২২/৪. অধ্যায়ঃ
জীবিতকালে কৃপণতা এবং মরণকালে অযাচিত অপব্যয় নিষিদ্ধ
মায়ের হক ও সময়মতো সদকা: জীবনের বাস্তব শিক্ষা
সুনানে ইবনে মাজাহ : ২৭০৬
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ২৭০৬
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا شَرِيكٌ، عَنْ عُمَارَةَ بْنِ الْقَعْقَاعِ، وَابْنِ، شُبْرُمَةَ عَنْ أَبِي زُرْعَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ نَبِّئْنِي بِأَحَقِّ النَّاسِ مِنِّي بِحُسْنِ الصُّحْبَةِ فَقَالَ " نَعَمْ وَأَبِيكَ لَتُنَبَّأَنَّ أُمُّكَ " . قَالَ ثُمَّ مَنْ قَالَ " ثُمَّ أُمُّكَ " . قَالَ ثُمَّ مَنْ قَالَ " ثُمَّ أُمُّكَ " . قَالَ ثُمَّ مَنْ قَالَ " ثُمَّ أَبُوكَ " . قَالَ نَبِّئْنِي يَا رَسُولَ اللَّهِ عَنْ مَالِي كَيْفَ أَتَصَدَّقُ فِيهِ قَالَ " نَعَمْ وَاللَّهِ لَتُنَبَّأَنَّ أَنْ تَصَدَّقَ وَأَنْتَ صَحِيحٌ شَحِيحٌ تَأْمُلُ الْعَيْشَ وَتَخَافُ الْفَقْرَ وَلاَ تُمْهِلْ حَتَّى إِذَا بَلَغَتْ نَفْسُكَ هَاهُنَا قُلْتَ مَالِي لِفُلاَنٍ وَمَالِي لِفُلاَنٍ وَهُوَ لَهُمْ وَإِنْ كَرِهْتَ " .
আবূ হুরায়রাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট এসে বললো, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমাকে অবহিত করুন যে, লোকের মধ্যে কে আমার উত্তম সাহচর্যের অধিক দাবিদার। তিনি বলেনঃ হাঁ, তোমার পিতার শপথ! তোমাকে অবশ্যই অবহিত করা হবে, তোমার মা। সে বললো, তারপর কে? তিনি বলেনঃ তারপর তোমার মা। সে বললো, তারপর কে? তিনি বলেনঃ তারপর তোমার মা। সে বললো, তারপর কে? তিনি বলেনঃ তারপর তোমার পিতা।লোকটি বললো, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমাকে অবহিত করুন যে, আমার মাল থেকে আমি কিভাবে দান-খয়রাত করবো? তিনি বলেন: হাঁ, আল্লাহর শপথ! তোমাকে অবশ্যই বলা হবে। তুমি সুস্থ অবস্থায়, সম্পদের প্রতি তোমার আকর্ষণ থাকতে, উত্তমরূপে জীবন যাপনের আশা রেখে এবং দারিদ্রের আশঙ্কা জাগ্রত রেখে দান-খয়রাত করো, কিন্তু বিলম্ব করো না। শেষে যখন তোমার জান এখানে (কণ্ঠনালীতে) এসে পৌঁছবে তখন তুমি বলবে আমার এই মাল অমুকের জন্য, আমার এই মাল অমুকের জন্য। অথচ তখন তা তাদের (ওয়ারিসদের) জন্য হয়েই গেছে, যদিও তুমি তা অপছন্দ করো।
তাহকীক আলবানী : সহীহ।[২৭০৬] সহীহুল বুখারী ৫৯৭১, মুসলিম ২৫৪৮, আহমাদ ৮১৪৪, ৮৮৩৮, ৮৯৬৫। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ২৭০৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে দুটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা এসেছে। প্রথমে এক ব্যক্তি জানতে চাইলেন, উত্তম সাহচর্যের বেশি হকদার কে। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) তিনবার মায়ের কথা বলেন, তারপর পিতার কথা বলেন। এতে মা-বাবার সঙ্গে ভালো ব্যবহার, বিশেষ করে মায়ের মর্যাদা, স্পষ্ট হয়। এরপর লোকটি সম্পদ থেকে দান করার বিষয়ে জানতে চাইলে নবী (صلى الله عليه وسلم) বলেন, সুস্থ অবস্থায়, সম্পদের প্রতি টান থাকা অবস্থায়, ভালো জীবন আশা করা এবং দরিদ্রতার ভয় থাকা অবস্থায় দান করতে। মৃত্যুর সময় কণ্ঠনালীতে প্রাণ এসে গেলে তখন অমুকের জন্য, তমুকের জন্য বলা যথেষ্ট নয়; তখন সম্পদ ওয়ারিসদের হয়ে গেছে। তাই সময়মতো সদকা, মা-বাবার হক এবং ওসিয়তের বাস্তবতা এই হাদিসে একসঙ্গে এসেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মায়ের উত্তম সাহচর্যের হক খুব গুরুত্বের সঙ্গে এসেছে।
- সদকা করার উত্তম সময় হলো সুস্থ ও সচেতন অবস্থায়।
- মৃত্যুর মুহূর্ত পর্যন্ত দান বিলম্ব করা ঠিক নয়।
