকট (কোনো বিষয়ে) অনুমতি চাইলে তিনি তাদের অনুমতি দিলেন এবং আবদুল্লাহ বিন হুযাফা বিন কায়স আস-সহমি (রাঃ)-কে তাদের অধিনায়ক নিযুক্ত করেন। যেসব লোক আবদুল্লাহ (রাঃ)-এর সঙ্গী হয়ে জিহাদ করেছে, আমিও তাদের সাথে ছিলাম।লোকেরা পথিমধ্যে ছিল। এ অবস্থায় একদল লোক উত্তাপ গ্রহণের জন্য অথবা অন্য কোনো কাজে আগুন প্রজ্জ্বলিত করলো। আবদুল্লাহ (রাঃ) তাদের বলেন (তিনি কিছুটা রসিক প্রকৃতির ছিলেন), “আমার নির্দেশ শোনা ও আনুগত্য করা কি তোমাদের জন্য বাধ্যতামূলক নয়?” তারা বললো, “হ্যাঁ।” তিনি বলেন, “আমি তোমাদেরকে যা করার নির্দেশই দিব, তোমরা কি তাই করবে?” তারা বললো, “হ্যাঁ।” তিনি বলেন, “আমি তোমাদেরকে চূড়ান্ত নির্দেশ দিচ্ছি যে, তোমরা এই আগুনে ঝাঁপিয়ে পড়ো।”কতক লোক (আগুনে ঝাঁপ দেওয়ার জন্য) দাঁড়িয়ে গেল এবং কোমর বাঁধলো। তিনি যখন দেখলেন, লোকেরা সত্যিই আগুনে ঝাঁপ দিতে প্রস্তুত হয়েছে, তখন বললেন, “থামো। আমি তোমাদের সাথে ঠাট্টা করেছি।”(রাবী বলেন) আমরা ফিরে এলে লোকেরা মহানবী (ﷺ) এর নিকট এ ঘটনা উল্লেখ করলো। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ “কেউ তোমাদেরকে আল্লাহর নাফরমানী করার নির্দেশ দিলে তোমরা তার আনুগত্য করবে না।”

তাহকীক আলবানীঃ হাসান।[২৮৬৩] আহমাদ ১১২৪৫, সহীহাহ ২৩২৪। তাহকীক আলবানীঃ হাসান। উক্ত হাদিসের রাবী মুহাম্মাদ বিন আমর সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন সাঈদ আল-কাত্তান বলেন, তিনি সালিহ। ইবনু হিব্বান বলেন, তিনি কখনো হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন। ইবনু আদী বলেন, তার হাদিস বর্ণনায় সমস্যা নেই। ইমাম নাসাঈ তাকে সিকাহ বলেছেন। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৫৫১৩, ২৬/২১২ নং পৃষ্ঠা)

সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ২৮৬৩-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে একটি সামরিক সফরের ঘটনা এসেছে। আবদুল্লাহ বিন হুযাফা (রাঃ) মজা করে সাথীদের আগুনে ঝাঁপ দিতে বলেন। কিছু লোক সত্যিই তা করতে প্রস্তুত হলে তিনি জানান, তিনি ঠাট্টা করেছিলেন। পরে বিষয়টি রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে বলা হলে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কেউ আল্লাহর নাফরমানী করার নির্দেশ দিলে তার আনুগত্য করবে না। এই হাদিস নেতার আনুগত্যের সীমা খুব পরিষ্কার করে। বৈধ কাজে নির্দেশ মানা দরকার, কিন্তু পাপ, ক্ষতি বা আল্লাহর অবাধ্যতার নির্দেশ মানা যাবে না। তাই আমীরের আনুগত্য মানে অন্ধ আনুগত্য নয়। মুসলিমকে নেতা মানতে হবে, আবার আল্লাহর বিধানের সীমাও মানতে হবে।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • আল্লাহর নাফরমানীর নির্দেশ মানা যাবে না।
  • নেতার আনুগত্য বৈধ কাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ।
  • মজা বা আবেগের নির্দেশ হলেও তা পাপ হলে অনুসরণ করা ঠিক নয়।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন