২৪/১৬. অধ্যায়ঃ
আল্লাহর পথে শহীদ হওয়ার ফযিলাত
শহীদের সম্মান: জান্নাতি আপ্যায়নের আশাব্যঞ্জক বর্ণনা
সুনানে ইবনে মাজাহ : ২৭৯৮
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ২৭৯৮
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ، عَنِ ابْنِ عَوْنٍ، عَنْ هِلاَلِ بْنِ أَبِي زَيْنَبَ، عَنْ شَهْرِ بْنِ حَوْشَبٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ذُكِرَ الشُّهَدَاءُ عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " لاَ تَجِفُّ الأَرْضُ مِنْ دَمِ الشَّهِيدِ حَتَّى تَبْتَدِرَهُ زَوْجَتَاهُ كَأَنَّهُمَا ظِئْرَانِ أَضَلَّتَا فَصِيلَيْهِمَا فِي بَرَاحٍ مِنَ الأَرْضِ وَفِي يَدِ كُلِّ وَاحِدَةٍ مِنْهُمَا حُلَّةٌ خَيْرٌ مِنَ الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا " .
আবূ হুরায়রাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) এর নিকট শহীদদের বিষয় উল্লেখ করা হলে তিনি বলেনঃ শহীদের রক্ত মাটিতে শুকিয়ে যাবার আগেই তার দুজন স্ত্রী (জান্নাতের হূর) এসে তাকে এমনভাবে তুলে নেয়, যেন তারা স্তন্যদানকারিণী, যারা তাদের দুগ্ধপোষ্য সন্তানকে জঙ্গলে হারিয়ে ফেলেছে। তাদের দুজনের প্রত্যেকের হাতে থাকবে একটি করে চাদর যা দুনিয়া ও তার মধ্যকার সব কিছুর চেয়ে উত্তম।
তাহকীক আলবানীঃ খুবই দুর্বল।[২৭৯৮] হাদিসটি ইমাম ইবনু মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন। আত-তালীকুর রাগীব ২/১৯৬, যইফ আল-জামি' ৬১৯৭। তাহকীক আলবানীঃ খুবই দুর্বল। উক্ত হাদিসের রাবী হিলাল বিন আবু যায়নাব সম্পর্কে ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি মাজহুল বা অপরিচিত। আবু হাতিম বিন হিব্বান তার সিকাহ গ্রন্থে তার নাম উল্লেখ করেছেন। ইমাম যাহাবী তাকে সিকাহ বললেও যাকারিয়্যা বিন ইয়াহইয়া আস-সাজী বলেন, তিনি দুর্বল। তাহরীরু তাকরীবুত তাহযীব এর লেখক বলেন, তার হাদিস সহীহ নয়। আহমাদ বিন হাম্বল তাকে দুর্বল বলেছেন। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৬৬২০, ৩০/৩৩৬ নং পৃষ্ঠা) ২. শাহর বিন হাওশাব সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন ও ইয়াকুব বিন সুফইয়ান এবং আল-আজালী বলেন, তিনি সিকাহ। শু'বাহ ইবনুল হাজ্জাজ তাকে বর্জন করেছেন। আহমাদ বিন হাম্বল ও আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, কোন সমস্যা নেই। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ২৭৮১, ১২/৫৭৮ নং পৃষ্ঠা)
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ২৭৯৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে শহীদদের কথা উঠলে নবী (صلى الله عليه وسلم) শহীদের সম্মানের এক বর্ণনা দেন। তিনি বলেন, শহীদের রক্ত মাটিতে শুকানোর আগেই তার দুজন স্ত্রী এসে তাকে তুলে নেয়। তাদের প্রত্যেকের হাতে এমন চাদর থাকবে, যা দুনিয়া ও তার মধ্যকার সবকিছুর চেয়ে উত্তম। হাদিসটির ভাষা জান্নাতি সম্মান ও আল্লাহর পথে প্রাণ দেওয়ার মর্যাদা তুলে ধরে। এখানে যে উপমা এসেছে, তা হারানো সন্তানকে খুঁজে পাওয়া স্নেহময়ী ধাত্রীদের মতো আগ্রহ বোঝায়। ব্যাখ্যায় মূল কথাই রাখা উচিত: শহীদের জন্য আল্লাহর কাছে বিশেষ সম্মান ও প্রতিদানের কথা এসেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- শহীদের মর্যাদা হাদিসে বিশেষভাবে বর্ণিত হয়েছে।
- দুনিয়ার চেয়ে উত্তম জান্নাতি পুরস্কারের কথা এসেছে।
- আল্লাহর পথে প্রাণ দেওয়া ছোট বিষয় নয়।
- জান্নাতের সম্মান মুমিনকে আখেরাতমুখী করে।
