২৩/১৪. অধ্যায়ঃ
সন্তানের দাবীদার হওয়া সম্পর্কে
সন্তান দাবি ও মিরাস: মৃত্যুর পর বংশ সম্পৃক্ততার বিধান
সুনানে ইবনে মাজাহ : ২৭৪৬
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ২৭৪৬
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَكَّارِ بْنِ بِلاَلٍ الدِّمَشْقِيُّ، أَنْبَأَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَاشِدٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ مُوسَى، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " كُلُّ مُسْتَلْحَقٍ اسْتُلْحِقَ بَعْدَ أَبِيهِ الَّذِي يُدْعَى لَهُ ادَّعَاهُ وَرَثَتُهُ مِنْ بَعْدِهِ فَقَضَى أَنَّ مَنْ كَانَ مِنْ أَمَةٍ يَمْلِكُهَا يَوْمَ أَصَابَهَا فَقَدْ لَحِقَ بِمَنِ اسْتَلْحَقَهُ وَلَيْسَ لَهُ فِيمَا قُسِمَ قَبْلَهُ مِنَ الْمِيرَاثِ شَىْءٌ وَمَا أَدْرَكَ مِنْ مِيرَاثٍ لَمْ يُقْسَمْ فَلَهُ نَصِيبُهُ وَلاَ يَلْحَقُ إِذَا كَانَ أَبُوهُ الَّذِي يُدْعَى لَهُ أَنْكَرَهُ وَإِنْ كَانَ مِنْ أَمَةٍ لاَ يَمْلِكُهَا أَوْ مِنْ حُرَّةٍ عَاهَرَ بِهَا فَإِنَّهُ لاَ يَلْحَقُ وَلاَ يُورَثُ وَإِنْ كَانَ الَّذِي يُدْعَى لَهُ هُوَ ادَّعَاهُ فَهُوَ وَلَدُ زِنًا لأَهْلِ أُمِّهِ مَنْ كَانُوا حُرَّةً أَوْ أَمَةً " . قَالَ مُحَمَّدُ بْنُ رَاشِدٍ يَعْنِي بِذَلِكَ مَا قُسِمَ فِي الْجَاهِلِيَّةِ قَبْلَ الإِسْلاَمِ .
আবদুল্লাহ বিন আমর ইবনুল আস (রাঃ), হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কোনো ব্যক্তির মৃত্যুর পর কোনো শিশুকে তার সন্তানরূপে তার সাথে সম্পৃক্ত করা হলো এবং মৃতের ওয়ারিসগণ তার সম্পর্কে এই দাবি করলো, “সে আমাদের বংশীয়”, তার ক্ষেত্রে ফয়সালা এই যে, সে যে দাসীর গর্ভজাত, মালিকের মালিকানায় থাকা অবস্থায় যদি তার সাথে সঙ্গম হয়ে থাকে তবে সেই সন্তান যার বলে দাবি করা হচ্ছে তার সাথে সম্পৃক্ত হবে।তবে ইতোপূর্বে (জাহেলি যুগে) যে ওয়ারিসী স্বত্ব বণ্টিত হয়েছে সে তার কিছুই পাবে না। আর যে ওয়ারিসী স্বত্ব এখনো বণ্টিত হয়নি তা থেকে সে তার অংশ পাবে।পক্ষান্তরে তাকে যে পিতার সাথে সম্পৃক্ত করা হচ্ছে, সেই পিতা তাকে অস্বীকার করলে ওয়ারিসগণের দাবির কোনো কার্যকারিতা নেই।আর সেই সন্তান যদি তার মালিকানাধীন কোনো দাসীর গর্ভজাত হয়ে থাকে অথবা কোনো স্বাধীন নারীর সাথে তার যেনার পরিণতিতে হয়ে থাকে, তাহলে উক্ত সন্তান তার সাথে সম্পৃক্ত হবে না এবং সে তার পরিত্যক্ত সম্পত্তিও পাবে না, যদিও সে তাকে তার সন্তান বলে দাবি করে। সে হবে জারজ সন্তান।সে তার মায়ের বংশের সাথে সম্পৃক্ত হবে, সে স্বাধীন নারী হোক বা কৃতদাসী।রাবী মুহাম্মাদ বিন রাশিদ বলেন, এখানে বণ্টনের অর্থ হলোঃ যে ওয়ারিসী স্বত্ব ইসলামের পূর্বে জাহেলি যুগে বণ্টিত হয়েছে।
তাহকীক আলবানীঃ হাসান সহীহ।[২৭৪৬] আবূ দাউদ ২২৬৫, আহমাদ ৬৬৬০, ৭০০৬, দারেমী ৩১১১। তাহকীক আলবানীঃ হাসান সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবী মুহাম্মাদ বিন রাশীদ সম্পর্কে আবু আহমাদ বিন আদী আল-জুরজানী বলেন, তার বর্ণনায় কোন সমস্যা নেই। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি সত্যবাদী তার হাদিস হাসান। আহমাদ বিন শু'আয়ব আন-নাসায়ী বলেন, তিনি সিকাহ। ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় সন্দেহ করেন, তার কাদারিয়া মতাবলম্বী হওয়ার ব্যাপারে অভিযোগ রয়েছে। শু'বাহ ইবনুল হাজ্জাজ বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে শীয়া মতাবলম্বী। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৫২০৮, ২৫/১৮৬ নং পৃষ্ঠা) ২. সুলায়মান বিন মুসা সম্পর্কে আবু দাউদ আস-সাজিসতানী বলেন, তিনি সিকাহ। আবু হাতিম বিন হিব্বান বলেন, তিনি একজন ফকীহ ছিলেন। আতা বিন আবু রাবাহ বলেন, তিনি শামের যুবকদের নেতা ছিলেন। ইমাম বুখারী তাকে মুনকার বলেছেন। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ২৫৭১, ১২/৯২ নং পৃষ্ঠা)
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ২৭৪৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো বংশ সম্পৃক্ততা ও মিরাস। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) এখানে কয়েকটি আলাদা অবস্থা বর্ণনা করেছেন। যদি কোনো শিশুকে মৃত ব্যক্তির সন্তান হিসেবে দাবি করা হয় এবং মৃতের ওয়ারিসরা বলে, সে আমাদের বংশের, তবে দেখতে হবে সে কোন দাসীর গর্ভজাত এবং সেই দাসী মালিকের মালিকানায় ছিল কি না। যদি শর্ত মিলে, সে মৃতের সাথে সম্পৃক্ত হবে এবং অবণ্টিত মিরাসে তার অংশ থাকবে। আগে যা বণ্টিত হয়ে গেছে, তাতে সে অংশ পাবে না। কিন্তু যদি পিতা তাকে অস্বীকার করে থাকে, ওয়ারিসদের দাবি কার্যকর হবে না। আর যদি সন্তান এমন দাসী থেকে হয়, যে তার মালিকানায় ছিল না, বা স্বাধীন নারীর সাথে যিনার ফলে হয়, তবে সে পিতার সাথে সম্পৃক্ত হবে না; সে মায়ের বংশের সাথে যুক্ত হবে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সন্তান দাবি ও বংশ সম্পৃক্ততায় নির্দিষ্ট শর্ত বিবেচিত হয়।
- আগে বণ্টিত মিরাসে নতুন দাবিকারী অংশ পাবে না।
- অবণ্টিত মিরাসে শর্ত পূরণ হলে তার অংশ থাকতে পারে।
- যিনার সন্তান পিতার বদলে মায়ের বংশের সাথে সম্পৃক্ত হবে।
