২৩/২. অধ্যায়ঃ
ওরসজাত সন্তানের ওয়ারিসী স্বত্ব
কন্যা, পৌত্রী ও বোনের উত্তরাধিকার: সঠিক মীরাস বণ্টনের শিক্ষা
সুনানে ইবনে মাজাহ : ২৭২১
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ২৭২১
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَبِي قَيْسٍ الأَوْدِيِّ، عَنِ الْهُزَيْلِ بْنِ شُرَحْبِيلَ، قَالَ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى أَبِي مُوسَى الأَشْعَرِيِّ وَسَلْمَانَ بْنِ رَبِيعَةَ الْبَاهِلِيِّ فَسَأَلَهُمَا عَنِ ابْنَةٍ وَابْنَةِ ابْنٍ وَأُخْتٍ، لأَبٍ وَأُمٍّ فَقَالاَ لِلاِبْنَةِ النِّصْفُ وَمَا بَقِيَ فَلِلأُخْتِ وَائْتِ ابْنَ مَسْعُودٍ فَسَيُتَابِعُنَا . فَأَتَى الرَّجُلُ ابْنَ مَسْعُودٍ فَسَأَلَهُ وَأَخْبَرَهُ بِمَا قَالاَ فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ قَدْ ضَلَلْتُ إِذًا وَمَا أَنَا مِنَ الْمُهْتَدِينَ وَلَكِنِّي سَأَقْضِي بِمَا قَضَى بِهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِلاِبْنَةِ النِّصْفُ وَلاِبْنَةِ الاِبْنِ السُّدُسُ تَكْمِلَةَ الثُّلُثَيْنِ وَمَا بَقِيَ فَلِلأُخْتِ .
আবদুল্লাহ বিন মাসঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
এক ব্যক্তি আবু মূসা আশআরি (রাঃ) ও সালমান বিন রাবিইয়া আল-বাহিলি (রাঃ)-এর কাছে এসে এক কন্যা, এক পৌত্রী ও এক সহোদরা বোনের ওয়ারিসী স্বত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলো। তারা বলেন, কন্যা পাবে অর্ধেক এবং অবশিষ্ট যা থাকবে তা পাবে বোন। তুমি ইবন মাসউদের (রাঃ) নিকট যাও। তিনিও হয়তো আমাদের সাথে একমত হবেন।অতঃপর লোকটি ইবন মাসউদ (রাঃ)–এর নিকট গিয়ে জিজ্ঞাসা করলো এবং তারা যা বলেছিলেন তাও তাকে অবহিত করলো।আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ (রাঃ) বলেন, তাহলে আমি পথভ্রষ্ট হয়ে যাবো এবং হেদায়াতপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত থাকবো না। এ ব্যাপারে আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর অনুরূপ ফয়সালাই দিবো। কন্যা পাবে অর্ধাংশ এবং পৌত্রী পাবে এক-ষষ্ঠাংশ। এভাবে উভয়ের অংশ মিলে দুই-তৃতীয়াংশ পূর্ণ হবে। অবশিষ্ট যা থাকবে তা পাবে বোন।
তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।[২৭২১] সহীহুল বুখারী ৬৭৩৬, তিরমিযী ২০৯৩, আবূ দাউদ ২৮৯০, আহমাদ ৩৬৮৩, ৪১৮৪, দারেমী ২৮৮৯, ইরওয়া ১৬৮৩, রাওদুন নাদীর ৬৩৪, সহীহ আবু দাউদ ২৫৭২। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবী আবু কায়স আল-আওদী সম্পর্কে আবু বাকর আল-বাযযার বলেন, তিনি নির্ভরযোগ্য নয়। আবু আবদুল্লাহ আল-হাকিম বলেন, তার হাদিস দ্বারা দলীল গ্রহণযোগ্য নয়। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় সিকাহ রাবীর বিপরীত হাদিস বর্ণনা করেন। ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় কখনো কখনো সিকাহ রাবীর বিপরীত হাদিস বর্ণনা করেন। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৩৭৭৮, ১৭/২০ নং পৃষ্ঠা)
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ২৭২১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে এক ব্যক্তি কন্যা, পুত্রের কন্যা এবং সহোদরা বোনের ওয়ারিসী স্বত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেন। প্রথমে আবু মূসা আশআরি (রাঃ) ও সালমান বিন রাবিইয়া (রাঃ) বলেন, কন্যা অর্ধেক পাবে এবং বাকি অংশ বোন পাবে। তাঁরা লোকটিকে ইবন মাসউদ (রাঃ)-এর কাছে যেতে বলেন। ইবন মাসউদ (রাঃ) বিষয়টি শুনে বলেন, যদি তিনি এভাবে ফয়সালা দেন, তবে তিনি পথভ্রষ্ট হবেন। এরপর তিনি রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর ফয়সালা অনুযায়ী বলেন: কন্যা পাবে অর্ধেক, পৌত্রী পাবে এক-ষষ্ঠাংশ, যাতে দুই-তৃতীয়াংশ পূর্ণ হয়; আর বাকি অংশ পাবে বোন। এই হাদিস দেখায়, মীরাসের অংশ খুব সূক্ষ্ম বিষয়। তাই উত্তরাধিকার বণ্টনে প্রমাণভিত্তিক নববী ফয়সালা অনুসরণ জরুরি।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মীরাসের বিষয়ে অনুমানভিত্তিক সিদ্ধান্ত না নিয়ে সঠিক দলিল দেখা দরকার।
- কন্যা ও পৌত্রীর অংশ আলাদা হতে পারে, যেমন হাদিসে বর্ণিত হয়েছে।
- সহোদরা বোন বাকি অংশ পেতে পারে, যখন হাদিসে এমন ফয়সালা এসেছে।
- জ্ঞানের মানুষও ভুল এড়াতে নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর ফয়সালাকে মানদণ্ড বানাতেন।
